সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

হবিগঞ্জে নদীকে খাল বানিয়ে কোটি কোটি টাকা নয়-ছয়!

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজে’লার আউশকান্দি ও মৌলভীবাজার সদর উপজে’লার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে এরাবরাক নামে একটি নদী। একটা সময় ছিল যখন নদীটি দিয়ে প্রবল স্রোতের সঙ্গে পাল উড়িয়ে চলত নৌকা। কিন্তু কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসেছে নদীটি। প্রবল স্রোত তো দূরের কথা এখন শুষ্ক মৌসুমে নদীর চারপাশ শুকিয়ে গিয়ে হয়ে যায় খেলার মাঠ।
মৃ’ত প্রায় এ নদীটিকে সম্প্রতি খাল দেখিয়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়। এরপরই নদীটিকে খালে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন সংগঠন।

স্থানীয়দের অ’ভিযোগ, নদীটিকে খালে পরিণত করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল একটি কুচক্রী মহলের।

জানা যায়, এরাবরাক নদীটিকে খাল দেখিয়ে ১০০ ফুট প্রস্থে নবীগঞ্জ উপজে’লার বিছনারপাড় এলাকা থেকে উজানের দিকে ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প (জাইকা-২)। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৩১টি চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক দল বা এলজিএসকে কার্যাদেশ দেয় এলজিইডি। এরপর থেকে নদীর মধ্যে খাল খনন শুরু হয়। খাল খনন শুরুর পর দেখা যায় ১০০ ফুট প্রস্থ খাল খনন করে মাটি রাখা হচ্ছে নদীতেই। আর এতে মাত্র ১০০ ফুট জায়গা খনন হলেও বাকি নদী ভরাট হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় বর্ষা মৌসুসে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে আরো বিপদ ডেকে আনতে পারে নদীটি। এছাড়াও বর্ষার শুরুতে বোরো ফসলও তলিয়ে যাওয়ার আশ’ঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এদিকে, নদীটি রক্ষায় এরমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন। তারা বলছেন, দ্রুত এই প্রকল্প বাতিল অথবা সংশোধন করে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করতে। অন্যথায় সব শ্রেণি পেশার মানুষদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আ’ন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এরাবরাক খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি কাজী সাহেদ বিন জাফর বলেন, কী’ভাবে এ প্রকল্প হয়েছে সে স’ম্পর্কে কিছু জানি না। তবে প্রকল্পটিতে খাল হিসেবে দেখানো হয়েছে, আম’রা সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করছি।

বাপা হবিগঞ্জ জে’লা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, গুটি কয়েক ব্যক্তি তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নদীর এমন ক্ষতি করেছে। যা মেনে নেয়া যায় না। এতে শুধু নদীর নয় স্থানীয় লোকজনও এর পরিণাম ভোগ করবে। তাই এ প্রকল্প বাতিল অথবা সংশোধন করার দাবি জানাই।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান হারুন বলেন, এরাবরাক নদীটির প্রশস্ততা অনেক বেশি। তাই নদীর পুরো অংশ প্রকল্পের আওতায় আনা যাচ্ছিল না। তাই প্রকল্পের আওতায় আনতেই এটিকে খাল উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল বাছির বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পটি জনবান্ধব না হলে বা ডিজাইনে ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য যা যা প্রয়োজন তা করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: