সর্বশেষ আপডেট : ৩৯ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ফ্রান্সে যে কারণে স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ হয়েছিল

সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট জাঁক শিরাক স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করে সংসদে আইন পাস করেন। আইন ঠেকাতে প্যারিসে প্রচুর বিক্ষোভ ও সমাবেশে শামিল হন মুসলিম নারীরা হাতে ‘আমার পছন্দ’ লেখা ব্যানার নিয়ে।

ফরাসি সংসদে এ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল সেই সময় ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী দল। তাদের যুক্তি ছিল স্কুলের ভেতর ধর্মকে আনা যাবে না।

ফ্রান্সে ‘৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে মুসলিম নারীদের হিজাব পরা দেশটিতে একটা বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল।

ফ্রান্স সরকার ২০০৪ সালে সব সরকারি স্কুলে হিজাব এবং অন্য ধর্মীয় পরিচয় বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে বহু মুসলিম মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

বহু মুসলিম কিশোরীর শিক্ষাজীবনে নেমে আসে অন্ধকার। নানাভাবে ব্যঙ্গবিদ্রূপ ও প্রশ্নবাণে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে মুসলিম নারীদের জীবন।

সংসদ স্কুলছাত্রীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দেওয়ার পর মুসলিম ছাত্রীরা বলেছিল– তাদের কাছে পড়ার বই আর হিজাব দুটোই তাদের পরিচয়ের অংশ।

অনেক কিশোরী বলেছিল, হিজাব তাদের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাদের ব্যক্তিসত্তার অংশ। স্কুলে ঢোকার পর তাকে সেটি খুলতে বাধ্য করা তার ব্যক্তিসত্তার অপমান।

আফ্রিকার সেনেগালে জন্ম এনডেলা পে কিশোরী বয়সে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন তার বাবার কর্মসূত্রে। তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার গুরুতর প্রভাব পড়েছিল ফ্রান্সের মুসলিম মেয়েদের ওপর।

তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ছিল শুধু মুসলিম মেয়েদের লক্ষ্য করে। সরকারিভাবে সরকারকে বলতে হয়েছে– এই নিষেধাজ্ঞা তারা সব ধর্মের প্রতীকের ক্ষেত্রেই আনছে। কিন্তু দেখুন, যারা স্কুল যাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল, তারা সবাই ছিল মুসলিম মেয়ে।

এনডেলা পের বাবা ছিলেন ফরাসি দূতাবাসের একজন কূটনীতিক। এনডেলা যখন প্যারিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, তখন তিনি হিজাব পরতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, সহপাঠী থেকে শুরু করে পথচারী নানা মানুষের তির্যক মন্তব্য তখন তার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছিল।

ফ্রান্সে গির্জা ও রাষ্ট্রকে পৃথক রাখার যে আইন ফরাসি ভাষায় ‘লে-ল্যসিটে’ নামে পরিচিত, সেটি প্রজাতন্ত্রটির ধর্মনিরপেক্ষতার মূল স্তম্ভ।

দেশটির জাতীয় পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি। যে নীতির মূল ভিত্তি হলো বিভিন্ন আচরণ ও ধর্মের স্বাধীনতা এবং বিশ্বাস যাই হোক না কেন আইনের সামনে সমতা।

পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক মুসলিমের বাস ফ্রান্সে। ফলে দেশটির ৫০ লাখ মুসলিম নাগরিককে ফ্রান্স তার সমাজের অংশ করে নিতে কতটা সক্ষম, সেটিই ছিল দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ নীতির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

বিভিন্ন এলাকায় মুসলিম মেয়েদের স্কুলে হিজাব পরা উচিত কিনা, এ নিয়ে তখন বড় ধরনের বিতর্ক দানা বাঁধছিল। হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষক শুরু করেছিলেন এই বিতর্ক।

ফ্রান্সের কাউন্সিল অব স্টেট অর্থাৎ যে প্রশাসনিক পরিষদ আইনি বিষয়ে সরকারের উপদেষ্টার কাজ করে, তাদের মত ছিল স্কুলে মেয়েদের হিজাব পরা ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী।

ফ্রান্সে ১৯৯০-এর শেষ নাগাদ মুসলিমদের প্রতি মনোভাবে পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। মুসলিমদের পোশাক পরিচ্ছদ বা যা দিয়ে বাইরে থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে চিহ্ণিত করা যায়, তার প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ পেতে থাকে। সূত্র : যুগান্তর

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: