সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

২৫ বছর পর মাকে খুঁজে পেল হারিয়ে যাওয়া সন্তান

নরসিংদীর পলা’শ উপজে’লার গজারিয়া ইউপির নোয়াকান্দা গ্রামের হারিছ মিয়ার ছে’লে হারিয়ে যাওয়া আলমগীর দীর্ঘ ২৫ বছর পর মাকে খুঁজে পেয়েছেন। মা পেল হারিয়ে যাওয়া সন্তান।
অভাব অনটনের সংসার। নুন আনতে পানতা ফুরায়।তার মধ্যে পরিবারে সদস্য সংখ্যাও ছিল বেশি। ৬ ছে’লে ও ২ মে’য়ে নিয়ে ছিলো হারিছ মিয়ার অভাবের সংসার। পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় সংসার চালানো তার পক্ষে ছিল খুবই ক’ষ্ট’কর। একারণেই দীর্ঘ ২৫ বছর মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত থাকে হত-দরিদ্র পরিবারের আলমগীর।

নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে ২৫ আগে চট্টগ্রামে একটি বাসায় কাজের জন্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই সে কাজ করতো। তখন তার বয়স হয়েছিল ৮ বছর।এক বৎসর যেতে না যেতেই একদিন কাজের সুবাধে বাসার বাইরে গেলে আর বাসায় ফেরা হয়নি। বন্ধ হয়ে যায় বাড়ি ফেরার পথ। তখন ছোট্ট শি’শু হারিয়ে যাওয়া আলমগীরকে আদর স্নেহ দিয়ে লালন পালন করেন নোয়াখালীর লিটনের মা।

মাইকিং করে অনেক খোঁজাখুঁজি করার পড়েও হা’রানো বাড়িটির কাউকেই পাওয়া যায়নি সেই সময়ে। পড়ে লিটনের মায়ের কাছেই বড় হতে লাগলেন ছোট্ট শি’শু আলমগীর। লিটনকে সে মামা বলে ডাকতেন আর লিটনের মাকে নানি। লিটনের বাড়ি নোয়াখালী জে’লার সোনাইমুড়ী থা’নার নধনা বাজারের দক্ষিণ সাততলা গ্রামে। লিটন চট্টগ্রামের একটি কারখানায় কাজ করতেন। একদিন লিটন কাজ শেষ করে বাড়ি যাওয়ার পথে রাজিবপুর ভোড়বাজার নামক স্থানে রাস্তার ধারে কাঁদতে দেখে এই শি’শুটিকে। জিজ্ঞেস করলে ঠিকানা বলতে পারেনি। পরে লিটন শি’শুটিকে বাড়ি নিয়ে যায়। তারপর কে’টে গেলো দীর্ঘদিন, দীর্ঘ মাস, দীর্ঘ বছর। মায়ের চিরচেনা মুখ, পরিবার, সব সময়ের পরিক্রমায় অচেনা হয়ে যায়। যুবক বয়সে পদার্পণ করলেন আলমগীর, বিয়ে করলেন এবং দু সন্তানের জনকও হলেন।কিন্তু ভাগ্যের নি’র্মম পরিহাস, ছোটবেলায়ই শি’শু সন্তান দুটি। বর্তমানে তার স্ত্রী’কে নিয়ে নোয়াখালীর সেই মামা’র বাড়িতেই থাকেন। তার সংসার চলে রিকশা চালিয়ে।

তবে মনে আছে হা’রানো কিছু স্মৃ’তি। হ্দয়ের গভীরে আকুতি মাকে ফিরে পাবার। তাই মায়ের মুখ দেখার আকুতি নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় আর জে কিবরিয়ার স্টুডিও অব ক্রিয়েটিভ আর্টস এর অনুষ্ঠান ‘আপন ঠিকানায়’।তুলে ধরেন নিজের পরিচয়। আবেদন ছিলো মা বাবার পরিচয় পাওয়ার ও মায়ের মায়াবী মুখ দেখার। গত ১১ জুলাই রোববার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করার পর সেটি ভাই’রাল হয়। ভাই’রাল হওয়া সাক্ষাৎকারটি তার বড়ো ভাই দেখে এবং সে আলমগীরকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তারপর যোগাযোগ করে ফিরে পায় স্নেহের ছোট ভাই আলমগীরকে। মা ফিরে পায় তার আদরের সন্তানকে।

ঈদুল আজহার ঠিক আগ মুহূর্তে মা তার সন্তানকে পেয়ে, মা-ছে’লে দুজনেরই ঝরছিল অজো’রে দীর্ঘদিন জমে থাকা চোখের অশ্রু। মা ফিরে পেলো হা’রানো সন্তান, ছে’লে পেলো মমতাময়ী মা।

আলমগীর তার মা ও পরিবারকে দীর্ঘদিন না পাওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে একটু পর পরই কা’ন্নায় ভেঙে পড়ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: