সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টায় হেফাজত

সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে কোণঠাসা হেফাজতে ইস’লামের শীর্ষ নেতারা সমঝোতার চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হেফাজতের পাঁচ শীর্ষ নেতা বৈঠক করেছেন। হেফাজতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব মা’ওলানা নূরুল ইস’লাম জেহাদী। হেফাজতের নেতারা চাইছেন, আর কোনও নেতাকর্মীকে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রে’প্তার না করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও হেফাজতে ইস’লামের মহাসচিব মা’ওলানা নূরুল ইস’লাম জেহাদীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেফাজতের একজন মধ্যম সারির নেতা  বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হেফাজতে ইস’লামের মহাসচিব নূরুল ইস’লাম জেহাদীর নেতৃত্বে তিন জন সহকারী মহাসচিব ও একজন নায়েবে আমির ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা হেফাজতের নির্দোষ ব্যক্তিদের মুক্তি, বয়স্কদের হয়’রানি না করা, পু’লিশের গু’লিতে নি’হতদের ক্ষতিপূরণ, কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়াসহ কয়েকটি দাবি জানান।

হেফাজতের ওই নেতা  বলেন, সরকার হেফাজতকে বিরোধী দল মনে করে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। যেভাবে হেফাজতের নেতাকর্মীদের গ্রে’প্তার করা হচ্ছে তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হতে পারে। এছাড়া হেফাজতের অরাজনৈতিক আ’ন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গিয়ে পরিস্থিতি খা’রাপ করার চেষ্টা করছে। সরকারকে আম’রা এই বার্তাটিই দিতে চেয়েছি।’

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নাম প্রকাশ করে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। কারণ হিসেবে একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মক’র্তা জানান, বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের বি’রুদ্ধেও একাধিক মা’মলা রয়েছে। একদিকে গ্রে’প্তার অ’ভিযান, আরেকদিকে এজাহারভুক্ত আ’সামিদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সরাসরি বক্তব্য দেয়াটা সমীচীন হবে না বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মক’র্তা।

যোগাযোগ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কা’মাল  বলেন, ‘তাদের সমঝোতার প্রস্তাবের বিষয়টি আমা’র জানা নেই। আমাদের কাছে কেউ এ ধরনের প্রস্তাব নিয়েও আসেনি। হেফাজতে ইস’লামের মধ্যে যারা সহিং’সতার সঙ্গে জ’ড়িত তাদের বি’রুদ্ধে যেভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। আইন ভঙ্গকারীদের সঙ্গে সমঝোতার কোনও প্রশ্নই আসে না।’

২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত হেফাজতে ইস’লাম প্রথম আলোচনায় আসে ধ’র্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতি ও নারী উন্নয়ন নীতির বিরোধিতা করে। ২০১৩ সালে হেফাজত ব্লগারদের বি’রুদ্ধে আ’ন্দোলনের পাশাপাশি ১৩ দফা দাবি জানায়। ওই বছরের ৫ মে শাপলা চত্বরে সমাবেশের নামে ব্যাপক তা’ণ্ডব চালায় হেফাজতে ইস’লামের নেতাকর্মীরা। এরপর ধীরে ধীরে হেফাজতে ইস’লামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হেফাজতের আমির আহম’দ শফীর মৃ’ত্যুর পর সংগঠনটির ওপর সরকারের যে নিয়ন্ত্রণ ছিল তা নষ্ট হয়ে যায়। হেফাজতের নতুন আমির মা’ওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ শীর্ষ নেতারা কথায় কথায় সরকারের বিরোধিতা করতে থাকে।

গত বছরের নভেম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে বিরোধিতা করার পর এই বিষয়টি সামনে আসে। এরপর এ বছরের ২৬ মা’র্চ স্বাধীনতার ৫০ বছর ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী’ উপলক্ষে ভা’রতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা করে আ’ন্দোলনের নামে তা’ণ্ডব চালায় হেফাজতে ইস’লাম। তখনও হেফাজতের শীর্ষ নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ না করেই একাধিক মা’মলা দায়ের করা হয়। তবে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে হেফাজতের প্রভাবশালী নেতা মা’ওলানা মামুনুল হক এক নারী সঙ্গীসহ আ’ট’ক হলে নড়েচড়ে বসে সরকার।

হেফাজতের একজন মধ্যম সারির নেতা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘মামুনুল হকের বিষয়টিতে সরকার সুযোগ নিয়েছে। তার ব্যক্তিগত বিষয়টিকে সামনে এনে হেফাজতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আম’রা কখনোই সরকার উৎখাতের চেষ্টা করিনি। আমাদের সাংগঠনিক মতাদর্শ থেকে আম’রা আ’ন্দোলন করে আসছিলাম।’

ওই হেফাজত নেতার ভাষ্য, ‘এখন যেভাবে হেফাজতের বি’রুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রে’প্তারি অ’ভিযান শুরু হয়েছে, তাতে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না করে উপায় নেই। এ জন্য শীর্ষ নেতারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। হেফাজত আপাতত আর কোনও কর্মসূচি দেবে না—এই শর্তে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।’

কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মক’র্তারা বলছেন, হেফাজতকে আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তারা আগে তো অনেক তা’ণ্ডব চালিয়েছেই, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে যা করেছে তাতে তাদের বি’রুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়ার কোনও বিকল্প নেই। সহিং’সতার ঘটনায় জ’ড়িত প্রত্যেকের বি’রুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পু’লিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাতেই হেফাজতের মধ্যম ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ৯ জনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ রবিবার (১৮ এপ্রিল) মোহাম্ম’দপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রে’প্তার করা হয় হেফাজতের প্রভাবশালী নেতা মা’ওলানা মামুনুল হককে। সোমবার তাকে ৭ দিনের রি’মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পু’লিশ। এর আগে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবসহ আরও কয়েকজনকে গ্রে’প্তার করা হয়।

গোয়েন্দা কর্মক’র্তারা বলছেন, ইতোমধ্যে তারা হেফাজতের ৩০ জন সক্রিয় নেতার একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এরমধ্যে কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। বাকিদের গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের বি’রুদ্ধে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একাধিক মা’মলা রয়েছে। মা’মলার এজাহারভুক্ত আ’সামিদের গ্রে’প্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: