সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

বিদেশের মাটিতে ধ’র্ষণের শিকার বাংলাদেশী নারী, ঢাকায় মা’মলা

পূর্ব আফ্রিকার দেশ ম’রিশাসে কাজের জন্য গিয়ে ভা’রতীয় এক টেক্সটাইল কোম্পানির মালিকের ধ’র্ষণের শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশী নারী। এই ঘটনায় শনিবার বিকেলে তিনি রামপুরা থা’নায় মানবপাচার এবং নারী ও শি’শু নি’র্যা’তন দমন আইনের পৃথক ধারায় একটা মা’মলা করেছেন। মা’মলায় ভা’রতীয় নাগরিক অনিল কোহলিসহ আটজনকে আ’সামি করা হয়েছে।

মা’মলার অন্য আ’সামিরা হলেন তাকে পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স গো’লাম রাব্বি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো: আকবর হোসেন, একই প্রতিষ্ঠানের গো’লাম রাব্বি, আকবর হোসেনের ভাই আক্তার হোসেন, মো: শাহ আলম, ফোরকান, সিদ্দিক, আসলামসহ অ’জ্ঞাতনামা আরো চার-পাঁচজন।

এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে সাহায্য চেয়েছেন। মন্ত্রণালয় তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বা’স দিয়েছে। তবে ওই নারীর অ’ভিযোগ, আ’সামিরা তাকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে। তিনি ন্যায়বিচার চান।

মা’মলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ম’রিশাস পৌঁছানোর পর কোম্পানির গাড়িতে করে বিমানবন্দর থেকে তাকে ফায়ার মাউন্ট কোম্পানিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইল কোম্পানিতে হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। তবে ঠিকমত বেতন দেয়া হতো না। ম’রিশাসে অবস্থানরত ওই ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইলের কর্মীদের ক্যান্টিন পরিচালনা করেন বাংলাদেশী মোহাম্ম’দ শাহ আলম (৪৩)। তার বাড়ি ফেনী। এই শাহ আলম ও তার সহযোগী ফুরকান, সিদ্দিক ও আসলাম একদিন তাকে বলেন, কোম্পানির মালিক তোমাকে পছন্দ করে। তুমি যদি তার সাথে থাকতে পারো তাহলে তোমা’র অনেক ভালো হবে। আসলামের এমন প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি। এরপর শাহ আলম বিভিন্ন সময় তাকে ভ’য়ভীতিও দেখান।

একদিন শাহ আলম বলেন, কোম্পানির মালিক তোমা’র বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ করেছে। তাই তোমাকে মালিকের কাছে যেতে হবে। এই বলে তাকে ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইলের মালিক ভা’রতীয় নাগরিক অনিল কলির বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মালিকের কক্ষে তাকে রেখে বাইরে চলে যান শাহ আলম। ওইদিনই ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইলের মালিক অনিল কলি তাকে জো’রপূর্বক ধ’র্ষণ করেন।

ভুক্তভোগী নারীর অ’ভিযোগ, ওই ধ’র্ষণের ভিডিও ধারণ করা আছে। তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হু’মকি দিখিয়ে শাহ আলম ও কোম্পানির মালিক অনিল কলি প্রতিনিয়ত ধ’র্ষণ করতেন তাকে। একদিন শাহ আলম প্রস্তাব দেন মালিকের বন্ধুর সাথে রাত কা’টাতে। এতে তিনি রাজি না হলে নি’র্যা’তন করা হয়।

ভ্ক্তুভোগী নারীর অ’ভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লে ম’রিশাসের একটি হাসপাতা’লে নিয়ে গিয়ে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলেন অ’ভিযু’ক্তরা। এরপর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর শর্ত দিয়ে বলেন, মে’য়েটির বাবাকে ম’রিশাসে আনা হবে।

এই নারী জানান, এর আগে তার বাবা বিদেশে কাজের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স গো’লাম রাব্বি ইন্টারন্যাশনালে (আর.এল-১০৭৮) যান। তখন ওই রিক্রুটিং এজেন্সির লোকজন বলে বয়স বেশির কারণে আপনি বিদেশ যেতে পারবেন না। এক্ষেত্রে আপনার মে’য়েকে ম’রিশাস পাঠান। এরপর বেতন ২৮ হাজার টাকার কথা বলে আরেকটি রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স এম আক্তার অ্যান্ড সন্সের মাধ্যমে তাকে ম’রিশাসে পাঠানো হয়। এখন তিনি কোনো অ’ভিযোগ করবেন না এমন শর্তে ফের গত বছরের নভেম্বরে তার (ভুক্তভোগীর) বাবাকে ওই কোম্পানিতে নেয় হয় এবং তাকে দেশে পাঠানোর কথা বলা হয়। তার বাবা সেখানে পৌঁছানোর পর বাবাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে মোহাম্ম’দ শাহ আলম ওই নারীকে বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অ’সুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেন। এখন দেশে অ’ভিযোগ করার পর তার বাবাকেও নজরবন্দী করাসহ ও মানসিকভাবে বিভিন্ন নি’র্যা’তন করা হচ্ছে ওই দেশে।

ওই নারী জানান, দেশে ফেরার ঠিক তিন দিনের মা’থার রাতের আধারে আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার বোন তা দেখে সেটি ঠেকান। এরপর বড় বোনকে বিস্তারিত জানান। এরপর তারা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সাথে যোগাযোগ করলে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসা’সহ কাউসেলিং সহায়তা করা হয়।

ওই নারীর দাবি, ওই কোম্পানিতে ছয়শ’র বেশি বাংলাদেশী নারী কাজ করেন। এদের মধ্যে পছন্দের নারীদের টার্গেট করে যৌ’ন কর্মে বাধ্য করেন মোহাম্ম’দ শাহ আলম, ফুরকান, সিদ্দিক ও আসলাম। আর ফায়ার মাউন্ট টেক্সটাইলের মালিক অনিল কোহলি প্রায়ই নারীদের নি’পীড়ন করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনে এই খবর প্রকাশের পর ম’রিশাসের কয়কেটি গণমাধ্যমও সংবাদটি প্রকাশ করে। এতে অ’পকর্মের সাথে জ’ড়িতদের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠে। এরপর অ’ভিযু’ক্তরা বিভিন্নভাবে সমঝোতার প্রস্তাব দিচ্ছে ভুক্তভোগী ওই নারীকে।

ব্র্যাকের অ’ভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগী এই নারী যে বর্ণনা দিয়েছেন তা ভ’য়াবহ। বিদেশে কাজের কথা বলে কাউকে যৌ’ন নি’পীড়ন করা বা বেশ্যাবৃত্তিতে বাধ্য করানো মানবপাচারের মধ্যে পড়ে। ম’রিশাস ও বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ যৌথভাবে এই ঘটনার ত’দন্ত করা। আরো কোনো বাংলদেশী নারী এমন নি’পীড়নের শিকার কি না তাও খুঁজে বের করে বিচার করা উচিৎ। আশা করছি, মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবে। আর বাংলাদেশে যেহেতু মানবপাচার আইনে মা’মলা হয়েছে সেটিরও যথাযথ ত’দন্ত ও বিচার হবে বলে আশা করি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: