সর্বশেষ আপডেট : ১০ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

অস্ট্রেলিয়ায় আইনজীবী হচ্ছেন বাংলাদেশি গারো তরুণী এলিনোর

দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি অ’ভিবাসী মিজ এলিনোর রেমা বাংলাদেশের আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আইন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ডিগ্রি সম্পন্ন করে তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম বাংলাদেশি গারো আইনজীবী হওয়ার পথে।

এলিনোর তার পরিবারের সঙ্গে ১৯৯৩ সালে পাঁচ বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। অস্ট্রেলিয়া তার বাড়ি হলেও বাংলাদেশ সর্বদাই তার মাতৃভূমি। তিনি বিশ্বা’স করেন ন্যায়বিচার পেতে প্রত্যেকেরই সমান অধিকার এবং সুযোগ থাকা উচিত।

মূলত ভা’রতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও আশেপাশের অঞ্চল এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জে’লায় গারো সম্প্রদায়ের লোকদের বাস এই অঞ্চলে বসবাসকারী গারো জাতির লোকদের প্রধান ধ’র্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘ওয়ানগালা’।

এলিনোর একটি আদর্শ শৈশব পেয়েছেন, বাবা-মা সবসময় তার উপযু’ক্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ছিলেন। আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের মানুষেরা বাংলাদেশ ও ভা’রতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশ ও ভা’রতের সরকারি ওয়েবসাইটগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে মূলত ভা’রতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জে’লায় তাদের বাস।

তাছাড়া এই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা ভা’রতে মেঘালয় ছাড়াও আসামের কা’ম’রূপ, গোয়ালপাড়া ও কারবি আংলং জে’লায় এবং ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, নেত্রকোণা, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকা ও গাজীপুর জে’লায় বাস করে।

এলিনোর বলেন, তার পরিবারের সদস্যরাও ভা’রত ও বাংলাদেশ ছাড়াও যু’ক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাস করেন। তবে তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ায় তার কমিউনিটির খুব বেশি মানুষ নেই, বিশ জনের কিছু বেশি হবে।

‘আমা’র মায়ের পরিবার বাংলাদেশের উত্তরে ময়মনসিংহের বিরিশিরি অঞ্চলের, আমা’র নানা গারো সম্প্রদায় থেকে প্রথম কলেজ ডিগ্রি লাভ করেছিলেন, তিনি ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি সম্পন্ন করে স্থানীয় স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন।’

নিজের বাবা স’ম্পর্কে এলিনোর বলেন, ‘আমা’র বাবা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজে’লার, এবং দাদা ছিলেন আমাদের সম্প্রদায়ের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।’

‘আমা’র বাবা তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে টারশিয়ারি বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা লাভকারী প্রথম ব্যক্তি, তিনি বাংলাদেশে কৃষিবিজ্ঞানে অনার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং সরকারি বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে ও অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করেন।’

এই অঞ্চলে বসবাসকারী গারো জাতির লোকদের প্রধান ধ’র্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘ওয়ানগালা’।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আমা’র বাবার কাছ থেকে ‘‘ওয়ানগালা’’ উৎসব স’ম্পর্কে জেনেছি। উৎসবের এই দিনগুলোতে সৃষ্টিক’র্তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়, জমির ফসল ঘরে তোলা হয়। সবাই মিলে পানাহার এবং আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে।’

এলিনোর পাঁচ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন তার পিতামাতার সাথে। নিজের শৈশব জীবন স’ম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য অ’ভিবাসীদের মতোই আমা’র বাবা-মা ক’ষ্ট করেছেন আমাদের দুবোনকে বড় করতে। তারা আমাদের আশ্রয় নিশ্চিত করা ছাড়াও একটি উপযু’ক্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন দিতে চেয়েছেন।’

‘আমা’র শৈশবটি ছিল খুব আদর্শমন্ডিত, অনেক বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের মাঝে অনেক আনন্দে বড় হয়েছি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং বেড়ে ওঠার সময় নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থাকা আমা’র পড়াশোনার জন্য খুব কাজে লেগেছে।’

এলিনোর হাইস্কুল শেষ করে দর্শনে অনার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন, মাইগ্র্যাশন আইনে গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা শেষ করে আইন বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি করছেন।

একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করতে গিয়ে তিনি অনুভব করেন যে সমাজের সকল নাগরিকদের, তারা যে সামাজিক বা অর্থনৈতিক অবস্থান থেকেই আসুক না কেন, দেশের বিদ্যমান আইনব্যবস্থা থেকে সমান সুযোগ পাওয়া উচিত।

যদিও অনেকদিন তার বাংলাদেশে যাওয়া হয় না, তবে এক সময় এলিনোর কয়েক বছর পরপরই বাংলাদেশে বেড়াতে যেতেন, যেখানে তার জ্ঞাতি ভাইবোন এবং নানা-নানী, দাদা-দাদীরা আছেন।

স্মৃ’তি হাতড়ে তিনি বলেন, ঢাকার রাস্তায় ঘুরতে, খাওয়া দাওয়া করতে এবং বড় বড় শপিং মলগুলোতে কেনাকা’টা করতে যেতে তিনি আনন্দ পান।

তাছাড়া তার গ্রাম বিরিশিরি এবং ধোবাউড়ার সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে এবং তা’জা মাছ-তরিতরকারি স্বাদ নিতেও তার ভালো লাগে। সূত্র: এসবিএস বাংলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: