সর্বশেষ আপডেট : ৪০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ঢাকার হাসপাতালে সাধারণ শয্যাও মিলছে না!

তীব্র শ্বা’সক’ষ্টে ভুগছেন কোভিড আ’ক্রান্ত শাহনাজ বেগম। মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা ৫০-ঊর্ধ্ব এ নারীর অক্সিজেনের মাত্রা নেমে গেছে চল্লিশ শতাংশের নিচে। চিকিৎসকের পরাম’র্শ আইসিইউতে ভর্তি করার। মুন্সিগঞ্জে কয়েকটি হাসপাতা’লে ঘুরেও তাকে ভর্তি করাতে পারেননি স্বজনরা।

অবশেষে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। কিন্তু এখানেও আইসিইউ সংকটের কারণে হাসপাতাল থেকে হাসপাতা’লে ছোটাছুটি। প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে, তারপর সবচেয়ে বেশি আইসিইউ সক্ষমতার কোভিড ডিএনসিসি হাসপাতা’লে। কিন্তু দুই হাসপাতাল গিয়েই হতাশ হতে হয় স্বজনদের।

শাহনাজ বেগমের ছে’লের প্রশ্ন, ‘এভাবে কি আম’রা রোগী নিয়ে ঘুরতেই থাকবো অ্যাম্বুলেন্সে করে! যদি এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতা’লে আমাদের দৌঁড়াতে হয়, তাহলে রোগীকে বাঁ’চাবো কী’ করে! আম’রা এখন কী’ করবো?’

অন্যদিকে, সপ্তাহখানেক ধরেই কোভিডের নানা উপসর্গে ভুগছেন রাজধানীর কাউলার বাসিন্দা ৫০-ঊর্ধ্ব আরেক নারী করুনা বেগম। দুইদিন আগে ভর্তি করা হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতা’লে। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কুর্মিটোলা জেনারেল ছাড়াও আরও কয়েক সরকারি হাসপাতা’লে আইসিইউ’র খোঁজ করেন তার স্বজনরা। কিন্তু কোনো হাসপাতা’লেই আইসিইউ ফাঁকা না পেয়ে শুক্রবার সকালে তাকে নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতা’লে ছোটেন স্বজনরা।

করুনা বেগমের মে’য়ে বলেন, সরকারিতে খোঁজ করছি। আইসিইউ ফাঁকা নেই কোথাও। একটা প্রাইভেটে পাওয়া গেছে। অনেক টাকা খরচ পড়ে যায়। এখন কী’ করার! মাকে তো বাঁ’চাতে হবে। এখন সাম’র্থ্য না থাকলেও টাকা জোগাড় করে মাকে বাঁ’চাতে হবে।

রাজধানীর কোভিড হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ নিয়ে এমন হাহাকার এখন অনেকেরই নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে অনেক রোগীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউ শয্যার আশায় রাজধানীতে আনা হলেও হতাশ হতে হয় স্বজনদের।

দিন দিন এভাবেই করুণ হয়ে উঠছে রাজধানীর কোভিড হাসপাতালগুলোর পরিবেশ। কোভিড আ’ক্রান্ত হয়ে প্রিয়জন হা’রানোর মিছিলে যু’ক্ত হচ্ছে একের পর এক পরিবার।
একদিকে স্বজন হা’রানো শোকার্ত মানুষের কা’ন্না-আর্তনাদ। অন্যদিকে শয্যাসহ নানা সংকটের ধকলে চাপা হাহাকার আর দীর্ঘশ্বা’সের কেন্দ্রবিন্দু এখন রাজধানীর কোভিড হাসপাতালগুলো। কোনো কোনো হাসপাতা’লে সাধারণ বেডেই ভর্তি আছেন ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি রোগী। তাই আইসিইউ দূরে থাক, সাধারণ শয্যার খোঁজেই দিশেহারা হতে হচ্ছে অনেক কোভিড রোগীর স্বজনদের।

গাজীপুর থেকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতা’লে ভর্তির জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল ২৮ বছর বয়সী এক কোভিড রোগীকে। তার মা বলেন, ‘আমা’র ছে’লের জ্বর, শ্বা’সক’ষ্ট। শ্বা’স নিতেই পারছে না। কিন্তু হাসপাতাল থেকে বলতেছে, সিট খালি নাই। তাই ভর্তি করতে পারছি না। এখন আমা’র ছে’লের চিকিৎসা করবো কিভাবে!’
কুর্মিটোলা জেনারেল ও ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতা’লে গিয়েও কোভিড আ’ক্রান্ত এক নারীকে ভর্তি করতে না পেরে স্বজনরা বলছেন, ‘উনারা প্রাইভেট ক্লিনিক দেখাচ্ছে। আম’রা তো প্রাইভেটে যেতে পারবো না বলেই এখানে আসছি।’

দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগী চাপ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও। প্রতিষ্ঠানটির শ’ঙ্কা, সংক্রমণ রাশ টানতে না পারলে হাসপাতাল পরিস্থিতি আরো নাজুক হতে পারে।

অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইস’লাম সময় সংবাদকে বলেন, রোগীর সংখ্যা যদি বাধাহীনভাবে বেড়ে যেতে থাকে, সেটি তো নিশ্চয়ই আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কোনো দেশের পক্ষেই সহ’জ কোনো কাজ নয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: