সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

আইসিইউ-অক্সিজেন সংকটে চরম ভোগান্তি

করো’নাভাই’রাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে বাড়ছে গুরুতর রোগীর সংখ্যা। বেড়েছে আইসিইউ ও উচ্চ চাপের অক্সিজেনের চাহিদা। রোগীর জন্য আইসিইউ পেতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতা’লে ছুটছেন রোগীর স্বজনরা। কোথাও খালি নেই আইসিইউ। প্রতি দশ মিনিট পর একটি করে এম্বুলেন্স এসে থামছে হাসপাতা’লের সামনে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতা’লে কিছু আইসিইউ খালি থাকলেও দক্ষ লোকের অভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। আবার কোথাও কিছু আইসিইউ অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। বাইরের জে’লা থেকেও অনেক রোগী আসছেন।

বাসায়-হোটেলে একান্তে সময় কা’টানোর ব্যবস্থা করেন তিনি
৩৬ জে’লায় কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই। গত বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী সব জে’লা হাসপাতা’লে আইসিইউ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ১৮ই জুলাই রাজধানীর সরকারি ৬টি হাসপাতা’লে মাত্র ৫৭টি ও বেসরকারি হাসপাতা’লে ১০০টি আইসিইউ শয্যা ফাঁকা ছিল। ঢাকা মহানগরে সরকারি ও বেসরকারি মিলে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৮৭৮টি। এর মধ্যে ফাঁকা আছে ১৫৭টি। করো’না রোগীর সেবার জন্য সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে আইসিইউ রয়েছে ১ হাজার ২৯১টি। এর মধ্যে খালি আছে ২৫৯টি। ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা জে’লায় আইসিইউ’র সংখ্যা ৯৪১টি। এর মধ্যে ফাঁকা আছে ১৭৭টি। ঢাকা মহানগরে ১৬টি সরকারি হাসপাতা’লের মধ্যে ৩টিতে আইসিইউ সুবিধা নেই। বাকি ১৩টি হাসপাতা’লের মধ্যে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিট, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতা’লে কোনো আইসিইউ ফাঁকা নেই। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতা’লে ১টি, শেখ রাসেল গ্যাসট্রোলিভা’র হাসপাতা’লে ১টি, রাজারবাগ পু’লিশ হাসপাতা’লে ২টি আইসিইউ, শ্যামলী ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতা’লে ১২টি, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতা’লে ৪টি, ডিএনসিসি ডেডিকে’টেড কোভিড হাসপাতা’লে ৩৬টি আইসিইউ ফাঁকা থাকার হিসাব দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের করো’না ইউনিটের সামনে রোগীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। একটির পর একটি এম্বুলেন্স হাসপাতা’লে রোগী নিয়ে প্রবেশ করছে। আবার সমান ভাবে এম্বুলেন্সগুলো রোগী নিয়ে ছুটছে অন্য হাসপাতা’লে। চিকিৎসারত করো’না আ’ক্রান্ত রোগীদের এখানে কোনো আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় অন্য হাসপাতা’লে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক শ্বা’সক’ষ্টের রোগীরা অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়ায় বিভিন্ন জে’লা হাসপাতাল থেকে আইসিইউ শয্যা পেতে ছুটে এসেছেন ঢাকায়। সরজমিন দেখা যায়, গতকাল দুপুরের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের করো’না ইউনিটের সামনে এক ঘণ্টায় ১৩ জন শ্বা’সক’ষ্টের রোগী চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তারা ঢাকা এবং বিভিন্ন জে’লায় চিকিৎসারত ছিলেন। হঠাৎ রোগীদের শ্বা’সক’ষ্ট বেড়ে যাওয়ায় রোগীর স্বজনরা নিয়ে ছুটে এসেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে। অনেকে আবার মেডিকেলে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় অবস্থার অবনতি হওয়ার অন্য হাসপাতা’লে যাচ্ছেন। হাসপাতা’লের আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় চিকিৎসকরা তাদেরকে অন্য হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়ার পরাম’র্শ দেন। জ’রিনা বেগম (৫০) ঢাকা মেডিকেলে ৩ দিন ধরে ভর্তি ছিলেন। তার অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে আইসিইউতে নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে আইসিইউ শয্যা খালি নেই। চিকিৎসকরা তাকে অন্য হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়ার পরাম’র্শ দেন। রোববার দুপুরে ওই রোগীর স্বজনরা এম্বুলেন্সে করে তাকে অন্য একটি হাসপাতা’লে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

হাসপাতা’লের বাইরে কথা হয় অন্য একজন রোগীর স্বজনের সঙ্গে। তিনিও গত পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি ছিলেন। তার অক্সিজেন লেভেল অনেক কমে যাওয়ায় উচ্চ মাত্রার অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। ঢাকা মেডিকেলে এই সুবিধা না পাওয়ায় ওই রোগীকে রাজধানীর গ্রীন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়া হয়। আজিম উদ্দিন (৬৩)কে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয় মেহেরপুর থেকে। এখানে আইসিইউ না পেয়ে ঢাকার অন্য হাসপাতা’লে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। ফেনী থেকে মিজানুর রহমান (৫৫) শ্বা’সক’ষ্ট ও কাশি নিয়ে এসেছেন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য। স্ত্রী’ রাশেদা আক্তার জানান, দুইদিন ধরে তার প্রচণ্ড কাশি দেখা যায়। স্থানীয় সদর হাসপাতা’লে নিলে চিকিৎসক তাকে কিছু মেডিসিন দেন। গত রাত থেকে তার কাশির সঙ্গে শ্বা’সক’ষ্টও বাড়ে। তখনই তাকে আবার হাসপাতা’লে নেয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার তেমন কিছু না বলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যেতে পরাম’র্শ দেন। আরেক রোগী রাশেদা বেগম (৬০)। চাঁদপুর থেকে এসেছেন ঢাকা মেডিকেলে। তার মে’য়ে সাথী আক্তার বলেন, এক সপ্তাহ ধরে তার মা’র শরীরে জ্বর। সঙ্গে সর্দিও। শরীরের জ্বর একটু কমলেও সর্দি কমেনি। চাঁদপুরের একটি হাসপাতা’লে তাকে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। সেখানে করো’না টেস্ট করানো হয়নি। সকাল থেকে তার হালকা শ্বা’সক’ষ্ট দেখা দিলে এই হাসপাতা’লে নিয়ে আসি। এখানে ডাক্তারের অ’পেক্ষায় আছি। হাসপাতাল থেকে করো’না টেস্ট করাতে বলছে। করো’না পজেটিভ হলে এখানেই চিকিৎসা করানো হবে। টাঙ্গাইল থেকে এম্বুলেন্সে করে এসেছেন হালিমা বেগম। মুখে নরমাল অক্সিজেন সা’পোর্ট দেয়া। তিনি টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতা’লে ভর্তি ছিলেন। তার স্বজনরা জানান, গত চারদিন ধরে হালিমা বেগমের জ্বর। হাসপাতাল থেকে করো’না পরীক্ষার কথা বলা হয়। নমুনা নেয়ার পরে তার পজেটিভ আসে। একদিন পরে তার হালকা শ্বা’সক’ষ্ট দেখা দেয়। বিকাল হতে না হতেই অক্সিজেনের লেভেল কমতে থাকে। তখন হাসপাতাল থেকে ঢাকা চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। প্রথমেই তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। এখানে ডাক্তার এখনো দেখানো হয়নি। ডাক্তার দেখানোর পরে বলা যাবে কোথায় চিকিৎসা করানো হবে। তার প্রয়োজন এখন অক্সিজেনের। এখানে অক্সিজেন সা’পোর্ট পাওয়া গেলে তাকে এখানে চিকিৎসা করাবো। অন্য কোথাও নেয়া হবে না। আর যদি আইসিইউ না পাওয়া যায় তাহলে অন্য হাসপাতা’লে নিয়ে যাবো। দুপুরের পর থেকে শ্বা’সক’ষ্ট শুরু হয় আ’মেনা বেগমের। শরীরে কোনো ধরনের করো’নার উপসর্গ নেই। হালকা শ্বা’সক’ষ্ট থাকায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। আ’মেনা বেগমের ছে’লে আবির জানান, তার মায়ের শরীরে কোনো ধরনের করো’নার উপসর্গ নেই। দুপুরের পর থেকে হালকা শ্বা’সক’ষ্ট দেখা যায়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি।

চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতা’লে ৩৩টি এবং বেসরকারি হাসপাতা’লে ৩০টি আইসিইউসহ মোট ৬৩টি শয্যা রয়েছে। এরমধ্যে সরকারি হাসপাতা’লে ফাঁকা আছে ১২টি এবং বেসরকারি ১০টি আইসিইউ খালি আছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ চট্টগ্রাম জে’লায় খালি আছে ২৩টি শয্যা। এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে ২২টির মধ্যে ৮টি ফাঁকা আছে। রাজশাহীতে ৫৮টির মধ্যে ৯টি, রংপুর বিভাগে ৪৪টির মধ্যে ১৮টি, খুলনা বিভাগে ৬৭টির মধ্যে ১৩টি, বরিশালে ৩৩টির মধ্যে ১১টি এবং সিলেট বিভাগে ২২টির মধ্যে শূন্যটি আইসিইউ ফাঁকা রয়েছে। অন্যদিকে সারা দেশে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সুবিধা আছে ১ হাজার ৭২৫টি, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১ হাজার ৮৮৭টি। অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ২৬ হাজার ৪৬৮টি। সারা দেশে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন আছে মোট ১০৭টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫৪টি, চট্টগ্রামে ১৩টি, রাজশাহী ৭টি, রংপুরে ১২টি, খুলনায় ১০টি, বরিশালে ৬টি, সিলেটে ২টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩টি লাইন রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: