সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

শাল্লার ঘটনা: ২১০০ জনকে আসামি করে ঝুমন দাসের মায়ের মামলা

যার কথিত ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু পল্লীতে হামলার অভিযোগ করা হচ্ছে সেই ঝুমন দাস আপনের মা শাল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঝুমন দাসের গ্রাম নয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার শাল্লা থানায় একটি মামলার আবেদন করেন নিভারানী দাস। আবেদনটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শাল্লা থানার ওসি নাজমুল হক।

নিভারানী দাশের মামলার আবেদনে আসামি হিসেবে ৭২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি রাখা হয়েছে আরও দুই হাজার। এর মধ্যে নাসনি গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য স্বাধীন মিয়া, কেরামত আলী, ইমামত আলী, ইনাম আলী, মির্জা হোসেন, নেহার আলী, ফখর উদ্দিন ওরফে ফুক্কন আলীর নামও আছে আসামির তালিকায়।

নয়াগাঁও গ্রামে হামলার ঘটনায় এর আগে থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। একটি মামলায় ঝুমন দাসও কারাগারে আছেন।

লিখিত অভিযোগে নিভারানী দাস উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে ঝুমন দাস আপনের ফেসবুকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্টের জের ধরে ১৭ মার্চ সকালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নয়াগাঁও গ্রামে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এই হামলার নেতৃত্ব দেন নাসনি গ্রামে স্বাধীন মিয়া ও ফখর উদ্দিন ওরফে ফুক্কনসহ অন্য আসামিরা। এ সময় ঝুমন দাসের স্ত্রী সুইটি রানী দাসের শ্লীলতাহানী ও তাকে মারধর করা হয়। তিনি বাম হাতের কুনইয়ে আঘাত পেয়েছেন। এ সময় তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও ঘরের ট্রাংকে থাকা ৫৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আসামিরা একই সময় গ্রামে ৮৯টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে মন্দিরও ভাঙচুর করে।

প্রসঙ্গত, নোয়াগাও গ্রামের যুবক ঝুমন দাসের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামনুল হককে নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৭ মার্চ সকালে সেখানকার হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। হেফাজত সমর্থকরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ৮৯টি পরিবারের বসতঘর ও সাতটি পারিবারিক মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় শাল্লা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি ও হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ বকুল বাদী হয়ে শাল্লা থানা আরও একটি মামলা করেন।

এদিকে ঝুমন দাস আপনের (২৮) বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল করিম। ওই মামলায় ঝুমন দাসকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এর আগে ১৬ মার্চ রাতে আটকের পর তাকে ১৭ মার্চ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সেদিন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামি দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বাধীনকে ২০ মার্চ ভোরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার একটি গ্রাম থেকে আটক করে পিবিআই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: