সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে আলোচিত রায়হান হত্যার সাড়ে ৬ মাস পর আসছে চার্জশিট

গেলো বছরের ১০ অক্টোবর দিন পেরিয়ে ভোর রাতের দিকে সিলেট নগরীর কাষ্টঘর স্যুইপার কলোনী থেকে রায়হান আহম’দ নামের এক যুবককে বন্দর বাজার পু’লিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যায় ইনচার্জ এসআই আকবর ও তার সহকারীরা। কয়েকঘন্টা চলে পাশবিক নি’র্যা’তন। পরে ১১ অক্টোবর ভোরে রায়হানের নিথর দেহ হাসপাতা’লে নিয়ে গেলে তাকে মৃ’ত ঘোষণা করে পু’লিশ।

পরদিন ১২ অক্টোবর নি’হতের স্ত্রী’ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থা’নায় মা’মলা দায়ের করেন। পরে ১৩ অক্টোবর পু’লিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে এ মা’মলার ত’দন্তের দায়িত্ব নেয় পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আইন অনুযায়ী ১২০ দিনের ভিতর মা’মলার চার্জশিট প্রদানের কথা থাকলেও দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস অ’তিক্রম হলেও এখনো এ মা’মলার চার্জশিট দিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় এই ত’দন্ত সংস্থাটি। এর ভেতর কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হলেও চলতি মাসের ভিতরেই চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের পু’লিশ সুপার খালেদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ত’দন্ত শেষ। কিছু টেকনিক্যাল বিষয় বাকি থাকায় আম’রা এগুলো শেষ বারের মতো যাচাইবাছাই করছি। এ মাসের ভিতরেই চার্জশিট দেওয়া হবে।’

এদিকে ১২০ দিনের ভিতর চার্জশিট দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইন বিজ্ঞরা। সিলেট জে’লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইস’লাম বলেন, দ’ণ্ডবিধি অনুযায়ী ১২০ দিনের ভিতর চার্জশিট দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দিতে না পারায় আম’রা হতবাক। কারণ আম’রা মনে করেছিলাম পিবিআই একটি পরিক্ষিত ইউনিট। সে ক্ষেত্রে তারা নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দিতে না পারা হতাশার।’

অ’পরদিকে চাঞ্চল্যকর এ মা’মলার চার্জশিটের জন্য সিলেটের মানুষ অধির আগ্রহে অ’পেক্ষা করলেও কয়ে দফায় বাড়ানো হয়েছে সময়। এমনকি কবে এ মা’মলার চার্জশিট কবে দেওয়া হবে কিংবা কতজনকে অ’ভিযু’ক্ত করা হচ্ছে সে বিষয়টি নিয়েও আছে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ। তাছাড়া ঘটনার পর নি’র্যা’তনের দৃশ্য ধারণ করা সিসিটিভির হার্ডডিস্ক গায়েব করে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া নোমানকেও এখনো গ্রে’প্তার করতে পারেনি পু’লিশ। এমন অবস্থায় নোমানকে চার্জশিটে অ’ভিযু’ক্ত করা হবে কি না তা নিয়েও আছে প্রশ্ন।

এমন অবস্থায় সন্দিহান নি’হত রায়হান আহম’দের মা সালমা বেগম। তিনি বলেন, ‘সবাইকে গ্রে’প্তার করা হলো, কিন্তু নোমানকে এখনো গ্রে’প্তার করা হলো না কেন তা নিয়ে আমি সন্দিহান। নোমান যে কোথায় পালাল তার তথ্য এখন বের করতে পারলো না পিবিআই। তাকে ধরতে তাদের এতো গাফিলতি কেন এটা আমি বুঝে উঠতে পারছি না।’

তবে নোমানের ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে পারছে না পু’লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা বলছে, ‘চার্জশিট না দেওয়া পর্যন্ত এখনই নোমানের ব্যাপারে কিছু জানানো যাচ্ছে না। কিংবা এ মা’মলার চার্জশিটে কতজনকে অ’ভিযু’ক্ত করা হবে সে ব্যাপারেও কিছু আপাতত জানানো যাচ্ছে না।’

এদিকে চার্জশিট দিতে সময়ক্ষেপণের কারণে হতাশ সালমা বেগম আছেন শংকায়। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ আন চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ততক্ষণ কিছুই বুঝতে পারছি না। এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ করে করে পিবিআই কেবল সময় নিচ্ছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলেই বলে এই সপ্তাহে হয়ে যাবে, আগামী সপ্তাহে হয়ে যাবে। কিন্তু তারা চার্জশিট দিচ্ছে না।’

তবে চার্জশিট দিতে বিলম্বের কারণ হিসেবে আকবরের মোবাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঠিক যাচাই বাছাইয়ের বিষয় উল্লেখ করছেন পিবিআই সিলেটের পু’লিশ সুপার খালেদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আকবরের মোবাইল থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এখন কেবল এগুলোর একটু যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকজন সাক্ষী যাচাই বাছাইয়ের প্রয়োজন ছিলো। আর করো’নার কারণেও কিছু বিলম্ব হয়েছে। তবে সকল কিছু শেষ আশা করছি এ মাসেই চার্জশিট দেওয়া হবে।’

রায়হান হ’ত্যাকা’ণ্ডের পরদিন ১২ অক্টোবর তার স্ত্রী’ তাহমিনা আক্তার তান্নী বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করলে ত’দন্তের প্রেক্ষিতে বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়ির ৯ পু’লিশ সদস্যের বি’রুদ্ধে শা’স্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। এখন পর্যন্ত ৫ পু’লিশ সদস্যসহ ৬ জনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। তারা সবাই কারাগারে আছেন। গ্রে’প্তার ৬ জন হলেন- বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, টুআইসি এসআই হাসান আলী, এএসআই আশেক ই এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও ওইদিন ছিনতাইয়ের অ’ভিযোগকারী একজন। তাছাড়া বরখাস্ত অবস্থায় এসআই আব্দুল বাতেন ভুঁইয়া, এএসআই কুতুব আলী ও প্রত্যাহার অবস্থায় কনস্টেবল মো. সজীব হোসেনকে পু’লিশ লাইন্সে সংযু’ক্ত করা হয়েছে।

অ’পরদিকে এ হ’ত্যা মা’মলার অনেক অগ্রগতি এবং চার্জশিট প্রদান সময়ের ব্যপার হলেও আকবরকে পালাতে সহায়তাকারী কথিত সাংবাদিক নোমানকে আ’ট’ক করতে পারেনি পু’লিশ।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়িতে নি’র্যা’তনে গুরুতর আ’হত হন রায়হান নামের ওই যুবক। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আ’হত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক ই এলাহীসহ পু’লিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতা’লে মা’রা যান রায়হান।

ঘটনার পর পু’লিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপি’টুনিতে রায়হান নি’হত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পু’লিশি নি’র্যা’তনে প্রা’ণ হারান রায়হান।

যদিও পু’লিশ হেফাজতে মৃ’ত্যু নিরোধ আইনকে মূল ধরেই মা’মলার কার্যক্রম চলছে বলে বলে জানালেন পিবিআই সিলেটের পু’লিশ সুপার খালেদুজ্জামান। চার্জশিটের ব্যাপারে পরবর্তীতে প্রেস কনফারেন্স করে সকল তথ্য জানানো হবে বলে জানালেন তিনি।

তবে পু’লিশ হেফাজতে মৃ’ত্যু নিরোধ আইনে যথেষ্ট ফাঁক থাকায় অ’প’রাধীরা সুবিধা পেতে পারে। এজন্য পু’লিশ হেফাজতে মৃ’ত্যু নিরোধ আইনের পাশাপাশি দ’ণ্ডবিধি যু’ক্ত করার ব্যাপারে তাগিদ দিলেন সিলেট জে’লা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইস’লাম।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: