সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১৪ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ঈদের আগে গ্রেপ্তার ছাত্রদের মুক্তি দিতে বিশিষ্টজনদের চিঠি

ছাত্র অধিকার পরিষদসহ গ্রেপ্তার অন্যান্য ছাত্রদের ঈদের আগে জামিন দেওয়ার দাবিতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছেন দেশের ১৮ বিশিষ্টজন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও সামনের ঈদ এবং সর্বোপরি ন্যায়বিচারের স্বার্থে তারা এ দাবি জানান। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার রয়েছেন।

শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বিচারপতির কাছে দেওয়া চিঠির বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠি গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রার শাখায় হস্তান্তর করা হয়।

চিঠিতে আরও স্বাক্ষর করেন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, হাফিজ উদ্দিন খান, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক পারভীন হাসান, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, বদিউল আলম মজুমদার, নারী নেত্রী শিরিন হক, লেখক নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং জোনায়েদ সাকি।

এ চিঠিতে তিন দফা দাবি তুলে ধরে বলা হয়, গত দুই মাসে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদের ঈদের আগে জামিনপ্রাপ্তির জন্য স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। এরমধ্যে রিমান্ডে এবং করোনকালে তাদের প্রতি কোনো নিপীড়ন হচ্ছে কি-না, তা তদন্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। ডিজিটাল আইনে যার বিরুদ্ধে কটূক্তি বা মানহানি করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করতে পারবেন না এ ধরনের নির্দেশনা দিন।

সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্টজনরা বলেন, জামিন পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধা তৈরি করে এই অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এসময়ে প্রধান বিচারপতির কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে প্রয়োজনীয় ভূমিকা গ্রহণের জন্য নাগরিকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি ড. কামাল হোসেন বলেন, ছাত্রদের জামিন দেওয়া উচিত। জামিন সবারই অধিকার, জামিন পাওয়ার অধিকার সবারই আছে। বিশেষ করে ছাত্র সমাজ ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখে এসেছে। তারা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে জনমত গঠন করেন, আন্দোলন করেন। সেইগুলোকে আমরা সবসময় উৎসাহিত করেছি এবং এখনও সেটা হওয়ার কথা। অতীতে নিম্ন আদালত সাহসী ভূমিকা রেখেছেন, অনেক সময় তারা জামিন দিয়েছেন। উচ্চ আদালত পর্যন্ত আসতে হয়নি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জামিন আমাদের মানবিক ও আইনগত অধিকার। আমাদের বিচারকরা অত্যাধিকভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত, পুলিশ নিয়ন্ত্রিত। আমরা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিচারে দীর্ঘ প্রক্রিয়া সবচেয়ে বড় অত্যাচার। আজ এক মাস হয়ে গেছে আদালতে এখনও মামলা ওঠে নাই। একই ধরনের পাঁচটা মামলা দিয়ে রেখেছে। এ জায়গায় প্রধান বিচারপতির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। ঈদের আগে প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক শক্তির বলে এসব ছাত্রদের জামিনের ব্যবস্থা করতে বলেছি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ রাজনীতির শিকার। চিকিৎসকরা ভয়ে মুখ খুলছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রধান বিচারপতির কাছে দেওয়া চিঠি তুলে ধরে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, পেনাল কোডসহ বিভিন্ন আইনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের অর্ধশতাধিক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের আদালতে হাজির করা হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদালত তাদের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। দেশের করোনা পরিস্থিতি ও সামনে ঈদ সর্বোপরি ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমাদের সন্তানতুল্য এ ছাত্ররা অবিলম্বে জমিনে মুক্তি পাওয়ার অধিকারী বলে আমরা মনে করি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লেখন নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। সূত্র : সমকাল

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: