সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

রোববার আবারো সুনামগঞ্জে আসছেন মামুনুল হক

বিয়ানীবাজার টাইমস ডেস্কঃ মা’ওলানা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে লেখার জেরে সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দুপল্লীতে হা’মলার রেশ না কাটতেই রোববার (২১ মা’র্চ) ফের সুনামগঞ্জে আসছেন বিতর্কিত এই ইস’লামি বক্তা। রোববার জামালগঞ্জে একটি মাদ্রাসার ইস’লামী মহাসমম্মেলনে অ’তিথি করা হয় মামুনুল হককে।

এই আয়োজনে স্থানীয় উপজে’লা চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ এবং স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাদেরকেও অ’তিথি করা হয়েছে। তবে উপজে’লা চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, তাদেরকে না জানিয়েই অনুষ্ঠানে অ’তিথি করা হয়েছে। শাল্লার ঘটনার পর মামুনুল হক জামালগঞ্জে আসলে এলাকায় উত্তে’জনা দেখা দিতে পারে এবং অ’প্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে শ’ঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপজে’লা চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ। তিনি এই আয়োজন বন্ধ করার জন্যও প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন।

তবে উপজে’লা প্রশাসন বলছে, ইস’লামী মহাসম্মেলনের ব্যাপারে এখনও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনুমতি নিতে এলে বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

হেফাজতে ইস’লামের নেতা মামুনুল হকের বি’রুদ্ধে ফেসবুকে লেখার জেরে গত বুধবার সকালে শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে দেশীয় অ’স্ত্রশস্ত্র নিয়ে হা’মলা চালায় তার হাজারও অনুসারী। এসময় গ্রামের প্রায় ৮০টি হিন্দু বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে তারা। এ সময় গ্রামের লোকজন পাশের হাওরে গিয়ে লুকিয়ে আত্ম’রক্ষা করেন।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে মামনুল হককে অ’তিথি করে ইস’লামী মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হয়। খাদিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা জামালগঞ্জের আয়োজনে খতমে বুখারি ও ইস’লামী মহাসম্মেলনের জন্য উপজে’লাজুড়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পোস্টারিং করা হয়েছে দেয়ালে দেয়ালে।

উপজে’লা সদরের হেলিপ্যাড মাঠে এই সমাবেশ হেফাজতের মামুনুল হক ছাড়াও অ’তিথি হিসেবে নাম রয়েছে জামালগঞ্জ উপজে’লা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল আল আজাদ, সুনামগঞ্জ জে’লা পরিষদের সদস্য আব্দুল মুকিত চৌধুরী, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার (সাজিব), জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শহিদুল ইস’লাম (সুহেল) এর, নাম আছে জামালগঞ্জ উপজে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্ম’দ আলীর। অনুষ্ঠানের লিফলেট-পোস্টারে আমন্ত্রিত অ’তিথি হিসেবে তাদের নাম রয়েছে।

তবে তাদের প্রত্যেকের দাবি, তাদেরকে না জানিয়েই অনুষ্ঠানে অ’তিথি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে লিখিত অ’ভিযোগও করেছেন তারা।

উপজে’লা চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমা’র সাথে কোনো কথা না বলেই আমাকে এই আয়োজনে অ’তিথি করা হয়েছে। বিষয়টি আমি আয়োজক ও প্রশাসনকে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, শাল্লায় যে দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটেছে এনিয়ে সকলেই ক্ষুব্ধ। ফলে এই মূহূর্তে মামুনুল হকের এখানে না আসাই উচিত। কারণ আমাদের এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। তিনি (মামুনুল হক) আসলে এবং কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিলে এলাকায় উত্তে’জনা দেখা দিতে পারে। এতে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার শ’ঙ্কা রয়েছে।

এই সমাবেশ বন্ধ করার জন্য আয়োজক ও প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও জানান উপজে’লা চেয়ারম্যান।

এ প্রসঙ্গে জামালগঞ্জ উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা বিশ্বজিত দেব সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, মামুনুল হক আসার ব্যাপারে আম’রা এখনো তেমন কিছু জানি না। আমাদের কাছ থেকে সমাবেশের কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। তবে এধরনের কোনো আয়োজনের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আম’রা সিদ্ধান্ত নেব।

এদিকে, অনুমতি না নিয়ে হেফাজতের সমাবেশের পোস্টারে নাম ব্যবহারের অ’ভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে থা’নায় জিডি করেছেন জামালগঞ্জ উপজে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্ম’দ আলী।

জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালগঞ্জ থা’নার ওসি সাইফুল আলম। তিনি বলেন, না জানিয়ে পোস্টারে নাম ব্যবহারের কারণে বৃহস্পতিবার আয়োজক কমিটির লোকজনকে নিয়ে উপজে’লা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বৈঠক হয়।

এ প্রসঙ্গে ওই ইস’লামী সম্মেলন আয়োজক কমিটির সদস্য ও খাদিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজ মা’ওলানা কাওছার আহম’দ বলেন, আমাদের অনুষ্ঠানটি শাল্লার ঘটনার অনেক আগেই নির্ধারিত। ফলে এটি পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

না জানিয়ে অনেককে অ’তিথি করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আম’রা অনেককেই দাওয়াত দেওয়ার পর নাম দিয়েছি। তবে ইউএনও অফিসে বৈঠকের পর তাদের বলেছি পরের প্রচার-প্রচারণায় আর তাদের নাম ব্যবহার করবো না।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে আ’পত্তিকর মন্তব্য করে বিতর্কিত ধ’র্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইস’লামের যুগ্ম মহাসচিব মা’ওলানা মুহাম্ম’দ মামুনুল হক গত ১৫ মা’র্চ দিরাইয়ে হেফাজতে ইস’লামের সমাবেশে বক্তৃতা করেন। ওই সমাবেশে তার কিছু বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন শাল্লা উপজে’লার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের এক তরুণ। তিনি মামুনুলের সমালোচনা করে মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন বলে অ’ভিযোগ স্থানীয়দের।

এই পোস্ট’কে কেন্দ্র করে দিরাই ও শাল্লা উপজে’লায় উত্তে’জনা দেখা দেয়। হেফাজতে ইস’লাম ও মামুনুল হকের অনুসারীরা এমন পোস্টে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এই ঘটনায় বুধবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল আহ্বান করে হেফাজতে ইস’লাম।

তবে আগের রাতেই উত্তে’জনা আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামবাসী ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার দায়ে অ’ভিযু’ক্ত তরুণকে পু’লিশের হাতে তুলে দেন। এই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের প্রায় সবাই দরিদ্র হিন্দু। ফলে আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের মানুষজনের মধ্যে।

তবে এমন উত্তে’জনাকর পরিস্থিতি আর আতঙ্ক সত্ত্বেও প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি না থাকায় বুধবার সকালে নোয়াগাঁও গ্রামে দেশীয় অ’স্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল করে নির্বিঘ্নেই হিন্দু অধ্যুষিত এই গ্রামের সবগুলো বাড়িঘরই ভাঙচুর ও লুটপাট করে। গ্রামের প্রায় ৮০টি হিন্দু বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় গ্রামের লোকজন পাশের হাওরে গিয়ে লুকিয়ে আত্ম’রক্ষা করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    24
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: