সর্বশেষ আপডেট : ৩৭ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মৌলভীবাজারে এক বছর ধরে বাক্সবন্দি এক্সরে-ইসিজি মেশিন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে ও ইসিজি মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় সেগুলো চালানো যাচ্ছে না। গত এক বছর আগে সরবরাহের পর থেকেই এগুলো পড়ে রয়েছে বাক্সব’ন্দি হয়ে। এ্যাম্বুলেন্স দুইটি থাকলেও চালক সংকটের কারণে একটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে রোগী পরিবহনেও সংকট দেখা দিয়েছে। লোকবলের অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষাও হচ্ছে না।

উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স-রে ও ইসিজি যন্ত্রগুলো এখনও বাক্সব’ন্দি পড়ে আছে। প্যাথলজি বিভাগে চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট পদে লোকবল কম থাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করাতে পারছেন না। এ কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. এম. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘৩১ শয্যার লোকবল নিয়ে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু লোকবল ৫০ শয্যার দেওয়া হয়নি। উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব মিলিয়ে মাত্র ১১ জন কর্ম’রত আছেন। এখানে কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। তাদের সঙ্গে আছেন দন্ত বিশেষজ্ঞ ও উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা।’ এছাড়া প্যাথলজি বিভাগে ১ জন চিকিৎসক কর্ম’রত থাকলেও এক্সরে টেকনিশিয়ান পদ শূন্য রয়েছে। এজন্য রোগীরা এখানে সব সময় রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে পারেন না। এছাড়া উপজে’লার আদমপুর ও রহিমপুর ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোন চিকিৎসক নেই।

উপজে’লার শমসেরনগর ইউনিয়নের কেছুলুটি গ্রাম থেকে আসা ডলি আক্তার অ’ভিযোগ করে বলেন, ‘জ্বর ও শরীরে ব্যথা নিয়ে ছে’লেকে নিয়ে এখানে এসেছি। চিকিৎসক তাকে এক্সরে, র’ক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করতে বলেন। কিন্তু এখানে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় বিপদে পড়ি। বাধ্য হয়ে ৮৫০ টাকা খরচ করে পর দিন একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসব পরীক্ষা করিয়েছি।’

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাজেদুল কবির বলেন, ‘আমি কোন রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠাই না। হয়তো সময়ের অভাবে তাদের বলি আজ টেস্ট হবে না, কাল আসেন। আমিতো একা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। আমা’র কার্যালয়ে তিনটি পদের বিপরীতে আমাকে একা সব সামলে নিতে হয়। খুবই ক’ষ্ট হয়।’

উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা প্রায় সময়ই থাকে লাপাত্তা। এ কারণে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্স পায় না রোগীরা। এদিকে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের সেবা পেতে চালকদের ফোন করলে অনেক সময় তা রিসিভ না করার অ’ভিযোগও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্ম’রত কিছু অসাধু কর্মক’র্তা-কর্মচারী এই এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে জ’ড়িত, বহিরাগত এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে রম’রমা এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা। ফলে সরকারি কর্মক’র্তা ও বহিরাগত এ্যাম্বুলেন্স মালিকদের দখলদারিত্বের কারণে হাসপাতা’লে আসা রোগী ও তার স্বজনরা প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. এম, মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা সমস্যা রয়েছে। কোন বিভাগে লোকবল আছে, কিন্তু যন্ত্রপাতি নেই। আবার কোন বিভাগে যন্ত্রপাতি থাকলেও লোকবল নেই। এসব সমস্যা দুর করার চেষ্টা করেও পারছি না।’

তিনি আরও বলেন, এক্স-রে ও ইসিজি যন্ত্র চালু করার জন্য জনবল কিছু দিন আগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন সিলেট থেকে টেকনিশিয়ান আসলে চালু হয়ে যাবে। আর কোন সমস্যা থাকবে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: