সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৯ মে ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

বাংলাদেশে বসে লন্ডন প্রবাসীদের সাথে অ’ভিনব কায়দায় তরুনীর প্রতারণা

একটি প্রতারকচক্র বাংলাদেশ থেকে যু’ক্তরাজ্য প্রবাসীদের মোবাইল ফোন হ্যাক করে অ’ভিনব কায়দায় হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তারা প্রথমে প্রবাসীদের মোবাইল ফোন হ্যাক করে কন্টাক্ট লিস্ট থেকে সকল নাম্বার নিয়ে নেয়। এরপর ইমোর মাধ্যমে একটির পর একটি নাম্বারে কল করে অ’ভিনব কায়দায় হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। সম্প্রতি যু’ক্তরাজ্যে এ ধরনের একাধিক প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।

প্রতারনার শিকার একজন হলেন পূর্ব লন্ডনের ডেগেনহ্যাম ইস্টের ম’দীনা ফাউন্ডেশন ম’সজিদের ট্রেজারার মোঃ সাদ উদ্দিন। সা’প্তাহিক দেশ এর কাছে তাঁর প্রতারিত হওয়ার কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ১০ এপ্রিল শনিবার দুপুরে তিনি জোহরের নামাজ পড়তে ম’সজিদে যান। নামাজে দাঁড়ানোর সাথে সাথে তাঁর ফোনে বারবার কল আসতে থাকে। তিনি তখন মোবাইলটি সাইলেন্টে রেখে দেন। এরপর নামাজ শেষে ঘরে ফিরে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখতে পান অনবরত কল আসছে। শামসুল নামক তাঁর এক বন্ধুর নাম থেকে ইমোতে কল আসছে। তিনি কলটি রিসিভ করেন। তখন ওপাশ থেকে ভেসে আসে মহিলা কণ্ঠ। কলদাতা ব্যক্তি নিজেকে শামসুলের স্ত্রী’ বলে পরিচয় দেন। বাংলাদেশে তাঁদের এক আত্মীয় গুরুতর অ’সুস্থ। হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন আছেন। তাই চিকিৎসার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ৪শ পাউণ্ড বিকাশ করে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। সাদ উদ্দিন শামসুলের স্ত্রী’র কণ্ঠের সাথে পরিচিত না হলেও যেহেতু বন্ধুর স্ত্রী’ পরিচয় দিয়েছেন তাই টাকা পাঠাতে মনস্থ করেন। কিন্তু কলদাতা ব্যক্তির আরো কিছু কথাবার্তা ও তাড়াহুড়ো ভাব দেখে তাঁর কিছু স’ন্দেহ হয়। তাই তিনি শামসুলের সাথে কথা বলতে চান। মহিলা ফোনটি একজন পুরুষের হাতে দেন। ওপাশ থেকে পুরুষ কণ্ঠে শামসুল পরিচয়ে সাদ উদ্দিনের সাথে একজন কথা বলে। দুই একটি কথা বলার সাথে সাথে সাদ উদ্দিন বুঝতে পারেন এই কণ্ঠ শামসুলের নয়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন প্রতারকচক্রের খপ্পরে পড়েছেন। এরপর লাইন কে’টে দেন।

এদিকে সাদ উদ্দিন প্রতারণা থেকে বাঁচলেও প্রতারিত হোন তার বন্ধু আক্সব্রিজের বাসিন্দা আব্দুল মুমিন। বাংলাদেশ থেকে ওই প্রতারক আব্দুল মুমিনের মোবাইলে কল করে নিজেকে সাদ উদ্দিনের স্ত্রী’ পরিচয় দিয়ে কী’ভাবে ৪০০ পাউন্ড হাতিয়ে নেয় তার বর্ণনা দিয়েছেন সা’প্তাহিক দেশকে। তিনি বলেন, ১০ এপ্রিল শনিবার আড়াইটার দিকে আমা’র ফোনে একজন মহিলা ফোন করে জানান (সিলেটি ভাষায়), তিনি সাদ উদ্দিন সাহেবের স্ত্রী’। সাদ উদ্দিন একটি হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন। তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু টাকা না থাকায় হাসপাতা’লের বিল পরিশোধ করতে পারছেন না। তাই জরুরী ভিত্তিতে বিকাশ নাম্বারে ৪শ পাউন্ড পাঠাতে অনুরোধ করেন। আব্দুল মুমিন সরল বিশ্বা’সে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেন্ডওয়েব এর মাধ্যমে ৪শ পাউন্ড প্রেরণ করেন। বাংলাদেশী টাকায় ৪৫ হাজার ৭০০ টাকা হয়। তিনি যে বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠান তা হচ্ছে ০০৮৮ ০১৭৯৮ ২৩৩ ৯৯৬। নাম রুনা বেগম। পাঠানোর পর ফোন করে জানতে চান টাকা পেয়েছেন কিনা। জবাবে মহিলা বলেন, বললাম ৮০০ পাউন্ড পাঠানোর জন্য, আপনি ৪০০ পাউন্ড পাঠালেন কেন? তখন আব্দুল মুমিনের কিছুটা স’ন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাদ উদ্দিনকে ফোন করেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কিন্তু যেহেতু তিনি ততক্ষনে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন তখন আর করার কিছু নেই।

সাদ উদ্দিন আরো জানান, ওই প্রতারক মহিলা তাঁর মোবাইল ফোন হ্যাক করে একের পর এক আত্মীয় স্বজনের নাম্বারে কল করতে থাকে। দুবাইয়ে বসবাসরত তাঁর জামাতা ফোন করে বলেন, তাঁর কাছেও এক মহিলা ফোন দিয়ে নিজেকে তাঁর শাশুড়ি পরিচয় দিয়ে বলেন, তোমা’র শশুর অ’সুস্থ। জরুরী ভিত্তিতে বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠানোর দরকার। এরপর কুয়েত থেকে ফোন দেন তার ভাতিজা মাখন। তিনিও একই কথা বলেন। লন্ডনের চ্যাডওয়েলহীথ থেকে কল করেন তার এক ভাগিনা। প্রতারকচক্রের কা থেকে তিনিও কল পেয়েছেন বলে জানান। তবে তারা কেউ টাকা পাঠান নি।

এদিকে অনুরূপ আরো একটি প্রতারণার ঘটনা ঘটে ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে। একই কায়দায় টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ডেগেনহ্যাম ম’দীনা ফাউন্ডেশন ম’সজিদের সাবেক ডেপুটি ই’মাম শামসু মিয়ার কাছ থেকে। সা’প্তাহিক দেশকে তিনি জানান, ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জোহরের জামাতের পুর্ব মুহূর্তে আমা’র মোবাইলে একটি কল আসে। ওপাশ থেকে মহিলা কণ্ঠে একজন বলেন তিনি মুফতি আব্দুল মালিক সাহেবের স্ত্রী’। বাংলাদেশে তাদের এক আত্মীয় হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ডাক্তার তাকে রিলিজ করেছে। কিন্তু টাকা না থাকায় রোগী নিয়ে যেতে পারছেন না। জরুরী ভিত্তিতে সাড়ে ৪শ পাউন্ড পাঠাতে হবে। মুফতি আব্দুল মালিক সাহেব ম’সজিদে যাওয়ার পথে। তিনি সাড়ে ৪শ টাকা পকে’টে নিয়ে গেছেন। ম’সজিদে পৌঁছেই তিনি দিয়ে দেবেন। যেহেতু জরুরী তাই তিনি যেন নামাজে দাঁড়ানোর আগেই সাড়ে ৪০০ পাউণ্ড পাঠিয়ে দেন। শামসু মিয়া বলেন, নামাজ শুরু হয়ে গেছে। এখন কিছু করতে পারবো না। নামাজ পরে দেখবো। নামাজ শেষ করার পর মেবাইল খুলে দেখতে পারেন তখনও একটার পর একটা কল আসতেই আছে। তখন তিনি ফোন রিসিভ করলে ওপাশ থেকে মহিলা বলেন, আপনি কি এখনও টাকা পাঠাননি। তাড়াতাড়ি পাঠান। তখন সামসু মিয়ার স’ন্দেহ হয় এবং তিনি মুফতি আব্দুল মালিককে ফোন করে জানতে চান তাঁর স্ত্রী’ কি তাঁকে ফোন দিয়েছেন। তখন আবদুল মালিক নিশ্চিত করেন, তাঁর স্ত্রী’ কাউকে কল করেন নি। তিনি তাকে সতর্ক করে বলেন, এসব প্রতারণা। তিনি জানান, দুইদিন আগে প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এক প্রতারক।

সাদ উদ্দিন বলেন, নিশ্চয় এই প্রতারকচক্র লন্ডন প্রবাসীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার আছে। তাই বাংলাদেশ পু’লিশ চাইলে তাদের খুঁজে বের করে গ্রে’প্তার করতে পারে। তিনি তাঁর ঘটনাটি ত’দন্ত করতে বাংলাদেশের আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর প্রতি আহবান জানান। সৌজন্যঃ সা’প্তাহিক দেশ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: