সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

বাংলাদেশে প্রতি বছর কোটিপতি বাড়ছে ৯ হাজার ১৬৩ জন

দেশে পাল্লা দিয়ে প্রতিবছর বাড়ছে নতুন নতুন কোটিপতির সংখ্যা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৯৩ হাজার ৮৯০ জন। সর্বশেষ দুই বছরে দেশে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ১৮ হাজার ৩২৭ জন। এই সময়ে গড়ে কোটিপতি বেড়েছে ৯ হাজার ১৬৩ জন। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের ১২ বছরে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৭৪ হাজার ৭২৭ জনে। সর্বশেষ ১২ বছরে গড়ে দেশে প্রতি বছর কোটিপতি বেড়েছে ৬ হাজার ২২৭ জন।

কোটিপতির এই সংখ্যা কেবল ব্যাংকে টাকা আমানত রেখেছেন এমন ব্যাক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই চিত্র পাওয়া গেছে। ব্যাংকে আমানত রাখেন না, দেশে এমন কোটিপতির সংখ্যা তার চাইতেও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্ভর থেকে ২০২০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আমানতকারীর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় করলে এ চিত্রে উঠে আসে।

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এটি বন্ধ করা গেলে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা আরও বাড়ত। তারপরেও বলব এই অর্থটা পাচার না হয়ে ব্যাংকে জমা হচ্ছে এটা খুবই আশাব্যাঞ্জক খবর।’

তিনি বলেন, ‘দেশে একদিকে দারিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে অন্যদিকে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। দেশে কোটিপতি বাড়ার মাধ্যমে জনগণের মাঝে আয়ের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এটা অশুভ লক্ষণ বলেই বলেই মনে হচ্ছে।’

মির্জা আজিজ আরও বলেন, ‘কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বাড়াটা যেমন ইতিবাচক তেমনি আয়ের বৈষম্য বেড়ে যাওয়াটা একটা নেতিবাচক।’

১২ বছরে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা

২০০৮ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে কোটিপতি আমনতকারীর সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন। পরবর্তী পাচঁ বছরে অর্থ্যাৎ ২০১৩ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজর ৬৪০ জন। ফলে শেখ হাসিনা সরকার ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ বছরে কোটিপতি আমানতকারীর বেড়েছে ৩০ হাজার ৪৭৭ জন। এ সময়ে গড়ে প্রতিবছর কোটিপতি বেড়েছে ৬ হাজার ৯৫ জন।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের পরবর্তী পাঁচবছর অর্থাৎ ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৭৫ হাজার ৫৬৩ জনে। ফলে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ বছরে কোটিপতি আমানকারীর সংখ্যা বেড়েছে ২৫ হাজার ৯২৩ জন। এ সময়ে গড়ে প্রতিবছর কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৫ হাজার ১৮৪ জন।

এদিকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে কোটিপতি আমানতকারী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৮৯০ জন। অর্থাৎ বর্তমানের সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোটিপতি বেড়েছে ১৮ হাজার ৩২৭ জন।

সর্বশেষ দুই বছরে কোটিপতি বেড়েছে ১৮ হাজার ৩২৭ জন। এই সময়ে গড়ে কোটিপতি বেড়েছে ৯ হাজার ১৬৩ জন। ফলে বর্তমান সরকারের ১২ বছরে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৪ হাজার ৭২৭ জনে। গড়ে প্রতি বছর বেড়েছে ৬ হাজার ২২৭.২৫ জন।

২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত কোটিপতির সংখ্যা

২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশে কোটিপতি বেড়েছে ১৪ হাজার ১ জন। এই সময়ে গড়ে প্রতিবছর ২ হাজার করে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৮৮৭ জন। ওই সময়ে দেশে প্রতিবছর গড়ে কোটিপতি বেড়েছে ১ হাজার ৭৭৭ জন। অন্যদিকে ২০০৭-০৮ এই দুই বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ১১৪ জন। এই সময়ে বছরে গড়ে কোটিপতি বৃদ্ধি পেয়েছে ২ হাজার ৫৫৭ জন|

উল্লেখ, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর দেশে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হসিনার নেতৃত্বতাধীন সরকার গঠন করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর যথাক্রমে দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে বর্তমান সরকার টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। সূত্র : সারাবাংলা

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: