সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সরকারে দুশ্চিন্তাও বাড়ছে

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সরকারের ভেতরে বেশ উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগামী ৩০ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ খোলা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। গত শনিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভার আলোচনায় তার এ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ পেয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় অংশ নেওয়া দলের সভাপতিমণ্ডলী ও উপদেষ্টা পরিষদের চারজন সদস্য জানিয়েছেন, নতুন করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ধারায় গত এক সপ্তাহে দেশে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে ৬৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। মৃত্যু বেড়েছে ৪৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। উদ্বেগজনক ও উৎকণ্ঠাপূর্ণ এই পরিস্থিতি নিয়ে সভায় বিশদ আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তারা জানান, সভায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনা আবার বাড়ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। আগের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। সেটা না হলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ খোলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। করোনা বাড়লেও এখন পর্যন্ত শিক্ষাঙ্গন খোলার দিনক্ষণ ঠিক রয়েছে। তবে দ্রুতই পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রার্থী বাছাইয়ে নানা জটিলতা: এদিকে যৌথ কমিটির সভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বাছাই নিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নানামুখী জটিলতার চিত্র উঠে এসেছে। মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদের চিত্রও ফুটে উঠেছে।

অনেক ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন ফরম নিয়েও জমা দেননি। সভায় এমন ঘটনাকে মনোনয়ন বাণিজ্য হিসেবে দেখা হয়েছে। এ ছাড়া গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যানরা এবার দলের মনোনয়ন চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা বলেছেন, সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির বর্ধিত সভা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান পদের জন্য দলের তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে তা সুপারিশ আকারে উপজেলা কমিটির কাছে পাঠাতে হয়। সেই সুপারিশ পর্যালোচনা করে তিনজনের তালিকা জেলা কমিটির কাছে পাঠাবে উপজেলা কমিটি। জেলা কমিটিও সেই তালিকা পর্যালোচনা করবে। এরপর এই কমিটি থেকে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক অর্থাৎ তৃণমূলের ছয় নেতার স্বাক্ষরসহ ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের দলীয় তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এই তালিকাভুক্তরাই কেবল দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন। এর বাইরে অন্য কেউ দলের মনোনয়ন ফরম কেনার সুযোগ পাবেন না।

মনোনয়নের এই প্রক্রিয়া এখনও বলবৎ রয়েছে। তবে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কমিটিগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা অনুসরণ করেনি। গত শনিবারের যৌথ সভায় দেখা গেছে, জেলা থেকে তালিকা পাঠানো হলেও সেখানে তৃণমূলের ছয় নেতার স্বাক্ষর নেই। আবার কোনো কোনো তালিকায় বিতর্কিতদের নাম রয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের অযোগ্য ব্যক্তির নামও পাঠানো হয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একজন আরেকজনের মতামত না নিয়েই কেন্দ্রে আলাদাভাবে তালিকা পাঠিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকা বাছাই করা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ সব বিভাগেই রয়েছে। বিশেষ করে মনোনয়নবাণিজ্য তথা টাকা-পয়সা লেনদেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার পূর্ব নিয়ম বলবৎ রেখেও ঢাকা থেকে যে কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

যৌথ সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, কাজী জাফর উল্লাহ, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান ও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

কয়েকজন নেতা যৌথ সভার বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা বললেও তারা একক প্রার্থী দেবে। কৌশলগত কারণে প্রতীক দেবে না। তাদের এই কূটচালে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথ সভায় বলেছেন, অন্যায়কারী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। কারও কারণে সরকারের অর্জন নষ্ট হলে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতেই হবে।

যৌথ সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার প্রসঙ্গ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় যৌথ সভার মুলতবি বৈঠক হবে। এ সভায় ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম ধাপে অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: