সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

টিকটক বাবুর সঙ্গে যুক্ত কয়েকশ টিকটক গ্রুপ

ঢাকা, ০৬ জুন – টিকটক তারকা বানানোর ফাঁদ পেতেই মগবাজারের বাসিন্দা রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক বাবু নারী পাচার করে আসছিল। তার সঙ্গে যুক্ত পাঁচশর মতো টিকটক গ্রুপ, টিকটক আইডি, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক আইডি শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। টিকটক হৃদয়ের গ্রুপের নাম ‘টিকটক লাভার’। এই গ্রুপের টিকটক স্টার হতে চায় এমন শত শত গ্রুপকে যুক্ত করে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল সে।

বাংলাদেশের তরুণীদের ব্যবহার করে টিকটক ভিডিও তৈরি করে তা ভারত-দুবাইয়ের নারী পাচারকারী চক্রের কাছে পাঠাত হৃদয়। ভিডিওতে থাকা নারীদের পছন্দ হলে তাদের ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদ পেতে দেশের বাইরে পাচার করে দিত সে। এখন পর্যন্ত নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, মূলত টিকটককেই নারী পাচারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করত টিকটক হৃদয়। তার সঙ্গে যুক্ত পাঁচশ আইডি নারী পাচারে সহায়তা করেছে। তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

টিকটক হৃদয়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুল পার্টিতে কীভাবে অংশ নিতে হবে- এটা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছে সে। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা সবাই সারাদিন একসঙ্গে এনজয় করব। যারা যেতে চাও, তারা ইনবক্সে তথ্য দাও।’ আবার একাধিক তরুণী অন্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলছে, ‘১৮ তারিখে পুল পার্টি। আমি থাকছি হৃদয় বাবুর সঙ্গে। আমরা সবাই হৃদয়ের সঙ্গে।’

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র আরও জানায়, টিকটকের এসব গ্রুপের কিছু কমন অ্যাডমিন রয়েছে। আর এসব গ্রুপে কয়েকশ সক্রিয় সদস্যও আছে। মূলত এসব গ্রুপ সক্রিয় ছিল হাতিরঝিল, মগবাজার, রমনা, উত্তরা ও কাকরাইল ঘিরে। এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের এলাকার তরুণ-তরুণীরা এই গ্রুপে যুক্ত। টিকটক ভিডিও তৈরি করার কথা বলে অনেক তরুণীকে হাতিরঝিলে ডেকে আনত হৃদয়।

জানা গেছে. নারী পাচারে টিকটক হৃদয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের কয়েকটি রাজ্যের আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্কে ৭০-৮০ তরুণ-তরুণীকে নিয়ে টিকটক হ্যাং আউট পার্টির আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের আফরিন রিসোর্টে সাত-আটশ তরুণী-তরুণীকে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল পুল পার্টির। হৃদয় ছাড়াও নারী পাচারে জড়িতরা পরিকল্পনামাফিক এ পার্টির আয়োজন করে কৌশলে টিকটক স্টার, বিদেশে ভালো বেতনে সুপার শপ ও বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখায়।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের সদস্যদের টাকা দিয়ে এ পার্টির আয়োজন করে হৃদয়। তাই পার্টিতে অংশ নেওয়া কোনো তরুণীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি। ছেলেদের কাছ থেকে সামান্য টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই টাকা খরচের তুলনায় খুব সামান্য। পার্টিতে অংশ নেওয়া সবাইকে নেশাদ্রব্য সরবরাহ করে হৃদয়। সেখানে বলাবলি হচ্ছিল, হৃদয়ের কোনো এক বড় ভাই পুল পার্টির ব্যয় বহন করছে।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত নারী পাচারে যুক্ত কয়েকজনের নাম তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তারা হলো- মেহেদী হাসান বাবু, মহিউদ্দিন, হারুন, বকুল ওরফে ছোট খোকন, সবুজ, রুবেল, সোনিয়া, ডালিম প্রমূখ।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজ আল ফারুক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতে নারী পাচারকারী হিসেবে কয়েকজন গ্রেপ্তারের পরই বিভিন্ন টিকটক গ্রুপ বন্ধ করে কেউ কেউ গা-ঢাকা দিয়েছে। এর পরও প্রযুক্তিগত তদন্তে বাবুর সঙ্গে যুক্ত অনেকের নাম বেরিয়ে আসছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে।

ভারতে এক বাংলাদেশি তরুণীকে বীভৎস নির্যাতন করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সূত্র ধরে নারী পাচারের এই বড় চক্রের খোঁজ মিলেছে। টিকটকের মডেল করার টোপ দিয়ে অনেক নারীকে বিভিন্ন সময় ভারতে নিয়ে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সূত্র ধরে এরই মধ্যে টিকটক হৃদয়সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। তাদের মধ্যে দু’জন পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধও হয়। এ ছাড়া যৌন নিপীড়নের শিকার ওই তরুণীকে কেরালা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নারী পাচারের ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় দুটি মামলা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার তরুণীর বাবা বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি ও মানব পাচার আইনে মামলা করেন। মামলায় হৃদয়সহ অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি মামলা করেন নির্যাতনের শিকার হয়ে বেঙ্গালুরু থেকে ফেরত আসা এক তরুণী।সূত্র : সমকাল

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: