সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

৩৬৪ বছরের মসজিদটি এখনো আগের মতোই

প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজে’লার ঐতিহাসিক বড় শরীফুর ম’সজিদ। উপজে’লার শরীফপুর গ্রামে ১৬৫৭ সালে নির্মিত হয় একটি দৃষ্টিনন্দন ম’সজিদ। ম’সজিদটি এখনো আগের মতোই দেখতে। পৌনে ৪০০ বছরেও এটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়নি।চুন-সুরকির ম’সজিদটি দেখতে প্রতিদিনই সেখানে মানুষ ভিড় জমান। অনেকে এসে নামাজ পড়েন। তিন জে’লার মোহনায় এ ম’সজিদটির অবস্থান। পাশে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজে’লা। কিছু দূরে নোয়াখালীর চাটখিল উপজে’লা।

ম’সজিদের পেছনে রয়েছে ২৭.২৪ একর আয়তনের নাটেশ্বর দীঘি। এর মালিকানা কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ ও চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজে’লার বাসিন্দাদের। ওই দীঘিরপাড়ে রয়েছে সৈয়দ শাহ শরীফ বাগদাদি পীরের মাজার। ম’সজিদ, দীঘি ও মাজারকে ঘিরে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে বলে অ’ভিমত স্থানীয়দের।

সরেজমিন দেখা যায়, ম’সজিদের বাইরের দৈর্ঘ্য ১৪.৪৮ মিটার ও প্রস্থ ৫.৯৪ মিটার। ম’সজিদের ওপরে তিনটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজে রয়েছে পদ্মফুলের নকশা। ম’সজিদের সামনের দেয়ালে ফার্সি ভাষায় শিলালিপি রয়েছে।

সেখানে উল্লেখ আছে, জনৈক হায়াতে আবদুল করিম ম’সজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। হায়াতে আবদুল করিমের পরিচয় নিয়ে দুটি মত রয়েছে, একটি হচ্ছে- তিনি নাটেশ্বর নামের এক রাজার কর্মক’র্তা ছিলেন। আরেকটি মত হচ্ছে- তিনি সৈয়দ শাহ শরীফ বাগদাদি নামের একজন দরবেশের মুরিদ ছিলেন।

এদিকে ম’সজিদের পেছনে ২৭ বিঘা আয়তনের শান্ত জলের বড় দীঘি। সেটির পাড়ে বসলে স্নিগ্ধ হাওয়ায় ঝরে যাবে দেহের যত ক্লান্তি।

ম’সজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মোতাহার হোসেন চৌধুরী বলেন, বড় শরীফপুরের এ ম’সজিদটি দেখতে প্রতিদিনই সেখানে মানুষ আসেন। এ ম’সজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। ম’সজিদের ভিতরে-বাইরে মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ নামাজ পড়তে পারেন।

দীঘিটিও একই সময়ে খনন করা। নাটেশ্বর রাজা এটি খনন করেন বলে জানা যায়।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ জনকল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জে’লা সদর থেকে ম’সজিদটি ৪০ কিলোমিটার ও উপজে’লা সদর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ ম’সজিদের একদিকে ডা’কাতিয়া নদী, অন্যদিকে নরহ খাল। অ’পরদিকে মনোহরগঞ্জ-হাসনাবাদ সড়ক। পেছনে রয়েছে বিশাল নাটেশ্বর দীঘি। দীঘির পাড়ে মাজার শরীফ। এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান বলেন, এটি কুমিল্লা জে’লার গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন ম’সজিদ। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতায় সংরক্ষিত। তিন জে’লার মোহনায় ম’সজিদ, দীঘি ও মাজারকে ঘিরে একটি প্রত্ন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: