সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

কারফিউ জারির পরামর্শ নিয়ে যা বললেন দুই বিশেষজ্ঞ

করো’নাভাই’রাস নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হলে দেশে ভ’য়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে খেটে-খাওয়া আড়াই কোটি মানুষের খাবার নিশ্চিত না করে এ কথা চিন্তাও করা যাবে না বলে মত তাদের।

এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মেডিভ’য়েস।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,করো’না থেকে সুরক্ষায় যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি নাগরিকদের ভ্যাকসিন প্রদানের ওপর জো’র দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া শনাক্ত রোগীদের আইসোলেশনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। এগুলো নিশ্চিতের মাধ্যমেই করো’না থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

করো’নাভাই’রাসের ডেল্টা ধরনের বিস্তারে দেশে আ’ক্রান্ত ও মৃ’ত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে করো’না নিয়ন্ত্রণে দেশে চলমান লকডাউনের পরিবর্তে কারফিউ বা ১৪৪ ধারার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল এনসিডিসি পরিচালক ও অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

তবে এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ বিপরীত মত দিয়েছেন প্রখ্যাত ভাইরোলজিস্ট ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইস’লাম ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

(বাঁ দিক থেকে): অধ্যাপক ডা. নজরুল ইস’লাম ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। ফাইল ছবি
(বাঁ দিক থেকে): অধ্যাপক ডা. নজরুল ইস’লাম ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। ফাইল ছবি

কারফিউ কোনোক্রমেই স্থায়ী সমাধান না জানিয়ে অধ্যাপক ডা. নজরুল ইস’লাম বলেন, ‘মানুষকে আ’ট’কে রাখবেন? তারা আ’ক্রান্ত হলে কোথায় যাবে? অনেকের হাসপাতা’লে যেতে হতে পারে। তা ছাড়া অনেক মানুষ না খেয়ে আছে। খাবারের জন্য ওরা কারফিউ ভাঙলে ওদের গু’লি করে মে’রে ফেলা হবে। করো’না নিয়ন্ত্রণ বা রোধ করতে গিয়ে তো খু’নোখু’নিতে লিপ্ত হওয়া যাবে না। এটাকে অনেকেই সহ’জ সমাধান মনে করছেন, কিন্তু এটা মোটেও সহ’জ না। ভাইরোলজিক্যাল অনেক প্রত্যাশা আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অথচ কারফিউর কথা উঠছে। এটা তো মেডিসিন না। লকডাউন, শাটডাউন তারপর কারফিউ। আগে ভাইরোলজিক্যাল চাহিদাগুলো পূরণ করা হোক।

স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে জো’র দেওয়ার পরাম’র্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরায় গুরুত্ব দিতে হবে। একজনও যেন মাস্কবিহীন না থাকে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, অলিতে-গলিতে কোথাও কেউ মাস্ক ছাড়া থাকতে পারবে না। শতভাগ মানুষকে মাস্ক পরায় অভ্যস্ত করানো গেলে করো’না প্রতিরোধ-প্রচেষ্টা সফল হবে। সেই সঙ্গে সর্বাধিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কেউ শনাক্ত হলে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইসোলেশনে নিতে হবে। একই সঙ্গে ওই রোগীর পরিবারকে তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টাইনে নিতে হবে। পরে নেগেটিভ হলে তাদের মাস্ক পরে বের হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এ সময় আশপাশের সবাই মিলে তাদের সাহায্য করবে। প্রয়োজনে বাজার পর্যন্ত করে দিবে। ওষুধ সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো পূরণ করবে। যেন তাদের বের হতে না হয়।

করো’না নিয়ন্ত্রণে জনসম্পৃক্ততা

করো’না নিয়ন্ত্রণে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রখ্যাত এ ভাইরোলজিস্ট বলেন, ‘আইসোলেশনে থাকা রোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এতে পাড়া-প্রতিবেশী সবাই সম্পৃক্ত হবেন। এ রকম ভ’য়াবহ মুহূর্তে কোন বাসায় কি হলো আম’রা কিছুই জানলাম না—এভাবে করো’নাভাই’রাস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সে’না সদস্য, বিজিবি, রেব সব করে দেবে—আম’রা এর মধ্যে থাকবো না, তা হবে না।’

রাজধানীতে লকডাউনের তেমন প্রতিফলন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় দুই-তিন জায়গায় লকডাউন দেখলাম। একটা বিমানবন্দর সড়ক, মিরপুর রোড ও যাত্রাবাড়ীর দিকে। আর তো কোথাও লকডাউন নাই। তাতে কি করো’না প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়ে গেলো?’

কারফিউ’র চিন্তার তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘কারফিউ দিলে তো কোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানই দরকার নাই। কারফিউর চিন্তা ভাইরোলজিক্যালি সঠিক নয়। এ চিন্তাকে অ’পরিণাম’দর্শী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখন কারফিউ খুলে দেওয়া হবে—তখন দেখবেন, হয় তো করো’না নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু অনেক বাসায় লা’শ পড়ে আছে। তারা না খেয়ে প্রা’ণ হারাবে। কারণ আমা’র বাসায় চাল থাকলেও অনেকের বাসায় নাই। খাবারের অভাবে কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চারা মা’রা যাবে। শুধু পানি খেয়ে থাকা সম্ভব না। এসব বিষয় চিন্তা করতে হবে। এক কেন্দ্রীক চিন্তা করলে হবে না। উভ’য় দিক দেখতে হবে।’

অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহর ভাবনা

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইউজিসি অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, মানুষকে বেশি দিন আ’ট’কে রাখা ঠিক হবে না। একজন রিকশাওয়ালার ঘরে খাবার নাই। সে বিপদে পড়েই ঘর থেকে বের হয়। কারফিউ দিলে যারা দিন আনে দিন খায়—এ রকম দুই-আড়াই কোটি মানুষ, তাদের কি অবস্থা হবে? বরং যে কয় দিন কারফিউ থাকবে সেই দিনগুলোতে তাদেরকে খাবার সরবরাহ করতে হবে, পরিবারের সদস্যদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে হবে। অ’সুখ হলে হাসপাতা’লে নেওয়া ব্যবস্থা থাকতে হবে। করো’না ছাড়াও কারও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, লিভা’র কিংবা কিডনি ফেইলিউর হতে পারে। এখন হাসপাতালগুলোতে অনেক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি। তাদেরকে ঘরে ব’ন্দি রেখে মে’রে ফেলা যাবে না। এসবের সুষ্ঠু সমাধান করে কেউ চাইলে কারফিউ দিতে পারেন। তা না হলে কারফিউ দিয়ে লাভ হবে না।

ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ বের হলে তাকে গু’লি করে মা’রা যাবে কিনা এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আরামে ঘরে বসে মুখে কারফিউর কথা বলা সহ’জ। বাস্তবতা কঠিন। এটি উপলব্ধি করতে হবে। বাস্তবের সঙ্গে মিলতে হবে। কারফিউর নিয়ম হলো, কেউ বের হলে গু’লি করে মে’রে ফেলতে হবে। অনেক লোক পেটের দায়ে বের হচ্ছে, তাদের বক্তব্য হলো: আম’রা করো’নায় ম’রবো না। ম’রলে না খেয়ে ম’রবো। এসব হাহাকার গণমাধ্যমেও প্রচার হচ্ছে। এ রকম একজন আমা’র কাছে ক্ষুদেবার্তায় বললো, আপনারা শুধু কথা বলছেন, আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন না। আমাদের একটি ট্যাবলেট দেন, খেয়ে ম’রে যাই। আম’রা না খেয়ে মা’রাই যাচ্ছি।’

পৃথিবীর অনেক দেশ এ সংকট পাড়ি দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা লকডাউন-কারফিউ উঠিয়ে দিচ্ছে। ব্রিটেনের মতো দেশ উঠিয়ে দিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করো’না কোনো দিন যাবে কিনা, জানি না! আমাদের জীবন-জীবিকা সচল রেখে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে প্রথম করো’নায় আ’ক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত বছর ৮ মা’র্চ। এরপর একই বছরের ১৮ মা’র্চ দেশে করোনায় মৃ’ত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই বছরের শেষে দিকে করো’নার সংক্রমণ কমতে থাকে। তবে চলতি বছরের মা’র্চ থেকে করো’নায় মৃ’ত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। এর ফলে গত মা’র্চ থেকে দেশে চলাচলে শুরু হয় বিধিনিষেধ। ঈদ-উল-ফিতরের পরপর সীমান্তবর্তী জে’লাগুলোতে সংক্রমণ মা’রাত্মকভাবে বাড়তে থাকে। কয়েকদিনের ব্যবধানে আশপাশের জে’লাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এ সংক্রমণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: