সর্বশেষ আপডেট : ৪১ মিনিট ২৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

১২০০ বছর পর গায়েবি মসজিদে হঠাৎ শোনা যায় আজানের সুর!

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজে’লার মুশুল্লী ইউনিয়নের নগরকুচুরী গ্রামে প্রায় ১২০০ বছর পূর্বের গায়েবি ম’সজিদে হঠাৎ হঠাৎই আজানের সুর শুনতে পাওয়া যায়।

যেখানে দিন-দুপুরে ভ’য়ে কেউ যেত না, এটিকে জিনের ম’সজিদ তথা গায়েবি ম’সজিদ নামেও সবাই ডাকতো। কারণ বেশি দিন হয়নি ম’সজিদটির চারপাশ ঘিরে ছিল বড় জঙ্গল ও জীব-জন্তুর আবাসস্থল।

স্থানীয়রা জানান, তারা তাদের বাপ-দাদার তিন-চার পুরুষেও জানেন না ম’সজিদটি কী’ভাবে স্থাপিত হয়েছিল। তবে মুখে মুখে এটি একটি গায়েবি ম’সজিদ নামেই পরিচিত। অনেকেই বলছেন আনুমানিক ১২০০ বৎসর পূর্বে এটি স্থাপিত হয়েছে। এটিকে জিনের ম’সজিদ তথা গায়েবি ম’সজিদ নামেও সবাই ডাকেন।

কেউ কেউ ধারণা করছেন, ওই গায়েবি ম’সজিদটি শাহ-সুলতান কমির উদ্দিন রুমী (রা.)-এর সময়কালে তাদের একজনেরই ধ’র্মীয় উপাসনালয় তথা সাধনার স্থান হিসেবে অলৌকিকভাবে স্থাপিত হয়েছিল ম’সজিদটি।

কথিত আছে, একজন বাকপ্রতিব’ন্ধী লোক জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে পড়লে ম’সজিদটির নির্মাণ কাজ দেখতে পায়, তখন সঙ্গে সঙ্গেই সে অ’সুস্থ হয়ে মা’রা যায়। এতে সবাই ধারণা করে যে বাকপ্রতিব’ন্ধী লোকটি তা দেখে ফেলায় গায়েবি ম’সজিদের বাকি কাজ বন্ধ করে দেয় জিনেরা।

এরপর বহু যুগ পেরিয়ে গেলেও সেখানে যাওয়ার কেউ চিন্তা করে না। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার কারণে ও জনবসতি বৃদ্ধি পাওয়া গাছ-পালা কে’টে ফেলে জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়। ফলে গত কয়েক মাস আগে হঠাৎই আজানের সুর ভেসে উঠে চারিদিকে এবং লোকজন দলে দলে আসে উক্ত ম’সজিদটিকে দেখতে ও জানতে।

পরে জানা গেছে, গায়েবি ম’সজিদ নামে পরিচিত অজানা প্রত্নতাত্ত্বিক এই পুরাতন ভবনে নিয়মিত নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করেছেন গ্রামের মানুষ। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাসখানেক ধরে উক্ত গায়েবি ম’সজিদটির সংস্কারসহ ম’সজিদের পাশেই একটি এতিমখানা (মাদ্রাসা) স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে।

সরজমিন দেখা যায়, বহু যুগ আগে প্লেটের মতো ১ ইঞ্চি পুরো ৭-৮ ইঞ্চি বর্গফুটের ইট দিয়ে করা হয়েছে ৩ ফুটেরও বেশি চওড়াবিশিষ্ট প্রতিটি দেওয়াল। প্রতিটি দেওয়ালের গায়ে ইস’লামী নিদর্শনের বিভিন্ন কারু-শিল্পকর্ম দেখা যায়। ম’সজিদটির একপাশে দুটি বড় খোলা দরজা এবং অ’পর দুইপাশে রয়েছে ছোট ছোট দুটি সুরঙ্গের মতো দরজা। উপরে ছাদ ও ভিতরের মেঝেটি পাকা করা হয়নি।

তবে এরচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ভিতরে প্রবেশের তিনটি রাস্তায় কোনো ধরনের আলাদাভাবে দরজা ফিটিং করার মতো কোনো অবস্থান দেখতে পাওয়া যায়নি। কিন্তু বর্তমানে এলাকাবাসী ম’সজিদের পুরাতন দেওয়ালের সঙ্গে ঘেঁষে কংক্রিটের পিলার দিয়ে উপরে টিনের ছাউনি দিয়েছেন এবং ম’সজিদের ভিতরে ও বাইরে নামাজ আদায় করতে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে পাকাকরণ করা হয়েছে। সেখানে এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ জুমা’র নামাজ আদায় করার পাশাপাশি খতমে তারাবির নামাজও আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি লাল মিয়া, রিপন মিয়া, আ. রাজ্জাক ও উজ্জ্বল মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি শুক্রবারে বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সলমানরা তাদের নিয়ত হাসিলের উদ্দেশ্যে উক্ত গায়েবি ম’সজিদে খিচুড়ি, বিরিয়ানি পাক করে থাকেন এবং গবাদি পশু-পাখিসহ নগদ দান-অনুদান দিতে দেখা যায়।

উক্ত ম’সজিদ কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান রিপন জানান, সবার সহযোগিতায় ম’সজিদটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি এখানে প্রায় ৫০ শতক জমি থাকায় বিনামূল্যে ইস’লামী শিক্ষাদান হিসেবে এতিমখানা ও নুরানি মাদ্রাসা চালু করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইফতেকার উদ্দিন ভূঁইয়া বিপ্লব জানান, গায়েবি ম’সজিদটি তথা প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়টি ধরে রাখতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেখানে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনের পক্ষ থেকে ঢেউটিন অনুদান পাওয়া গেছে এবং কি’শোরগঞ্জের মা’ওলানা আব্দুল হালিমের সহযোগিতায় কমির উদ্দিন রুমীর (রা.) নামে এতিমখানা ও নূরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসা স্থাপনের কাজ চলছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: