সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ব্রিটেনে এক চতুর্থাংশ মানুষ রাজতন্ত্রের অবসান চায়

প্রিন্স ফিলিপ মা’রা যাওয়ার পর সারা পৃথিবীর মানুষ শোক প্রকাশ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সার্বিকভাবে রাজপরিবারের প্রতিও সম’র্থন জানিয়েছেন অনেকে।

তবে প্রিন্স ফিলিপের মৃ’ত্যুতে শোকাহত ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি বহু মানুষের সহানুভূতি থাকলেও ব্রিটেনের সব মানুষই কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজতন্ত্রের পক্ষে নয়।

প্রশ্ন করা হলে বেশিরভাগ মানুষ বলেন, তারা একটি রাজপরিবারের যে ঐতিহ্য এবং প্রতীকী’ তাৎপর্য সেটিকে গুরুত্ব দেন। এটি না থাকলে তারা দুঃখ পাবেন। কিন্তু ব্রিটিশ জনগণের একটি বিরাট অংশ আবার সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে দেখতে চান।

গতমাসে জ’রিপ সংস্থা ইউগভ একটি জ’রিপ চালিয়ে দেখেছে ব্রিটেনের ৬৩ শতাংশ মানুষ চায় ভবিষ্যতেও যেন রাজতন্ত্র অব্যাহত থাকে। কিন্তু প্রতি চারজনের মধ্যে একজন বলেছেন, তারা রাজতন্ত্রের অবসান চান এবং একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে দেখতে চান। এই জ’রিপে প্রতি দশজনে একজন এ বিষয়ে কোন পক্ষেই মতামত দেননি।

ব্রিটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বয়স এখন ৯৪ বছর। গত প্রায় এক হাজার বছর ধরে কোন না কোন ভাবে ব্রিটেনে তাদের শাসন চালু আছে। মাঝখানে একবারই মাত্র এতে ছেদ ঘটেছিল, সপ্তদশ শতকে ইংল্যান্ডের গৃহযু’দ্ধের পাঁচ বছর।

ব্রিটেনে রাজা বা রানির বেশ কিছু সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেমন পার্লামেন্টের তৈরি আইনে সই করা, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা এবং পার্লামেন্টের অধিবেশন ডা’কা। কিন্তু রাজতন্ত্রের অনেক ক্ষমতাই এখন খর্ব করা হয়েছে।

রানি এলিজাবেথ একই সঙ্গে কমনওয়েলথের সদস্য ৫৪টি দেশেরও রানি। এই জোট গড়ে উঠেছে একসময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন দেশগুলোকে নিয়ে।

ডার্বির বাসিন্দা কার্সটেন জনসন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মক’র্তা। তিনি বলেন, ‌‌‌আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আমাদের আর রাজতন্ত্রের দরকার নেই। আমি বুঝতে পারি না এটা রেখে লাভটা কি। এটা আসলে ভিন্ন একটা সময় আর উপনিবেশবাদের একটা ঘোর ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, রানি এলিজাবেথ যখন সিংহাসনে আসীন হলেন, আপনি যদি সেই সময়টার কথা ভাবেন, দ্বিতীয় বিশ্বযু’দ্ধ শেষ হওয়ার খুব বেশিদিন পরের ঘটনা নয়, তখন কমনওয়েলথ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা অবস্থায় ছিল। এটি ছিল আসলে অনেকটাই সাম্রাজ্যের ব্যাপার, অন্তত এখনকার তুলনায়।

তার মতে, সরকার চালানোর জন্য নির্বাচিত লোকজন আছে, কাজেই রাজতন্ত্র কেন দরকার? কাগজে-কলমে রানিকে সবকিছু সই করতে হয়, কিন্তু আসলে তিনি তো কেবল আলংকারিক প্রধান আর তার পেছনে দেশের খরচও কম নয়।

২০২০ সালে রাজপরিবারের পেছনে ব্রিটেনের করদাতাদের সাড়ে ৯ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। রাজপরিবারের পক্ষ থেকেই দেয়া হয়েছে এই তথ্য। এটি এযাবতকালের সর্বোচ্চ ব্যয়।

রাজপরিবারের পেছনে ব্যয় করা এই অর্থকে বলা হয় রাজকী’য় মঞ্জুরি। রাণীর কাজ-কর্ম, তার পরিবারের ব্যয়, রাজপরিবারের ভ্রমণ এবং রাজপ্রাসাদগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নির্বাহ করা হয় এই তহবিল থেকে।

বাকিংহাম প্রাসাদের সাম্প্রতিক সংস্কার এবং প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মা’র্কেলের সাবেক নিবাস ফ্রগমোর কটেজের উন্নয়ন কাজও এই তহবিলের অর্থ দিয়ে করা হয়েছে।

করদাতাদের অর্থ দিয়ে কিন্তু রাজপরিবারের দূরস’ম্পর্কের সদস্যদেরও সহায়তা করা হয়। তাদের উপাধির কারণে তারা কোন একটা কাজ বা দায়িত্ব পান, এক ধরনের সুরক্ষা পান। কার্সটেন জনসনের প্রশ্ন, এসব সদস্যরা আসলে দেশের জন্য কি করেন?

তিনি বলেন, আমি বলছি না যে তারা একেবারেই কিছু করেন না। কিন্তু তারা এমন বিশেষ কি করেন যা অন্য কেউ করতে পারবেন না? কেবল রাজপরিবারের সঙ্গে স’ম্পর্কিত কাউকেই করতে হবে।

কার্সটেন উল্লেখ করেন, রানি এলিজাবেথ অনেকদিন রাজত্ব করেছেন এবং তিনি বেশ ম’র্যাদার সঙ্গেই কাজটা করেছেন। তাকে একজন চ’মৎকার মানুষ বলেই মনে হয়। কিন্তু আমি এখন পর্যট’ক আকর্ষণ ছাড়া রাজতন্ত্রের আর কোন প্রয়োজন দেখতে পাই না। আর যে পর্যট’করা বাকিংহাম প্রাসাদ দেখতে চান, রাজতন্ত্র না থাকলেও তারা সেটা দেখতে যেতে পারবেন।

রানি এবং তার নিজের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে বলা হয় ওয়ার্কিং রয়্যালস অর্থাৎ তারা প্রত্যেকেই কাজ করেন। যু’ক্তরাজ্যে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা বছরে দুই হাজারের বেশি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারা নানা ধরনের অনুষ্ঠান এবং দাতব্য কাজের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য শক্তিশালী করা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখায় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হয়।

স্যামি নাইট নামের এক ব্রিটিশ নাগরিক বলেন, আমা’র দৃষ্টিতে রাজপরিবার যেন খুবই সুবিধাভোগী কিছু আমলা, যারা জন্মসূত্রেই তাদের কাজটা পেয়ে গেছেন এবং যাদের সেই পদ থেকে সরানো যাবে না। স্যামির জন্ম কানাডায় এবং বেড়ে উঠেছেন সেখানেই। কিন্তু তিনি এখন ব্রিটিশ নাগরিক। তার বিশ্বা’স ভবিষ্যতের যু’ক্তরাজ্য বা কমনওয়েলথে রাজতন্ত্রের কোন স্থান নেই।

তিনি বলেন, আমা’র মতে, রানি মা’রা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজতন্ত্রের মৃ’ত্যু ঘটবে। রাজতন্ত্রের কী’ হলো সেটা নিয়ে আমি ভাবি না, তবে আমি মনে করি ব্যক্তিগতভাবে রানি একজন অসাধারণ মানুষ। প্রিন্স ফিলিপ যে মা’রা গেছেন সেজন্য আমি দুঃখিত, কারণ রানি এখন একদম একা।

তিনি আরও বলেন, রানি এবং ডিউক অব এডেনবার্গ যে কাজ করেছেন, আমি তার প্রশংসা করি। তারা অসাধারণ জীবন কাটিয়েছেন। আমা’র মনে হয় তাদের বয়স হওয়ার পরেও জনসেবায় তারা অসাধারণ আত্মত্যাগ করেছেন। কিন্তু রাজপরিবারের তরুণ সদস্যদের আমি মোটেই পছন্দ করি না। ব্রিটেনে এখন একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগের সময় এসেছে।

রাজপরিবারের ব্যাপারে চালানো জ’রিপটির তথ্য যদি বয়স-ভেদে ভাগ করা হয়, তাহলে দেখা যায় বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে একটা বিরাট ফারাক আছে। যাদের বয়স ১৮ হতে ২৪ তাদের মধ্যে রাজতন্ত্রের পক্ষে সম’র্থন সবচেয়ে কম। আবার যাদের বয়স ৬৫ বা তার বেশি, তাদের একটা বিরাট অংশই রাজপরিবারকে টিকিয়ে রাখার পক্ষে।

ব্রিটেনের বিভিন্ন অংশের মধ্যেও রাজপরিবারের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের তারতম্য দেখা যাচ্ছে এই জ’রিপে। স্কটল্যান্ডের মাত্র অর্ধেক মানুষ রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ স’ম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। ব্রিটেনের কোন একটি অঞ্চলে রাজপরিবারের ব্যাপারে এত কম সম’র্থন আর দেখা যায়নি। তবে সবাই রাজতন্ত্র পুরোপুরি বিলোপের পক্ষে নন। অনেকেই আংশিক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে।

যু’ক্তরাজ্যে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতেই রাজতন্ত্র তাদের কাজ চালায়, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ রাজতন্ত্র নিয়ে অনেক বিতর্ক চলছে। তবে যারা রাজতন্ত্রের অবসান চান, বলতেই হচ্ছে যে তারা এখনো দেশের মোট জনসংখ্যার একটি সংখ্যালঘু অংশ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: