সর্বশেষ আপডেট : ১১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

করোনায় মায়ের শেষ বিদায়ে ভয়ে কাছে গেলেন না মেয়ে

রাত বাজে দশটা, চারদিক গভীর অন্ধকারে অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে সেই সঙ্গে বজ্রপাতে মাঝে মধ্যে আকাশ চ’মকাচ্ছে। এই আকাশ চ’মকানো হালকা আলোয় দেখা গেল সাদিপুর, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে একটি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে রয়েছে।

তবে এই অ্যাম্বুলেন্সটির আশপাশ জুড়ে মানুষের কোনো সাড়া শব্দ নেই। একদম একা পায়ে দাঁড়ানো অ্যাম্বুলেন্সটি। অনেক চেষ্টার পরও, কাউকে খুঁজে পাওয়া গেল না। এমনকি চালকও উধাও।

কাছে ভিড়তেই দেখা গেল ভেতরের সিটে কাপড়ে মোড়ানো একটি লা’শ একা পড়ে আছে। বাড়ির খোঁজ নিয়ে লা’শটি উঠিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে এগিয়ে গেল সবাই। তারপর ভোর পর্যন্ত চলে এ লা’শটির দাফন কাফন।

করো’নায় মৃ’ত্যু এ মহিলার নি’র্মম এ কাহিনী তুলে ধরে কথা বলছিলেন, মৌলভীবাজার স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন বোরহান উদ্দিন সোসাইটির চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান মুহিব।

তিনি জানালেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) তাদের সংগঠনের কাছে ফোন আসে উসমান নগর থা’নার সাদিপুর থেকে। জানানো হয়, শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতা’লে এক মহিলা করো’নায় মা’রা গেছেন। তার দাফন কাফন করে দিতে হবে।

এ খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন বোরহান উদ্দিন সোসাইটি রাতেই রওয়ানা দেয় সাদিপুর। সেখানে উপস্থিত হয়ে তারা পড়েন মহাবিপাকে। মৃ’ত্যু বরণ করা এ নারীর কোনো স্বজনকে পাওয়া যায়নি খোঁজে। এমনকি সংক্রমণের ভ’য়ে গ্রামের কোনো লোকজনই এগিয়ে আসেনি।

তারা জানান, অ্যাম্বুলেন্স থেকে প্রথমে লা’শ নিয়ে বাড়িতে যাওয়া। গোসল দেওয়া এমন কি কবর খোঁড়া পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসতে চায়নি।
তবে তিনি জানান, গোসল দিতে প্রথমে মৃ’ত নারীর মে’য়েরা বাড়িতে উপস্থিত থাকলেও তারাও ভ’য়ে গোসলে অনিহা প্রকাশ করে। অনেক বুঝিয়ে তাদের সহযোগিতায় গোসল দেওয়া হয়। কবর খোঁড়ার কোনো মানুষও গ্রামে খোঁজে পাওয়া যায়নি।

অবশেষে জো’রপূর্বক দু-একজনকে ধরে নিয়ে এসে তাদের সাহায্যে তারা কবর খোঁড়েন। সেখানেও দেখা দেয় চরম বিপত্তি। বৃষ্টিপাত ও পানির চাপ কবর খোঁড়তে বিড়ম্বনা দেখা দেয়। মাটি ভেঙে কবর খোঁড়া বাধাগ্রস্ত হয়। অবশেষে ভোর চারটায় করো’নায় মৃ’ত্যু হওয়া এ মহিলার দাপন কাজ সম্পন্ন হয়। আর এ জানাজায় শুধুমাত্র মে’য়ের অবুঝ কজন নাতি উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের চেয়ারম্যান জানান, করো’নাকালীন অনেক দাফন-কাফন সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু এভাবে কোনো জায়গায় তারা বিপাকে পড়েননি।

তিনি জানান, করো’না সংক্রমণের ভ’য়ে শেষ বিদায়েও নিকটাত্মীয় স্বজনও কেউ পাশে দেখা যায়নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 28
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    28
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: