সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ভারত থেকে যে টিকা এসেছে তা নিয়ে সন্দেহ আছে

ভারত উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে যে ২০ লাখ ডোজ করোনার টিকা দিয়েছে তা নিয়ে নানা ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভারত থেকে যে টিকা এসেছে তা বাংলাদেশের মানুষের ওপর গবেষণা চালানোর জন্য।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁও অঞ্চলের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ভারতের গবেষণাগারের ‘ব্যাঙ, বিড়াল, তেলাপোকায় পরিণত হয়েছে। ভারত তিস্তার পানি তো দেয় না, কিন্তু উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দিল। এই দরদ উতলে ওঠার কারণ কী? ভারত মূলত বাংলাদেশের মানুষদের ওপর ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালাতে চায়। বাংলাদেশ সরকার ভারতকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। কারণ ভোটারবিহীন বর্তমান মিডনাইট সরকারের দেশের মানুষের বাঁচা-মরা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।’

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে সরকার ‘বিপজ্জনক ও সর্বনাশা খেলায় মেতেছে’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে যে টিকা এসেছে তা বাংলাদেশের মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর জন‌্য এসেছে। ওরা (ভারত) দেখবে এই ভ্যাকসিন নেয়ার পরে মানুষ বাঁচে, না মরে, না অসুস্থ হয়। তারপরে ভিআইপিরা নেবে। তারপরে ভারত নেবে। ভারত বলছে, তারা মার্চে এটা ট্রায়াল করবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স বলেছে, ভারত যে টিকা বাংলাদেশকে দিচ্ছে এটা ট্রায়ালের জন্য দিচ্ছে।’

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘সরকার আরেকটি ভানুমতির খেল দেখাচ্ছে। সেটা হচ্ছে ভ্যাকসিন নিয়ে। ২০ লাখ লোককে বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দেবে। ভারত থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছে। ভারতের হাইকমিশন বলছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই ভারতের বড় বন্ধু। অন্য কেউ না। যারা একটি দেশের একটি রাজনৈতিক দলকে বন্ধু মনে করে, তাদের দেয়া ভ্যাকসিন যদি দেশের জনগণ নেয় তাহলে মানুষ বাঁচবে কী বাঁচবে না, সেই গ্যারান্টি নেই।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘সরকার বারবার বলছে ভ্যাকসিন ভিআইপিদের আগে দেয়া হবে না। আগে দেয়া হবে সাধারণ জনগণকে। প্রশ্ন হলো, ভিআইপিদের আগে দেয়া হবে না কেন? আগে ভিআইপিদের দেন, তারা সুস্থ থাকুক, তারপর দেশের জনগণকে দেন। কিন্তু এখানেই রহস্য, সরকার সাধারণ জনগণকে আগে ভ্যাকসিন দিয়ে এর কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে চায়। কারণ, দেশের মানুষের বাঁচা-মরা নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘যারা ভ্যাকসিন নেবে তাদের একটি সম্মতিপত্র স্বাক্ষর করতে হবে। সেই সম্মতিপত্রে নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম-ঠিকানা থাকবে। বলা হচ্ছে, ভ্যাকসিন নিয়ে যদি কেউ অসুস্থ হয় বা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় তাহলে সরকার দেখবে। এখানেই তো সন্দেহ ঢুকে গেল। এই যে সম্মতিপত্র, অঙ্গীকারনামা- এটা কেন? বিজ্ঞানের পরীক্ষায় যদি উত্তীর্ণ হয় যে এই টিকা সাধারণ মানুষকে দেয়া যাবে তাহলে অঙ্গীকারনামা কেন? এই যে অঙ্গীকারনামা, সম্মতিপত্র এর থেকে প্রমাণিত হয় ভারত থেকে যে টিকা আসছে তার মধ্যে সন্দেহ আছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদ আগে টিকা নেবেন না। আগে দেয়া হবে গরিব, সাধারণ জনগণকে।’

রিজভী বলেন, ‘আমাদের মাথা ব্যথা, সর্দি, জ্বর হলে প্যারাসিটামল কিনি, কারণ জানি এ ওষুধটা খেলে আমাদের মাথা ব্যথা সারবে। তখন তো অঙ্গীকারনামা দেয়া লাগে না, মুচলেকা দেয়া লাগে না। করোনা টিকা নিতে এখন অঙ্গীকারনামা দিতে হবে কেন? এর কারণ হলো, ভারত থেকে যে টিকা আসছে তা বাংলাদেশের মানুষের ওপর গবেষণা চালানোর জন্য।’

তিনি বলেন, ‘গবেষণাগারে ব্যাঙ, বিড়াল যেমন বিচ্ছিন্ন করা হয়, তার ভেতরে যেমন দেখা হয় কী আছে, মানবদেহ সম্পর্কে জানার জন্য যেমন ওই প্রাণীগুলোর দেহ কাটা হয়, আজ ঠিক তেমনিভাবেই বাংলাদেশের মানুষ ভারতের গবেষণাগারের ব্যাঙ, বিড়ালে পরিণত হয়েছে। ওরা দেখবে, এই ভ্যাকসিন নেয়ার পরে মানুষ বাঁচে, না মরে, না অসুস্থ হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কত বড় বিপজ্জনক ও সর্বনাশা খেলায় মেতেছে সরকার। বাংলাদেশের মানুষ অন্য দেশের গবেষণাগারের প্রাণী হিসেবে কাজ করবে? বাংলাদেশের মানুষ তেলাপোকায় পরিণত হয়েছে। গবেষণাগারে যেমন তেলাপোকাকে পরীক্ষা করা হয় তেমনি বাংলাদেশের মানুষের ওপর টিকা দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে আমরা তেলাপোকায় পরিণত না হই। সরকার নিজে ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রভুরা যা বলছে তাই করছে। কই আমাদের তিস্তার পানি তো দেয় না। ২০ লাখ ডোজ দিল তাদের দরদ এতো উতলে গেছে? তিস্তার পানি দেয় না, ভালো বন্ধু হলে তো দিতেন।’

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী প্রমুখ। সূত্র : জাগো নিউজ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: