সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ইস’রায়েল-যু’ক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক প্রে’ম’

ফিলি’স্তিনিদের ওপর ইস’রায়েলের দখলদারিত্ব ও অ’ত্যাচার-নি’র্যা’তনের ঘটনায় গত ৪৯ বছরে অন্তত ৫৩বার জাতিসংঘের নিন্দাপ্রস্তাব আ’ট’কে দিয়েছে যু’ক্তরাষ্ট্র। সেখানে এবারের সহিং’সতার মধ্যেই মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মত ইস’রায়েল-বিরোধী প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে মা’র্কিন প্রশাসন।

দখলদার ইস’রায়েলের প্রতি মা’র্কিনিদের এমন ন’’গ্ন সম’র্থন চলছে বহু বছর ধরেই। তাদের সহযোগিতাতেই নিরীহ ফিলি’স্তিনিদের ওপর যুগের পর যুগ দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে হানাদাররা। জবাবে ফিলি’স্তিনিরা কোনো প্রতিবাদ করতে গেলেই সেঁটে দেয়া হচ্ছে স’ন্ত্রাসীর তকমা। অথচ ইস’রায়েলিরা গু’লি করে পাখির মতো মানুষ হ’ত্যা করলেও তাতে কোনো বিকার নেই ওয়াশিংটনের।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক যু’ক্তরাষ্ট্রের ইস’রায়েল-প্রে’মের কিছু নমুনা-

গ্রেট মা’র্চ অব রিটার্ন
১৯৪৮ সালের যু’দ্ধে বিতাড়িত ফিলি’স্তিনিরা তাদের পুরোনো বাড়িঘরে ফিরতে ২০১৮ সালের মা’র্চ মাসে ইস’রায়েলি সীমান্তবেঁড়ার কাছে তীব্র আ’ন্দোলন শুরু করেন। জাতিসংঘের হিসাবে, সেই যু’দ্ধে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি ফিলি’স্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। ফিলি’স্তিনিরা এটিকে ‘নাকবা’ বলে থাকেন।

বছরব্যাপী চলা ওই আ’ন্দোলনে স্নাইপার রাইফেল দিয়ে গু’লি চালায় দখলদার ইস’রায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এতে অন্তত ২৬৬ জন নি’হত হন, আ’হত হন ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ২০১৮ সালের ১ জুন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) একটি খসড়া নিন্দাপ্রস্তাব উত্থাপন করে। কিন্তু ইস’রায়েল-বিরোধী সেই প্রস্তাবে ভেটো দেন জাতিসংঘে নিযু’ক্ত তৎকালীন মা’র্কিন দূত নিকি হ্যালি। তার দাবি, প্রস্তাবটি ছিল একেবারেই একপাক্ষিক। গাজার সেই সহিং’সতার জন্য ফিলি’স্তিনের স্বাধীনতাকা’মী সংগঠন হামাসকে দায়ী করেন এ মা’র্কিন প্রতিনিধি।

বেআইনিভাবে জেরুজালেমকে ইস’রায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে পূর্ব জেরুজালেম ভবিষ্যৎ ফিলি’স্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হওয়ার কথা। তবে ১৯৬৭ সাল থেকে এলাকাটি দখল করে রেখেছে ইস’রায়েল।

তবে ইউএনএসসির প্রস্তাব ও আন্তর্জাতিক আইনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে কোনোভাবেই ইস’রায়েলি অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এরপরও ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জেরুজালেমকে ইস’রায়েলের একক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যু’ক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা’ম্প।

দ্বিতীয় ইন্তিফাদায় ইস’রায়েলকে সম’র্থন
দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা ফিলি’স্তিনি উত্থান শুরু হয়েছিল ২০০০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। সেদিন ইস’রায়েলের তৎকালীন বিরোধী নেতা অ্যারিয়েল শ্যারন সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে পবিত্র আল-আকসা ম’সজিদে ঢুকলে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ফিলি’স্তিনিদের মধ্যে। ঐতিহাসিক অসলো চুক্তি কার্যকর না হওয়ার হতাশা আরও উসকে দেয় ইস’রায়েলি নেতার এই আচরণ।

ফিলি’স্তিনি ভূমি দখল বন্ধে ১৯৯৩ সালে তৎকালীন পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত ও ইস’রায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইৎঝাক রবিনের মধ্যে এই চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু এরপরও ২০০০ সাল অব্দি চলে দখলদারদের আগ্রাসন। ফিলি’স্তিনি সার্বভৌমত্ব ধূলায় মিশিয়ে একের পর এক স্থাপনা গড়ে গড়ে তোলে ইস’রায়েল।

আশির দশকের শেষ ও নব্বই দশকের শুরুর দিকে হওয়া প্রথম ইন্তিফাদা অনেকটাই শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইন্তিফাদা হয়ে ওঠে সহিং’স। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ফিলি’স্তিনি সশস্ত্র সংগঠনগুলো ইস’রায়েলি বাহিনীর ওপর আক্রমণ বাড়িয়ে দেয়। চলে ইস’রায়েলি স্থাপনায় আত্মঘাতী হা’মলাও। জবাবে ফিলি’স্তিনের বেসাম’রিক মানুষ হ’ত্যা শুরু করে ইস’রায়েল।

বিবিসির হিসাবে, ওই সময় তিন হাজারের বেশি ফিলি’স্তিনি ও প্রায় এক হাজার ইস’রায়েলি প্রা’ণ হারান। নি’হতদের মধ্যে ছিলেন ৪৫ বিদেশিও।

বেসাম’রিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হা’মলার প্রতিবাদ এবং শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ২০০১ সালের ডিসেম্বরে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু স্বভাবতই তাতে ভেটো দেয় যু’ক্তরাষ্ট্র।

দখলদারিত্ব বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক আইনে অ’বৈধ হওয়া সত্ত্বেও ইস’রায়েলের ফিলি’স্তিনি ভূমি দখল সংক্রান্ত অন্তত চারটি নিন্দাপ্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যু’ক্তরাষ্ট্র।

অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অব’রুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অন্তত ২৫০টি স্থাপনায় ছয় থেকে সাড়ে সাত লাখ ইস’রায়েলি জো’রপূর্বক বসত গেঁড়েছে। এই দখলদারিত্ব আরও বেগবান হয় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইস’রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর থেকে। তার সঙ্গে মা’র্কিন প্রশাসনের স’ম্পর্কও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঘনিষ্ঠ।

দখল সংক্রান্ত ইস’রায়েল-বিরোধী প্রস্তাবে যু’ক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেয়ার শুরু বলা যায় ১৯৮৩ সালে। সবশেষ ২০১১ সালে একই ধরনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে তারা। তৎকালীন মা’র্কিন দূত সুজান রাইস জাতিসংঘের ওই প্রস্তাবে ভেটো দেন। তিনি ছিলেন ওবামা প্রশাসনের কর্মক’র্তা।

বারাক ওবামা’র প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জো বাইডেন এখন যু’ক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনিও ইস’রায়েল-প্রে’মী হিসেবে পরিচিত। তবে গাজায় ইস’রায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হ’ত্যাযজ্ঞকে সম’র্থন দিয়ে ডেমোক্র্যাট শি’বিরে বেশ তোপের মুখে পড়েছেন এ নেতা। চাপের মুখে গত বুধবার ইস’রায়েল-ফিলি’স্তিন দুই পক্ষকেই যু’দ্ধবিরতিতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মা’র্কিন প্রেসিডেন্ট। সূত্র: আল জাজিরা

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: