সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

হাটহাজারী মাদ্রাসা ছাত্রদের স্মার্টফোন ব্য়বহার নিষিদ্ধ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম কওমিভিত্তিক ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা। সেখানে ছাত্র ভর্তিতে এ বছর বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ ওই মাদ্রাসায় ভর্তি হতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, মাদ্রাসার কোনো ছাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিলে সেটি ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ বলে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর কাছে স্মার্টফোন থাকা যাবে না। থাকলে ব্যবস্থা নেবে মাদ্রাসা প্রশাসন।

গত ১৮ মে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে আরও কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ধর্মভিত্তিক কওমিপন্থী আলেমদের সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও ওই সংগঠনের নেতাদের মাদ্রাসাগুলো নিয়ে দেশে নানা ইস্যুতে কওমি আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সরকারের চলমান সংকট নিরসনে এবং সরকারের চাপের মুখে পড়ে হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তবে হাটহাজারী মাদ্রাসার ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, এটি প্রথমবারের মতো নয়, কর্তৃপক্ষ বহু বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে এসব শর্ত চালু রেখেছে। মাদ্রাসার এসব কার্যক্রম মজলিসে এদারী (মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদ) ও মজলিসে ইলমি’র (মাদ্রাসা শিক্ষা পরিচালনা পরিষদ) সদস্যরা সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে পরিচালনা করে আসছে।

সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৩০ মে থেকে সকল বিভাগের নতুন ও পুরাতন শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। এতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে প্রচলিত রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক কোনো সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত থাকা যাবে না। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে ও ছাত্রাবাসসহ ক্যাম্পাসে মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো প্রকার স্মার্টফোন পাওয়া গেলে জব্দ করা হবে। সাধারণ মোবাইল ফোন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাওরা হাদিস বিভাগের এক ছাত্র এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে না দেওয়া কতটুকু যৌক্তিক সেটা জানি না। তবে এটা আমাদের কাছে স্পষ্ট যে, শুধু সরকারের চাপের কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এরকম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। ’

এ ছাড়া শর্তের মধ্যে আরও রয়েছে, সার্বক্ষণিক অবস্থান করতে হবে মাদ্রাসার ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রকার পোস্ট দিতে পারবেন না; দিলে শাস্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তাছাড়া শরীয়া পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়া যাবে না। আচার-আচরণ, চাল-চলন, পোশাক-পরিচ্ছদ তালিবুল ইলমের মানসম্পন্ন হতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা ইয়াহইয়া বলেন, ‘এ দেশের বেশিরভাগ কওমি মাদ্রাসা ভারতের দেওবন্দের আকিদায় অনুসরণ করে। বহু বছর ধরে দেওবন্দের অনুসরণ করে হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কওমি আকিদার সক্রিয়তা বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ভর্তি কার্যক্রমসহ যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।’

তিনি আরও কলেন, ‘কওমি আলেমদের কাছে রাজনৈতিক কোনো অভিলাষ নেই। যাদের কাছে রাজনৈতিক কোনো অভিযোগ নেই, রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই, তারা তাদের শিক্ষার্থীদের কখনো রাজনৈতিক অভিলাষ তথা-রাজনীতি করার জন্য উৎসাহ বা উদ্দীপনা যোগায় না। আর এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আমাদের মাদ্রাসায় রাজনৈতিক বা কোনো অরাজৈনতিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো শিক্ষার্থীকে এ মাদ্রাসায় ভর্তির অনুমতি দিয়ে থাকি না।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: