সর্বশেষ আপডেট : ৩৭ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

করোনার বড় ঢেউয়ে জর্জরিত বাংলাদেশ

আজ ৮ জুলাই। দেশে করো’না মহামা’রির ১৬ মাস পার হলো। আর এই ১৬ মাসের মধ্যে চলতি বছরের জুন থেকে করো’নার আ’ঘাতে বেশি জর্জ’রিত হয়েছে বাংলাদেশ। দেশে করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত রোগী শনাক্তের ঊর্ধ্বগতি চলছে, চলছে মৃ’ত্যুর মিছিল।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, রাজধানী ঢাকার অন্যতম বড় সরকারি আটটি হাসপাতা’লের ১২৭টি আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) বেডের সবগুলোতে রোগী ভর্তি। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আশ’ঙ্কাজনক হারে কমে আসছে ফাঁকা আইসিইউর সংখ্যা। অ’পরদিকে দেশের ১৩ হাসপাতা’লে সাধারণ শয্যার বিপরীতে অ’তিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় (৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) করো’নায় নতুন করে আ’ক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ১৬২ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, রোগী শনাক্তের সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে মহামা’রিকালের দ্বিতীয় ঢেউয়ের এপ্রিল মাস এবং সদ্য শেষ হওয়া ভ’য়ংকর জুনকে ছাড়িয়ে যাবে চলতি জুলাই মাস।

২০২০ সালের ৮ মা’র্চ দেশে করো’না আ’ক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের পর তা বাড়তে থাকে সমানতা’লে। অবশ্য চার মাস পর শনাক্তের হার নিম্নমুখী হলেও একেবারে কমে যায়নি। বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ অনেকটাই কমে যায়, এমনকি এক পর্যায়ে দৈনিক শনাক্ত তিনশর কাছাকাছি ছিলো বেশ কিছুদিন। কিন্তু চলতি বছরের মা’র্চ থেকে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকে। সেসময় দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের ওপরে চলে যায়। শনাক্ত ও মৃ’ত্যু বাড়তে থাকায় পাঁচ এপ্রিল থেকে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এ বিধিনিষেধের ফলাফলে সংক্রমণ পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ঈদুল ফিতরে বিধিনিষেধ শিথিল হয়ে পড়ে। শহর ছেড়ে যাওয়া মানুষ গ্রামমুখী হয়, যেখানে স্বাস্থ্যবিধির কোনও বালাই ছিল না। তাতে করে জনস্বাস্থ্যবিদরা আশ’ঙ্কা করেন ঈদের পর সংক্রমণ আবার বেড়ে যাবে, ঘটেও তাই।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে। যার ফলে প্রথমে সীমান্তবর্তী জে’লা এবং পরে সেসব জে’লা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে পাশের জে’লাগুলাতেও। আর পরেই স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশের সীমান্তবর্তী জে’লাগুলোতে করো’নার সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আরোপের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নে শিথিলতার পরিচয় দিলে পরিস্থিতি খা’রাপ হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সেই আশ’ঙ্কাকে সত্যি করে জুনের পরিস্থিতি খা’রাপ হয়। দেশে করো’না মহামা’রিকালের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ের এপ্রিলকে ছাড়িয়ে জুন হয়ে ওঠে ভ’য়ংকর। ভ’য়ংকর এ পরিস্থিতির ভেতরেই সংক্রমণ রুখতে গত ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়, যা একদফা সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে চলমান এই কঠোর বিধিনিষেধে প্রথম দিকে মানুষকে বাড়িতে রাখা গেলেও দিনে দিনে তা শিথিল হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে সড়কে যান চলাচল বাড়তে দেখা গেছে, কর্মজীবী মানুষের চলাচলও বেড়েছে।

এমনটা চলতে থাকলে এবারের পরিস্থিতি আরও ভ’য়াবহ হবে বলে শ’ঙ্কা প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইস’লাম বলেন, দেশের চলমান লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ অমান্য করার ঘটনা ঘটছে। এতে করে রোগী সংখ্যা যদি অস্বাভাবিক বেড়ে যায় তাহলে আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। সংক্রমণের উচ্চ’মুখী এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, জুলাইয়ের রোগী সংখ্যা এপ্রিল ও জুন মাসকেও ছাড়িয়ে যাবে।

অধ্যাপক নাজমুল ইস’লাম বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৬২৯ জন। এপ্রিলে সেটি লাখ ছাড়িয়ে যায়। গেল জুন মাসেও তা এক লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জনে এসে থামে। আর চলতি জুলাই মাসের প্রথম ছয় দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ৫৩ হাজার ১৪৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ৬ জুলাই সকাল ৮টা থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছেন ২০১ জন। মহামা’রিকালে এই প্রথম একদিনে এত মৃ’ত্যু দেখলো বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে পরপর দুইদিন ধরে শনাক্ত হচ্ছে ১১ হাজারের বেশি। দেশে গত এক সপ্তাহ ধরে মৃ’ত্যু একশ’র উপরে। গত ২৪ ঘণ্টায় মা’রা যাওয়া ২০১ জনকে নিয়ে দেশে করো’নাতে আ’ক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসাবমতে মোট মা’রা গেলেন ১৫ হাজার ১৫ হাজার ৫৯৩ জন। এর আগে গত ১ জুলাই ১৪৩ জন, ২ জুলাই ১৩২ জন, ৩ জুলাই ১৩৪ জন, ৪ জুলাই ১৫৩ জন, ৫ জুলাই ১৬৪ জন এবং ৬ জুলাই ১৬৩ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে।

দেশে প্রথম করো’না আ’ক্রান্ত রোগীর মৃ’ত্যুর কথা জানানো হয় ২০২০ সালের ১৮ মা’র্চ। এরপর থেকে দেশে প্রথম ১ হাজার রোগীর মৃ’ত্যু হয় ৮৪ দিনে। এরপর গেল বছরের ৫ জুলাই দেশে করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যু ২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পরের ১ হাজার রোগীর মৃ’ত্যু হয় মাত্র ২৫ দিনে। তৃতীয় ১ হাজার রোগীর মৃ’ত্যু হয় আরও কম সময়ে মাত্র ২৩ দিনে। দেশে করো’নায় মৃ’ত রোগীর সংখ্যা চার হাজার পূর্ণ হয় পরের ২৮ দিনে। পাঁচ হাজার পূর্ণ হয় আরও ২৮ দিনে, ছয় হাজার পূর্ণ হতে সময় লাগে আরও ৪৩ দিন, সাত হাজার পূর্ণ হয়েছে আরও ৩৮ দিনে, আট হাজার পূর্ণ হয়েছে পরের ৪২ দিনে, নয় হাজার পেরিয়ে পরের ৬৭ দিনে আর মাত্র ১৫ দিনে পরের এক হাজার রোগী মা’রা গিয়ে দেশে ১০ হাজার রোগীর মৃ’ত্যু হয় চলতি বছর এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখে এসে।

এরপর ১০ থেকে ১১ হাজার; অর্থাৎ একাদশতম হাজার রোগীর মৃ’ত্যু হতে সময় লেগেছে মাত্র ১০ দিন, দেশে মৃ’ত রোগী ১২ হাজার হয়েছে পরের ১৬ দিনে, ১৩ হাজার হয়েছে পরের ৩১ দিনে, ১৪ হাজার হয়েছে পরের ১৫ দিনে আর ১৪ থেকে ১৫ হাজার মৃ’ত্যু হয়েছে মাত্র আটদিনে। এর আগে সবচেয়ে কম সময়ে ১ হাজার সংখ্যক রোগীর মৃ’ত্যু হয়েছিল করো’নার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে গত এপ্রিল মাসে। সেবারে এক হাজার মৃ’ত্যুর হয়েছিল ১০ দিনে। এবার আরও কম সময় আটদিনেই মৃ’ত্যু হল এক হাজার মানুষের।

আর গত ১ জুলাই ৮ হাজার ৩০১ জন, ২ জুলাই ৮ হাজার ৪৮৩ জন, ৩ জুলাই ৬ হাজার ২১৪ জন, ৪ জুলাই ৮ হাজার ৬৬১ জন, ৫ জুলাই ৯ হাজার ৯৬৪, ৬ জুলাই ১১ হাজার ৫২৫ এবং ৭ জুলাই ১১ হাজার ১৬২ জন শনাক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ গত সাতদিনে করো’নাতে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৬৪ হাজার ৩১০ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগতাত্তিক নিয়ম অনুযায়ী ১ জুলাইয়ের সর্বাত্মক বিধিনিষেধের আগের অবস্থার কারণে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত করো’নার এই ভ’য়াল রূপ দেখতে হবে। তারপর অবস্থার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে আবার নাও হতে পারে।

‘বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই তৃতীয় ঢেউ হয়ে গেছে, তৃতীয় ঢেউয়ের মধ্যে আম’রা আছি’ জানিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন  বলেন, গত ঈদের পর থেকেই দেশে সংক্রমণ বেড়েছে এবং সেটা তৃতীয় ঢেউয়ে পরিণত হয়েছে এখন। এটা যদি আরও আগে নেমে যেতো তাহলে হয়তো দ্বিতীয় ঢেউয়ের অংশ হতো, কিন্তু সেটা না হয়ে তৃতীয় ঢেউয়ে পরিণত হয়েছে।

এই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি আরও বাড়ার আশ’ঙ্কা রয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, আরও বাড়ার আশ’ঙ্কা রয়েছে। আর মৃ’ত্যুও বাড়বে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত। কারণ ১ জুলাইয়ে দেওয়া বিধিনিষেধের প্রভাব মৃ’ত্যুর ক্ষেত্রে পড়বে তিন সপ্তাহ পরে অর্থ্যাৎ ২১ জুলাইয়ের পর। ২১ জুলাই নাগাদ মৃ’ত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে আড়াই সপ্তাহ পরে। কিন্তু সে পর্যন্ত আমাদের প্রতিদিনই শনাক্ত এবং মৃ’ত্যুর এই ভ’য়ংকর রূপ দেখতে হবে।

‘একইসঙ্গে প্রতিটি ঢেউ তার আগের ঢেউয়ের চাইতে বেশি বিধ্বংসী হয়, ভ’য়াল হয়, মা’রাত্মক হয়, সংখ্যায় বেশি হয়। আগের ঢেউয়ের চাইতে এবারে আরও বেশি জর্জ’রিত হচ্ছে বাংলাদেশ’, বলেন ডা. মুশতাক হোসেন।

তবে এমন হারে মৃ’ত্যু ও শনাক্তেও বাংলাদেশে করো’নাভাই’রাসের পিক বা চূড়া নিয়ে সন্দিহান স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল। তার ভাষ্য, ‘দেশে আসলে পিকটা (সর্বোচ্চ চূড়া) কোথায় বলা মুশকিল।’ এই ঊর্ধ্বগতি আরও চলবে, শনাক্তের সংখ্যা বাড়বে, মৃ’ত্যুও বাড়বে- শ’ঙ্কা জামিল ফয়সালের।

এখন যারা মা’রা যাচ্ছেন তারা সংক্রমিত হয়েছিলেন ১৪ থেকে ২১ দিন আগে। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে যে সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি, প্রতিদিন যে আট হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন তাদের মৃ’ত্যু রোগতাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী হবে আগামী অন্তত দেড় সপ্তাহ পর্যন্ত।

আবু জামিল ফয়সাল বলেন, এবারের ঢেউয়ে বাংলাদেশ অনেক বেশি জর্জ’রিত হয়ে গেল- অথচ আম’রা কিছুই করতে পারলাম না, কেউ কথা শুনছে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 146
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    146
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: