সর্বশেষ আপডেট : ২৯ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মুখ খুলছেন মামুনুল হক, খোলাসা করেছেন বিয়ে বিষয়ে

রি’মান্ডে মুখ খুলতে শুরু করেছেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মা’ওলানা মামুনুল হক। স্বীকারোক্তি দিয়েছেন একাধিক বিয়ে বিষয়ে।

কথা বলেছেন সেদিন রিসোর্ট’কা’ণ্ড নিয়ে। সোমবার (১৯ এপ্রিল) আ’দালতের নির্দেশে মামুনুল হককে সাতদিনের রি’মান্ডে নেয় পু’লিশ। ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে পু’লিশের তেজগাঁ বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, মামুনুলকে নিরাপত্তার স্বার্থেই কেবল গোয়েন্দা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে অফিসাররা গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

মঙ্গলবার তিনি নিজেই জিজ্ঞাসাবাদে থাকবেন বলেও জানান।

জানা যায়, প্রথম বিয়ে ছাড়া দুই জান্নাতকেই চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করেছিলেন। কারণ দেখিয়েছেন হেফাজতের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। আর সেই দুই নারীই ডিভোর্সি।

মামুনুল জানান, রয়েল রিসোর্টে শুরুতেই স্বীকার করলে প্রথম স্ত্রী’ আ’মেনা তৈয়ব বড় ধরনের কা’ণ্ড ঘটিয়ে ফেলতেন বলে তার ধারণা ছিল। এ কারণে তাৎক্ষণিক স্বীকার করেননি।

জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনই অন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যের সঙ্গে একথা বলেন মামুনুল। তবে কথিত দুই বিয়ের সাক্ষীদের শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকবে পু’লিশ। একই সঙ্গে রি’মান্ডে তাকে সহিং’সতায় উসকানি দেওয়ার অ’ভিযোগ স’ম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি অন্য বিষয়েও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা যায়।

ত’দন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেন, এখন পর্যন্ত মামুনুল প্রথম বিয়ে ছাড়া বাকি দুই বিয়ের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এমনকী’ বিয়ের সাক্ষীদের নাম প্রকাশের ব্যাপারেও গড়িমসি করছেন। দ্বিতীয় জান্নাতের ভাই শাহ’জাহানের জিডি নিয়ে আম’রা কাজ করছি।

রি’মান্ডের প্রথম দিনে গোয়েন্দাদের নানা তথ্য দিয়েছেন মামুনুল। তার ভাষ্য- যে দু’টি বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ওই দুই নারীর সঙ্গে অনেক দিন ধরে স্বামী-স্ত্রী’ হিসেবে বসবাস করে আসছেন তিনি। তবে বিয়ে-সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র তার কাছে নেই। কাবিনও নেই। ওই দুই নারীর ডিভোর্স হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাদের দিকে এগিয়ে যান তিনি। একজনকে মোহাম্ম’দপুরের একটি মাদ্রাসায় চাকরিও দিয়েছেন।

কাগজপত্র ও কাবিন না থাকা সত্ত্বেও বিয়ে কী’ভাবে বৈধ হলো- এমন প্রশ্নের উত্তরে অসংলগ্ন কথা বলেছেন মামুনুল হক। এ দিকে গতকাল পর্যন্ত তার কোনো স্বজন, সহকর্মী বা অনুরাগী তার খোঁজও নেননি। ত’দন্তের সঙ্গে যু’ক্ত একাধিক পু’লিশ কর্মক’র্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

মোহাম্ম’দপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে রোববার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে মামুনুল হককে গ্রে’প্তার করে ঢাকা মহানগর পু’লিশের তেজগাঁও বিভাগ।

মা’মলার ত’দন্ত তদারক কর্মক’র্তা পু’লিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই মামুনুল হকের কাছে তার কথিত বিয়ে এবং হ’জরত মুহাম্ম’দ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গ করার বিষয় জানতে চাওয়া হয়। বিয়ের ব্যাপারে তিনি নিজের মতো ব্যাখ্যা দেন। তবে এটা স্বীকার করেছেন, এসব বিয়ের কোনো আইনগত প্রমাণ তার কাছে নেই। অন্য প্রশ্নে চুপ থাকেন তিনি।

মামুনুলকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সরাসরি যু’ক্ত অ’পর একজন কর্মক’র্তা জানান, তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, হেফাজতের অধিকাংশ কর্মসূচি ঘিরে কেন তা’ণ্ডব ও নৃ’শংস হা’মলার ঘটনা ঘটে। ইস’লাম তো এসব সম’র্থন করে না। সংগঠনটির নাম যখন হেফাজতে ইস’লাম তখন কেন এর নেতাকর্মীরা এসব বর্বরতা এড়াতে আরো সতর্ক থাকেন না। এ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, আমি যেহেতু নেতা, এর দায় আমা’রও রয়েছে। আমাকে এর দায় নিতে হবে। তবে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনও তো সংঘাতে জড়ায়। ’

২০১৩ সালে হেফাজতের কর্মসূচিতে জ্বালাও-পোড়াও, পবিত্র কোরআন শরিফে আ’গুন দেওয়া, বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে এর উত্তরে স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি মামুনুল হক। সংশ্নিষ্ট একজন কর্মক’র্তা বলেন, এরই মধ্যে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ভেতরে-বাইরে তিনি দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী- এটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে কথিত বিয়ের কাহিনী ফাঁ’স হওয়ার পর থেকে ঘরে-বাইরে চাপে আছেন তিনি। হেফাজতের ভেতরেও একটি অংশ তার কর্মকা’ণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ। নারায়ণগঞ্জকা’ণ্ডের পর প্রথম স্ত্রী’সহ নিজের পরিবারের সদস্যদের কারও কারও কাছে বিরাগভাজন হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে বাসায়ও যাননি তিনি।

পু’লিশের অ’পর একটি সূত্র জানায়, মোহাম্ম’দপুরের যে মা’মলায় মামুনুলকে রি’মান্ডে নেওয়া হয়েছে, সে-সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ গতকাল জ’ব্দ করেছেন তারা। মূলত তাবলিগ জামাতকে কেন্দ্র করে জুবায়ের ও মোহাম্ম’দ সাদ কান্ধালভি গ্রুপের মধ্যে ওই মা’রামা’রি এবং সং’ঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। মামুনুল ছিলেন জুবায়েরপন্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মক’র্তা বলেন, মামুনুল অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। হেফাজতের অর্থনৈতিক প্রবাহ কোথা থেকে আসতো এই প্রশ্নটি তিনি কৌশলে এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে এটি হয়তো তিনি পারবেন না। মাত্র তো রি’মান্ড পেলাম। দেখা যাক।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: