![]()



হাজারো শ্রোতার সামনে ওয়াজ মাহফিলে আলোচনা করছিলেন প্রধান বক্তা। আলোচনার একপর্যায়ে তার পরিচয় নিয়ে সবার মনে সন্দেহ জাগে। এরপর স্টেজে বসা একজন টান দিয়ে মুখের রুমাল সরিয়ে ফেলেন। এতেই বেরিয়ে আসে বক্তার আসল পরিচয়। পরে গণপিটুনি খেয়ে এলাকা ছাড়েন নকল বক্তা। নকল দাড়ি ব্যবহার করে বক্তা সেজেছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর ইউনিয়নের বালিথা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা।
জানা গেছে, মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে ঢাকা থেকে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। এ সুযোগে নিজেকে আবুল কালাম আজাদ পরিচয় দিয়ে আলোচনা শুরু করেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু কণ্ঠের মিল না পেয়ে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে মঞ্চে থাকা একজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি সরাসরি ওই বক্তাকে নিজের পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। তখন বক্তা হ্যাঁ-সূচক উত্তর দিলেও সন্তুষ্ট হননি শ্রোতারা।
এরপর টান দিয়ে তার মুখের রুমাল সরিয়ে দেন। এ সময় তার মুখে লাগানো নকল দাড়ি খুলে পড়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্টেজেই নকল বক্তাকে মারধর শুরু করেন শ্রোতারা। এ সময় পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সুযোগ বুঝে নকল বক্তা পালিয়ে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামছুর রহমান বলেন, ওই মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন বালিথা গ্রামের সালমা বেগম। সেখানে মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে প্রধান বক্তা হিসেবে দাওয়াত দেন। তিনি ঢাকা থেকে আসার কথা ছিল। কিন্তু এ নাম ধারণ করে অন্য একজন এসে প্রধান অতিথির আলোচনা শুরু করেন। আলোচনার মাঝে শ্রোতাদের মনে সন্দেহ জাগলে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার মুখের রুমাল টান দিলে লাগানো নকল দাড়ি পড়ে যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় পরিচয় জানা যায়নি।