সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

দেশে করোনায় বেশি আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছেন যেসব বয়সী মানুষ

দেশে করো’নায় আ’ক্রান্ত ৭ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় চার লাখ যুবক, যাদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। আর এ পর্যন্ত যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ কোভিড-১৯ রোগে মা’রা গেছেন, তাদের ৮ হাজারের বেশির বয়স পঞ্চাশের বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুবকরা বাইরে বের হচ্ছে বেশি, তাই সংক্রমিতও বেশি হচ্ছে। আর নানা শারীরিক জটিলতার কারণে বয়স্কদের মৃ’ত্যুর হার বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে গত বছরের মা’র্চে প্রাদুর্ভাবের পর বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ৭ লাখ ৭ হাজার ৩৬২ জনের দেহে করো’নাভাই’রাস শনাক্ত হয়েছে। মা’রা গেছেন ১০ হাজার ৮১ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আ’ক্রান্তদের সবচেয়ে বেশি ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর। সংখ্যার হিসাবে তা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৪ জন।

এদের মধ্যে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশের (এক লাখ ৯৪ হাজার ৭৫) বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৭ দশমিক ১ শতাংশ বা এক লাখ ৯০ হাজার ৫৫৯ জন।

শনাক্ত রোগীদের ২ দশমিক ৯ শতাংশের বয়স ১০ বছরের কম। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের ১১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

করো’নাভাই’রাস আ’ক্রান্ত হয়ে যে ১০ হাজার ৮১ জন মা’রা গেছেন, তাদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষই ৮০ দশমিক ৮৯ শতাংশ অর্থাৎ, ৮ হাজার ১৫৫ জন। মোট মৃ’ত্যুর ৫৬ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্থাৎ ৫ হাজার ৬৭৫ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বয়স্কদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, সারা’বিশ্বেই বয়স্কদের মৃ’ত্যুর হার বেশি।

তিনি বলেন, যাদের কোম’র্বিডিটি থাকে, তারা করো’নাভাই’রাসে বেশি সাফার করে এবং তাদের মৃ’ত্যুর সংখ্যাও বেশি। বাংলাদেশে বয়স্কদের অনেকেই জানেই না তার ডায়াবেটিস আছে, হাইপারটেনশন আছে। এ কারণে আ’ক্রান্ত হওয়ার পর বাসায়ই জটিলতা তৈরি হয়ে যায়। হাসপাতা’লে নিয়ে আসার পর আসলে কিছু করার থাকে না।

হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতা’লের এই পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, যারা মা’রা যাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশের বয়স যেমন ৬০ এর বেশি, ঠিক তেমনি অধিকাংশের কিন্তু একাধিক রোগ রয়েছে।

বয়সীদের মৃ’ত্যুর বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করেন বলেন, ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের কথা না বলে আম’রা যদি বলতাম, যেসব মানুষের শরীরে প্রতিরোধী ব্যবস্থা কমে গেছে এবং অন্যান্য রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ র’ক্তচাপ, ক্যান্সার, ব্রঙ্কিওল অ্যাজমা রয়েছে এবং একই সঙ্গে শরীরের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে, সেই মানুষ-ই বেশি মা’রা যাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ডা. বে-নজির আহমেদ মনে করেন, কম বয়সে শরীর চর্চার মতো অভ্যাসগুলো না থাকায় বয়স্করা বেশি মা’রা যাচ্ছেন করো’নাভাই’রাসে।

তিনি বলেন, অনেক দেশ আছে যেখানে ৬০ বা তার বেশি বয়সে জটিল রোগ হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায়, ৩০ বছরের পরেই বহু মানুষই উচ্চ র’ক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে ভুগছে। অনেকে ডায়াবেটিসে আ’ক্রান্ত হচ্ছে অ’পেক্ষাকৃত কম বয়সে। আম’রা শরীর চর্চা করি না। শরীরচর্চা করলে শক্তিমত্তা বেড়ে যায়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ভালো থাকে। সেটা আমাদের দেশে খুব কম হয়। আমাদের দেশে বয়স্ক মানুষেরা হয়তো হাঁটাহাঁটি করে বা ডায়াবেটিস যাদের রয়েছে, তারা হাঁটাহাঁটি করে, কিন্তু আমাদের কালচারে নিয়মিত ব্যায়াম করার বিষয়টি নেই।

তবে দেশে করো’নাভাই’রাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে অ’পেক্ষাকৃত তরুণরা যে বেশি সংক্রমিত হচ্ছে, সেটাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই পরিচালক।

তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে হাসপাতা’লে ভর্তির সংখ্যা বেশি। তার মানে তারা মা’রাত্মকভাবে আ’ক্রান্ত হচ্ছে। তবে তাদের মৃ’ত্যুহার কম।

ডা. মুশতাক বলেন, যুবকরা নানা কাজে বাসার বাইরে বের হয়। তারা সচল জনগোষ্ঠী, তাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁ’কি বেশি।

যুবকদের মাধ্যমে বাড়ির বয়স্কদের আ’ক্রান্ত হওয়ার ঝুঁ’কি বেশি থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বাসার বয়স্করা যারা একদিনও বাইরে বের হয় না, তারাও আ’ক্রান্ত হচ্ছে যুবকদের মাধ্যমে। যুবকরা জানেও না তাদের দ্বারা বয়স্করা আ’ক্রান্ত হচ্ছে। এ কারণে যুবসমাজের চলাফেরায় সাবধানতা অবলম্বন করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় আরও জো’র দিতে হবে।

এদিকে লি’ঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে মৃ’তদের ৭৪ ভাগই পুরুষ।

বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, মোট মৃ’ত ১০ হাজার ৮১ জনের মধ্যে ৭ হাজার ৪৯৯ জনই পুরুষ এবং ২ হাজার ৫৮২ জন নারী। অর্থাৎ মৃ’তদের শতকরা ৭৪ ভাগ পুরুষ এবং ২৬ ভাগ নারী।

পুরুষের মৃ’ত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, পুরুষ বাসার বাইরে বেশি বের হন, এটাই পুরুষ মৃ’ত্যু বেশি হওয়ার কারণ নয়, এর পেছনে অন্য কারণ রয়েছে। সেটা হচ্ছে হরমোন। যে হরমোন নারীদের আছে, কিন্তু পুরুষের নাই। এই হরমোনগুলো ভাই’রাসটাকে সংক্রমণে বাধা দেয়। এই হরমোন থাকার ফলে এক ধরনের ইমিউনিটি তৈরি হয় এবং ভাই’রাসকে প্রতিরোধ করে। সে কারণেই বিশ্বজুড়েই পুরুষের তুলনায় নারীর সংক্রমণ ও মৃ’ত্যু দুটোই তাৎপর্যপূর্ণভাবে কম।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 241
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    241
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: