সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত উপকারভোগীরা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে বাস করে উৎফুল্ল উপকারভোগীরা। তারা এই ঘরগুলোকে ‘স্বপ্নের ঘর’ আখ্যায়িত করছেন। তাদের মতে, ভিটাবাড়ি শূন্য মানুষদের জন্য বিষয়টি স্বপ্নের মতো। তবে কিছু কিছু ঘরে বিদ্যুৎ ও পানি নেই বলে জানিয়েছেন উপকারভোগীরা।

কুলাউড়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ২১০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪২টি ঘর উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে কোথাও ঘরে ফাটল কিংবা মেঝের সিমেন্ট উঠে যাওয়ার মতো ঘটনা পরিলক্ষিত হয়নি। সড়কের পাশ ঘেরা এসব ঘরে বসবাস করে উপকারভোগীরা বেশ উচ্ছ্বসিত।
গত সোমবার দুপুরে কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলী, জয়চন্ডী ইউনিয়নের উত্তর কুলাউড়া (পুশাইনগর), ভাটেরা ইউনিয়নের কড়ইতলা, ইস’লামনগর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘরগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে সবুজ ও লাল রঙের টিন। দুই রুমবিশিষ্ট ঘরে রয়েছে একটি রান্নাঘর, শৌচাগার ও স্টোর রুম। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া স্বপ্নের বাড়িতে ইতিমধ্যে উপকারভোগী যারা উঠেছেন, তারা তাদের সন্তানাদি নিয়ে আনন্দে দিন কা’টাচ্ছেন। কেউ কেউ শোভাবর্ধনের জন্য ঘরের আঙিনায় লাগিয়েছেন ফুল ও ফলের গাছ। ঘর ঘেঁষে তৈরি করছেন আলাদা আরও প্রয়োজনীয় গুদাম ঘর। সবাই খুব উৎফুল্ল ও আনন্দিত।

গত ১০ জুলাই কুলাউড়ার জয়চন্ডী ও কর্মধা ইউনিয়নে প্রকল্পের ঘরের কাজ পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজারের অ’তিরিক্ত জে’লা প্রশাসক (রাজস্ব) মল্লিকা দে। এছাড়া গত ১৯ জুন কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলী এলাকায় প্রকল্পের ঘর পরিদর্শনে এসে ঘরের কাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ আবু জাফর রাজু। এসময় তিনি স্থানীয় উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

কর্মধার টাট্টিউলী এলাকায় নির্মিত ঘরে উপকারভোগী হেলাল মিয়া (৪১), ফখরুল আলম (৩৭), ফয়জুন বেগম (৪৬) ও আজিরুন বেগম (৪৫), তারা প্রত্যেকেই পরিবারের একাধিক সদস্য নিয়ে বসবাস করছেন। তারা জানিয়েছেন, ঘর পেয়ে তারা আনন্দিত। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জয়চন্ডী ইউনিয়নের উত্তর কুলাউড়া এলাকায় তৈরি প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া ঘরে বাস করছেন গৌরি দাস (৪০), সবজান বিবি (৫৫), নির্মল দাস (৬০) ও নিপালী রাণী দাস (৩২)। তারাও ঘর পেয়ে সন্তুষ্ট। এছাড়া ভাটেরার কড়ইতলায় ঘরে বাস করছেন গো’লাপ মিয়া (৭০), জাবেদ মিয়া (৩৮), ফিরুজ মিয়া (৪৫) ও রীনা বেগম (৫০)। তারা নিজেদের বসবাস উপযোগী করে ঘর গুছিয়ে নিচ্ছেন। তাদের চোখে-মুখে তৃপ্তি ফুটে উঠেছে।

উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজে’লা প্রশাসন কর্তৃক তালিকাভুক্ত ৪৪০ ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। কুলাউড়া উপজে’লায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০০টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের খরচ ধ’রা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে ১১০ ভূমিহীন পরিবার পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার। প্রতিটি ঘরের খরচ ধ’রা হয়েছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক’র্তা মো. শিমুল আলী বলেন, প্রথম পর্যায়ের ১১০টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষে ইতমিধ্যে উপকারভোগীদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০০টি ঘরের মধ্যে ৪২টি ঘরের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকি ঘরের কাজ চলমান রয়েছে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউর রহমান ঘরগুলোতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া পানির বিষয়ে উপজে’লা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মুহসিন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

উপজে’লা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে ইতিমধ্যে যেসব ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে, বেশিরভাগ ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ হয়েছে। পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে যেসব ঘরে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা এখনো হয়নি, তা বাস্তবায়ন করার জন্য উভ’য় বিভাগের সাথে সমন্বয় করে তা দ্রুত কার্যকর করার চেষ্টা করছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: