সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

পিলখানায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞের একযুগ

বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি’র (সাবেক বিডিআর) সদর দফতর পিলখানায় নারকী য় হ ত্যাকা ণ্ডের একযুগ পূর্ণ হলো আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিপথগামী বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানরা ৫৭ জন সে না কর্মক র্তাসহ ৭৪ জনকে নি র্মমভাবে হ ত্যা করে।

ইতিহাসের কালো এই দিনে ভা রি অ স্ত্র আর বুলেটের গর্জনে প্রকম্পিত হয় পিলখানা।

২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী রাইফেলস সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় বার্ষিক দরবার বসে পিলখানার দরবার হলে। সারাদেশ থেকে আসা বিডিআরের জওয়ান, জেসিও, এনসিওসহ বিপুলসংখ্যক সদস্যে তখন দরবার হল পরিপূর্ণ।

হলের মঞ্চে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমএ বারী, বিভিন্ন ইউনিটের কর্মক র্তাসহ বিডিআরের নানা পদের সদস্যরা। সরকারি ত দন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, ওইদিন দরবারে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৫৬০ জন।

দরবার শুরুর পর এক আনন্দঘন পরিবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ। মহাপরিচালকের বক্তব্য চলাকালে সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে মঞ্চের বাম দিকের পেছন থেকে দুজন বিদ্রোহী জওয়ান অ তর্কিত মঞ্চে প্রবেশ করে। ডিজির সামনে ব ন্দুকের নল তাক করে সিপাহি মঈন। আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে এ ঘা তক গু লি চালাতে না পারলেও অ পর জওয়ানরা এলোপাতাড়ি গু লি ছুড়তে শুরু করে। শুরু হয় হ ত্যাযজ্ঞ।

দরবার হলের বাইরে থেকেও গু লির আওয়াজ ভেসে আসছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে লাল-সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে নাক-মুখ বাঁ ধা বিদ্রোহী জওয়ানরা দরবার হল ঘিরে গু লি শুরু করে। তারা বৃষ্টির মতো গু লি করতে থাকে।

তারা অ স্ত্রাগারটিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্রোহী জওয়ানরা কর্মক র্তাদের দরবার হল থেকে সারিবদ্ধভাবে বের করে আনে। ডিজির নেতৃত্বে কর্মক র্তারা দরবার হলের বাইরে পা রাখামাত্র মুখে কাপড় ও মা থায় হলুদ রঙের হেলমেট পরা চারজন ডিজিকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করেন। ডিজির পর হ ত্যা করা হয় আরও কয়েকজন কর্মক র্তাকে। নারকী য় হ ত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে বিপথগামী বিদ্রোহীরা। মুহূর্তের মধ্যেই দেশের অন্যান্য বিডিআর ব্যাটালিয়নেও ছড়িয়ে পড়ে সেই বিদ্রোহ।

এরপর বিদ্রোহী সৈনিকরা অ স্ত্র নিয়ে পিলখানার ভিতরে টহল দিতে থাকে। সে না কর্মক র্তাদের নৃ শংসভাবে হ ত্যার পর লা শ ড্রেনে ফেলে দেয়। আশেপাশের এলাকা থেকে একাধিক সে না কর্মক র্তার লা শ উ দ্ধার করা হয়। সে না কর্মক র্তা ও তাদের পরিবারের অনেক সদস্য কয়েক ঘণ্টা পর জি ম্মিদশা থেকে মুক্তি পান।

এ ঘটনায় হ ত্যাকা ণ্ডের জন্য একটি এবং বি স্ফো রক আইনে একটিসহ দুটি মা মলা দায়ের হয়। হ ত্যা মা মলায় নিম্ন আ দালত ১৫২ জন বিডিআর জওয়ানকে মৃ ত্যুদ ণ্ড, ১৬২ জনকে যাব জ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ ণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। অ ভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই মা মলা থেকে ২৭৮ জন খালাস পান।

এ রায়ের বি রুদ্ধে আপিল করেন আ সামিরা। ২০১৭ সালে হাই কোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জওয়ানকে মৃ ত্যুদ ণ্ড দেয়। যাব জ্জীবন দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় আরো ২০০ জনকে। খালাস পান ৪৫ জন।

পিলখানা হ ত্যা মা মলায় হাই কোর্টের রায়ের বি রুদ্ধে আপিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আ দালতে বিচারাধীন রয়েছে বি স্ফো রক আইনের মা মলা টি। এ মা মলায় আ সামি ৮৩৪ জন।

নারকী য় এই হ ত্যাকা ণ্ডের পর ঢেলে সাজানো হয় বিজিবিকে। ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে বিডিআর- এর নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবি করা হয়। বদলানো হয় বাহিনীর পোশাক, ব্যাজ এবং পতাকা।

এছাড়া ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিল ২০১০ পাস হয়। নতুন বর্ডার গার্ড আইনে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নাম পরিবর্তনসহ বিদ্রোহের কঠোরতর শা স্তির বিধান রাখাসহ বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়।

আজ (বৃহস্পতিবার) সেই ঘটনার বার্ষিকী পালন করবে বিজিবি। দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে পিলখানাসহ বিজিবির সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর খতমে কোরআন, বিজিবির সব ম সজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কা মনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।

বাংলাদেশ সে নাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯টায় বনানীর সাম রিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ৩ বাহিনীর প্রধান (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একসঙ্গে) শহীদদের স্মৃ তিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এছাড়া দিবসটি পালন উপলক্ষে বিজিবির সকল স্থাপনায় বিজিবি পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিজিবির সকল সদস্য কালো ব্যাজ পরিধান করবেন। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা পিলখানার বিজিবি কেন্দ্রীয় ম সজিদ, ঢাকা সেক্টর ম সজিদ এবং বর্ডার গার্ড হাসপাতাল ম সজিদে শহীদদের আত্মা র মাগফিরাত কা মনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    15
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: