সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মামুনুল হক আমাদের পরিবারটা ধ্বংস করে দিয়েছে: ঝর্ণার ছেলে

হেফাজতে ইস’লাম নেতা মামুনুল হক যে নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ‘রিফ্রেশ’ হতে গিয়েছিলেন, সেই নারীর বড় ছে’লে আব্দুর রহমান জামির একটি ভিডিওবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কি’শোর আব্দুর রহমানের অ’ভিযোগ, মামুনুল হকের মধ্যে কোনো মনুষ্যত্ব বোধ নেই। তিনি নিজের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণ করতে জামির বাবা শহিদুল ইস’লাম ও মা জান্নাত আরা ঝর্নার মধ্যে পরিক’ল্পিতভাবে দূরত্ব তৈরি করেন। এ ক্ষেত্রে শহিদুল ইস’লামের ‘অন্ধ আনুগত্যকেও’ ব্যবহার করেছেন মামুনুল।

মামুনুল হক গত শনিবার এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে যাওয়ার পর স্থানীয় কিছু লোকজন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে ঘেরাও করে। মামুনুল ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করলেও তার নাম, শ্বশুরবাড়ি, শ্বশুরের নাম স’ম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে সেই নারীর দেয়া তথ্যের কোনো মিল নেই।

মামুনুল বলেছেন, তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী’র নাম আ’মেনা তইয়্যেবা। বাড়ি খুলনায়, শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইস’লাম। তবে সেই নারী জানিয়েছেন তার নাম জান্নাত আরা ঝর্না, বাবার নাম অলিয়র, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।

পরে সেখান থেকে মুক্ত হয়ে রাতে মামুনুল ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, তিনি বিয়ে করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শহিদুল ইস’লামেরর সাবেক স্ত্রী’কে। তাদের দুটি সন্তানও আছে। কিছু বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে এই বিয়ে হয়েছে।

এদিকে এরই মধ্যে ফেসবুকে তিন মিনিট দুই সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ঝর্ণা ও শহীদুলের বড় ছে’লে আব্দুর রহমান জামি। আব্দুর রহমান তার ছোট ভাই তামিমকে নিয়ে বাবার সঙ্গে খুলনায় বাস করেন বলে জানা গেছে।

আব্দুর রহমানকে ভিডিওতে বলেন, ‘আমি তো অলরেডি বড় হয়ে গেছি, অনেক কিছু শিখছি, জানছি, ম্যাচু’রিটির একটা ভাব আইছে। আমি কিছুটা সহ্য করে নিতে পারি, কিন্তু আমা’র তো একটা ছোট ভাই আছে, তের-চৌদ্দ বছর বয়স। কেবল উঠতি বয়স। এই সময়ে মানুষের কত কথা শোনা লাগতেছে। সমাজের সামনে আইসা মুখ দেখাইতে পারতেছি না।

আমা’র ছোট ভাইটা কাল রাতে যখন এই ঘটনটা ঘটলো, ও কোনোদিন আমি দেখি নাই রাত ৩-৪টা পর্যন্ত জাইগা রইছে। কাল দেখি ওর চোখে কোনও ঘুমই নাই। ও বিষয়টা নিয়ে টোটালি মেন্টালি শকড হইছে। ও বাসা থেকে বের হয়ে গেছিল। বাসায় থাকলে কি উল্টা-পাল্টা করবো আমি নিজেরও জানি না, এইটা বইলা বের হয়ে গেছে।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘আরও বলতে হয়, এটা আমি বলবো যে, আমা’র বাবার কর্মের ফল। আমা’র বাবা মানুষকে অন্ধের মতো বিশ্বা’স করে। পাগলের মতো ভালোবাসে। ওই লোকটা (মা’ওলানা মামুনুল হক), কিছুদিন আগে মোল্লারহাটে একটা মাহফিল ছিল। সেখানে পু’লিশ তাকে করতে দেবে না। সে একটা জায়গায় লুকায়া ছিল। আমা’র বাবা সেটা দেখে আইসা কী’ভাবে যে কানছে। তার আগেই বিষয়টা আমি জানছি যে, আমা’র মায়ের সঙ্গে তার একটা স’ম্পর্ক ছিল।’

‘আমি তখন হাসতে ছিলাম যে, এই লোকটা যার জন্য অঝোর ধারায় কানতেছে আর ওই লোকটা (মা’ওলানা মামুনুল হক) এই লোকটার (বাবা শহীদুল ইস’লাম) সাথে বিশ্বা’সঘা’তকতা করতেছে। তারপরে যখন ওনাকে জে’লে নিল, মা’ওলানা মামুনুল হককে জে’লে নিল, তখন আমা’র বাবা থা’নার ওসি কা’ম’রুজ্জামানকে বলে যে, আমাকে রেখে ওনাকে ছেড়ে দেন। কতটা ভালোবাসলে একটা মানুষকে এই কথা বলতে পারে। আর সেই লোকটা কী’ভাবে গাদ্দারি করলো।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘আরও আগের ঘটনা যখন ডিভোর্স হয়নি, আমি তখন অনেক ছোট। আমা’র ছোট ভাই আরও অনেক ছোট, দুগ্ধ শি’শু ছিল। তখন আমা’র বাবা বাসায় ছিলেন না। তখন আমি ছিলাম। আমি ঘুমায়া ছিলাম নাকি বাইরে ছিলাম। আমা’র মা নাকি আমা’র ছোট ভাইকে দুগ্ধ পান করাচ্ছিল, তখন উনি আমা’র মায়ের রুমে ঢুকে গিয়ে একটা কুপ্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমা’র মা সেটা প্রত্যাখান করেছিল, না এটা কোনোদিনই সম্ভব না। আপনি তো ঠকাচ্ছেন, আপনার কাছের মানুষটাকে, বন্ধুকে।’

‘সে তখন ফিরে এসেছিল। কিন্তু তার একটা তখনই মনে কা’মভাব ঢুকে গেছে। সে লো’ভ সামলাইতে পারতেছিল না। সে একটা সুযোগে ছিল, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে সে এইটা বুঝতে পারে নাই। যখনই সুযোগ পাইছে এনাদের মধ্যে ডিসট্যান্স বাড়াইয়া দিছে। স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে তো ঝগড়া হবেই। সে তখনই নক করছে। তখন দুই জনের মধ্যে আরও ডিসট্যান্স বাড়াইয়া দিছে। এইভাবে করে সে একটা পরিবারের খুশি, ভালোবাসা, একটা পরিবারের মধ্যে যে মিলমিশ স’ম্পর্ক পুরোপুরি সে ধ্বংস করে দিছে। আরও যে এভাবে কত মানুষের, কত পরিবারের ভালোবাসা যে ধ্বংস করে দিছে এর কোনও ঠিক নাই।’

মা’ওলানা মামুনুল হকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আশা করবো, এর যেন সঠিক বিচার হয়। আপনারা কারও অন্ধ ভক্ত হয়েন না। কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বা’স কইরেন না। কারণ সবারই আড়ালে আরেকটা চেহারা থাকে। এই লোকটা আলেম নামধারী মুখোশধারী একটা জানোয়ার। তার মধ্যে কোনও মনুষ্যত্ব নেই। সে সুযোগের অ’পেক্ষায় থাকে কাকে কী’ভাবে দুর্বল করা যায়। আমা’র আর কিছু বলার ভাষা নাই।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 105
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    105
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: