সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সারা দেশে কারফিউ জারির পরামর্শ

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ছে সংক্রমণ। চলতি জুলাইয়ের প্রথম ৭ দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। একই সময় হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনার ঊর্ধ্বগতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বলা হচ্ছে, এরকম অস্বাভাবিক হারে রোগী বাড়তে থাকলে চিকিৎসাসেবা ও অক্সিজেন সরবরাহ চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে করোনার লাগাম টানতে প্রয়োজনে কারফিউ জারির পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই সপ্তাহের পরিপূর্ণ লকডাউন দিয়ে মানুষকে ঘরে রাখতে প্রয়োজনে কারফিউ জারি করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি দৈনিক কমপক্ষে এক লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা করা, একজন আক্রান্ত হলে পুরো পরিবারকে আইসোলেশনে রাখারও পরামর্শ দেন। অন্যথায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করেছেন।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কয়েক মাস পড় থেকে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকলেও চলতি বছরের মার্চ থেকে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় টানা বিধিনিষেধ চলছে।
চলমান করোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয় গত ঈদুল ফিতরের পরপর। ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে রোগী দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে তা আশপাশের জেলায়ও ছড়িয়ে পড়ে। এক মাসের ব্যবধানে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যু ও শনাক্তের হার কয়েক গুণ বেড়েছে। সবশেষ গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায় ২৪ ঘণ্টায় দেশে এক দিনে মারা গেছেন ২০১ জন। আর শনাক্ত ১১ হাজার ২৬২ জন।
তথ্য অনুযায়ী এই সময়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৬৩৯ জনের। এই পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ। সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৩ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত জানুয়ারি মাসে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৬২৯ জন, যা এপ্রিলে লাখ ছাড়িয়ে যায়। আবার জুন মাসে তা বেড়ে এক লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জনে পৌঁছায়। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছে ৫৬ হাজার ৯ জন। এই সময়ে মারা গেছেন ১০৯০ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, রোগী শনাক্তের হার থেকে বোঝা যায় কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না। সংস্থাটির হিসেবে কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে রোগী শনাক্তের হার ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
তাই দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সে অনুযায়ী জুলাই মাসের সংক্রমণ গত জুন এবং এপ্রিল মাসকে ছাড়িয়ে যাবে। আর রোগীর সংখ্যা দিন দিন এভাবে বাড়লে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি অক্সিজেন সরবরাহেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, এখন যে আংশিক লকডাউন হচ্ছে এর সুফল হয়তো মিলতে পারে কমপক্ষে আরও এক সপ্তাহ পর। কিন্তু এর আগে যদি মানুষকে ঘরবন্দি করা না যায়, কোথায় কে আক্রান্ত সেটা চিহ্নিত করা না যায় তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। এখনই হাসপাতালগুলোতে জায়গা হচ্ছে না। অক্সিজেনের সংকট শুরু হয়ে গেছে। সামনে আরো খারাপ হতে পারে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 211
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    211
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: