সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

প্রধানমন্ত্রীর উপহারে আনন্দে ভাসছে ৭০ হাজার পরিবার

আজন্ম স্বপ্নে বিভোর থাকে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ নিজের একটা ঘরের জন্য। যার নিজের এক টুকরো জমি নেই সে যত বড় জায়গায়ই থাকুক না কেন, তৃপ্ত হয় না। সে চায় নিজের ঘর, নিজের জন্য নির্ধারিত একটা জায়গায় তার নাম-ঠিকানা। আর বাংলাদেশের মতো নদীভাঙন, দরিদ্র, হতদরিদ্র, ভূমিহহীন মানুষের জন্য একটা নিজের ঘর একটি বড় স্বপ্নের নাগাল পাওয়া। সে রকম প্রায় ৭০ হাজার পরিবার গতকাল ঠিকানা পেয়েছে।

কান্না-হাসি ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার সারা দেশের গৃহহীন, ঠিকানাহীন ও সুবিধাবঞ্চিত ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন পরিবারের হাতে মুজিববর্ষের উপহার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গৃহহীন মানুষকে ঘর উপহার দিয়ে বিশ্বে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশ তথা সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। ঘর পেয়ে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পেরে অনেকেই আবেগে কেঁদে ফেলেন। খুশি যেন আর ধরে না। যারা কখনো ভাবতেও পারেননি এক টুকরো জায়গা হবে নিজের। কেউ সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতে পারবে না। উটকো ঝামেলা বলে গাল-মন্দ করতে পারবে না। তারা পেলেন নির্মিত একটি সম্পূর্ণ বসবাসের উপযোগী একটি ঘর।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ভার্চুয়ালি দেশের বিভিন্ন জেলায় যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুবিধাভোগী মানুষগুলোর সন্তুষ্টির কথা শোনেন। একেবারেই দরিদ্র, দুস্থ মানুষগুলোর সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এ সময় তিনি ঠিকানা পাওয়া মানুষগুলোকে ঘরের সামনে যেকোনো একটা করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেন। অন্তত একটা বরইগাছ হলেও লাগাবেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সুবিধাভোগীদের কণ্ঠে মুহুর্মুহু সেøাগান ছিল জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। সুবিধাভোগী মানুষগুলো নিজেদের অঞ্চলের বিখ্যাত গান পরিবেশন করে শোনান শেখ হাসিনাকে। নানা আয়োজনে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। নিজের মাথা গোঁজার ঠিকানা পেয়ে মানুষগুলোর চোখে আনন্দাশ্রু দেখা গেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান থেকে ঘর পাওয়া মানুষদের সীমাহীন আনন্দের অনুভূতির তথ্য পাওয়া গেছে।

উপহার পাওয়া মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন। তারা বলেন, আমাদের মতো মানুষের পাশে দাঁড়াতে আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে। দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষদের মধ্যে যাদের ভূমি নেই তাদের সরকারের খাসজমি থেকে দুই শতাংশ ভিটেসহ ঘর দিয়েছে সরকার। যাদের ভিটে আছে ঘর নেই তাদের ঘর দেওয়া হয়েছে।

দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘরের সামনে একটি বারান্দা, একটি টয়লেট, একটি রান্নাঘর এবং এক টুকরো খোলা জায়গা থাকবে। প্রতি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং মালামাল পরিবহনের জন্য চার হাজার টাকা ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি মানুষও গৃহহীন, ঠিকানাবিহীন ও গৃহহারা থাকবে না। হয়তো আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। তাই আমরা সীমিত আকারে করে দিচ্ছি। সব মানুষের জন্য ঠিকানা আমরা করে দেব। কারণ আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি মানুষ ঘরে থাকলে আমার বাবা, মা যে ত্যাগ শিকার করেছিলেন এই দেশের মানুষের জন্য, তাতে তাদের আত্মা শান্তি পাবে। আজকে আমরা সবচেয়ে খুশি এত অল্প সময়ে এতগুলো মানুষকে ঠিকানা দিতে পারছি। এই শীতের মধ্যে এই সব মানুষ ঘরে থাকতে পারবে। সরকারপ্রধান বলেন, আজকে আমার সত্যি একটি আনন্দের দিন। কারণ এ দেশে যারা সব থেকে বঞ্চিত মানুষ ঠিকানা ছিল না, ঘর বাড়ি নেই তাদের অন্তত একটা ঠিকানা, মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে পেরেছি।

এ সময় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী থেকে ঘর পাওয়া পারভীন আক্তার নামে এক নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলতে গিয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করেন।

নিজের স্বামী নিয়মিত কাজ পান না জানিয়ে পারভীন বলেন, খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটে। মাঝেমধ্যে না খেয়ে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। কোনো দিন ভাবিনি ঘর হবে। আপনি আমাদের সেই ভাবনা মিথ্যা প্রমাণ করেছেন, ঘর দিয়েছেন, জমি দিয়েছেন। আপনি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকুন। কয়েকটি বাক্য বলেই উপকারভোগী পারভীন কৃতজ্ঞতায় কাঁদতে থাকেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে সান্ত¡না দিয়ে বলেন, আপনি কাঁদবেন না। আমি মনে করি এটা আমার কর্তব্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, জাতির পিতার কন্যা হিসেবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করব, এটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তার স্বপ্ন পূরণ করব। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে সে জন্য আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করেছি। বাংলাদেশে একটি মানুষও যেন গৃহহীন ও ভূমিহীন না থাকে, আমি সেই ব্যবস্থা করব। আর মুজিববর্ষে এটাই বড় উৎসব।

সরেজমিনে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, যারা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন তাদের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তাদের কেউ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের স্বামী পরিত্যক্তা মর্জিনা বেগম বলেন, এক মেয়ে নিয়ে বাঁশের কঞ্চির বেড়ার ঝুপড়িতে থাকি। দিনমজুর খেটে কোনো রকমে জীবন চলছে। নিজের একটা ঘর হবে কোনোদিন ভাবিনি। প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি। তিনি আমাদের ঘর দিয়েছেন, জমি দিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদরের দিনমজুর অরবিন্দ গাইন বলেন, আগে সরকারি খাসজমিতে খড়ের চালাঘরে থাকতাম। নিজের ঠিকানা ছিল না। শেখের বেটি আমাদের ঘর ও জমি দিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।

সারা দেশে ঘর নেই, জমি নেই এমন পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১। ভিটেমাটি আছে, ঘর জরাজীর্ণ কিংবা ঘর নেই এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১। মুজিববর্ষ উপলক্ষে যে তালিকা করা হয়েছে সব মিলিয়ে সেই তালিকায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবার রয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ঋণপ্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয় বাড়ে এমন কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ।

এর আগে গত ২৩ জুলাই কক্সবাজার জেলায় জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপে নির্মিত ২০টি ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেখানে প্রথম ধাপে উদ্বোধন হওয়া ভবনগুলোয় ফ্ল্যাট পেয়েছে ৬০০টি পরিবার। ১০০১ টাকা নামমাত্র মূল্যে এসব ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারা দেশ ৯ লাখ পরিবারকে দেওয়া হবে ঘর। এরই অংশ হিসেবে আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবারকে দেওয়া হবে সরকারি এসব ঘর।

বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলা করাই বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কাজ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘একটা মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতা দখল করে একদিন ঘোষণা দিল যে “আজ আমি রাষ্ট্রপতি হলাম।” তারপরই সেটা গণতন্ত্র হয়ে গেল।’

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কী পেয়েছিল তখন? অনেকে গালভরা কথা বলে, গণতান্ত্রিক অধিকার পেয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকারটা কী? হ্যাঁ, অনেকগুলো রাজনৈতিক দল করার সুযোগ করে দিল, কিন্তু দুর্নীতি করা, মানি লন্ডারিং করা, ব্যাংকে ঋণ খেলাপ করা। টাকা ব্যাংক ছাপিয়ে নিয়ে এসে সেগুলো ছড়িয়ে দিয়ে “মানি ইজ নো প্রবলেম” সে কথা শোনানো এবং “আই উইল মেইক পলিটিকস ডিফিকাল্ট ফর পলিটিশিয়ান’ এ কথাও জিয়াউর রহমান বলে গেছে। জিয়াউর রহমানের কাজই ছিল এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলা।’

বিএনপির গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘এ দেশের মানুষকে দরিদ্র থেকে দরিদ্র রাখা আর মুষ্টিমেয় লোকদের টাকা-পয়সা দিয়ে তাদের তার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা, মেধাবী ছেলেদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের বিপথে ঠেলে দেওয়া। নির্বাচনের নামে প্রহসন সৃষ্টি করা।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা গণতন্ত্রের জন্য এত কথা বলেন, তাদের কাছে একটাই প্রশ্ন, এটা কী করে গণতন্ত্র? একটা দল হলো, হাঁটতে-চলতেও শিখল না। ক্ষমতায় বসে, ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দলের সৃষ্টি, সে ক্ষমতায় আসে আর মানুষ পায় না এটা হয় কখনো? দেশের মানুষকে কীভাবে শোষণ করা যায়, অধিকার কেড়ে নেওয়া যায়, তাই চলেছে ২১ বছর। জিয়ার পরে এরশাদ এসেছে, খালেদা জিয়া এসেছে, প্রত্যেকেরই একই চরিত্র।’ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ায় জনগণকে ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।

জেলার খবর
আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাট জেলার নয়টি উপজেলায় ৪৩৩ পরিবারের এই ঘর পাওয়ার কথা। এর মধ্যে গতকাল ৩৩৮ পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে শরণখোলা উপজেলায় ১৯৭, বাগেরহাট সদরে ৫৪, কচুয়ায় ৩৬, রামপালে ১০, মোংলায় ৫০, মোল্লাহাটে ৩৫, চিতলমারীতে ১৭, ফকিরহাটে ৩০ ও মোরেলগঞ্জে ৬টি পরিবার এ ঘর পাচ্ছে।

যশোরে আটটি উপজেলায় প্রথম ধাপে ৬৬৬টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী কর্র্তৃক জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়েছে। এ জেলায় ১ হাজার ৭৩টি পরিবারকে জমিসহ নতুন ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যশোর সদর উপজেলায় ২৯০, ঝিকরগাছায় ১৯, চৌগাছায় ২৫, মনিরামপুরে ১৯৯, অভয়নগরে ৫৭, কেশবপুরে ১২ ও শার্শা উপলোয় ৫০টি পরিবার জমিসহ ঘর বুঝে পেয়েছে সুবিধাভোগীরা। চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়েছে ১১৫টি পরিবার। নওগাঁয় ১ হাজার ৫৬টি পরিবার ঘর পেয়েছে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, জেলায় ‘ক’ ও ‘খ’ শ্রেণির গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৯৩টি। প্রথম পর্যায়ে জেলার ১ হাজার ৫৬টি পরিবারকে দুই শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্তপূর্বক গৃহ প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১০, বদলগাছীতে ৪৮, মহাদেবপুরে ৩৪, আত্রাইয়ে ১৭৫, রানীনগরে ৯০, মান্দায় ৯০, সাপাহারে ১২০, নিয়ামতপুরে ৭১, পোরশায় ৫৪, ধামইরহাটে ১৫০ ও পত্নিতলায় ১১৪টি ঘর রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় জমি ও ঘর পেয়েছে ১৩৪ গৃহহীন পরিবার। জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে সদরের ৩৪, আলমডাঙ্গার ৫০, দামুড়হুদার ৩২ ও জীবননগরের ১৮ পরিবারকে দেওয়া হয় আধাপাকা নতুন ঘর। মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলার ৫০৮ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার শনিবার ঘর পেয়েছে। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ১০০, গজারিয়া উপজেলায় ১৫০, লৌহজং উপজেলায় ১৪৩, সিরাজদিখান উপজেলায় ২৫, টঙ্গিবাড়ি উপজেলায় ২০, শ্রীনগর উপজেলায় ৭০টি পরিবার জমির দলিলসহ এসব ঘর পেয়েছে। জয়পুরহাট জেলায় ১৬০টি পরিবারের মাঝে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে ২৬৮টি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় ৬০, কাপ্তাই উপজেলায় ৩০, রাজস্থলী উপজেলায় ৬২, বরকল উপজেলায় ১৯, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩৫, লংগদু উপজেলায় ৩৪ ও নানিয়ারচর উপজেলায় ২৮টিসহ ২৬৮টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলায় ৭৩৬টি বসতঘর নির্মাণের বরাদ্দ এসেছে।

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় ৩ হাজার ২২টি পরিবারকে ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিসি মাহমুদুল আলম বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার বাড়ি পাবে। তবে নির্মাণ শেষ করা ৩ হাজার ২২ জনকে শনিবার ঘর প্রদান করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার ৬০৭টি পরিবার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর কবুলিয়ত দলিলসহ নবনির্মিত বাসগৃহ পেয়েছে বলে টাঙ্গাইলের ডিসি ড. মো. আতাউল গণি জানিয়েছেন। কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলার ১৫৭টি পরিবার শেখ হাসিনার উপহার জমিসহ দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর পেয়েছে। উপকারভোগীদের এসব ঘরের চাবি, জমির কাগজ বুঝিয়ে দেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বরিশালে ১ হাজার ৯টি পরিবার ঘর পেয়েছে। ডিসি জসিম উদ্দিন হায়দার জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরিশালের ১ হাজার ৫৫৬টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়া হবে। ‘আজ ১ হাজার ৯টি পরিবারের হাতে জমি ও ঘরের কাগজ তুলে দেওয়া হয়েছে। অবিশিষ্ট ৫৪৭টি গৃহ নির্মাণের কাজ আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে শেষ হবে।

পঞ্চগড় ১ হাজার ৬৮ গৃহহীন পরিবারকে সেমিপাকা ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ডিসি ড. সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ১ হাজার ৫৭ পরিবারের মধ্যে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ২০৮, দেবীগঞ্জে ৫৮২, বোদায় ৫৫, আটোয়ারীতে ৭০ ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় ১৪২টি পরিবারকে এ ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে মন্ত্রী, সাংসদ, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের অর্থায়নে আরও ১১টি পরিবারসহ মোট ১ হাজার ৬৮ পরিবারকে সেমিপাকা ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নাটোর জেলার ৫৫৮টি পরিবার ঘর পেয়েছে। সদর উপজেলা মিলনায়তনে সুবিধাভোগীদের হাতে চাবি ও দলিল তুলে দিয়ে ডিসি শাহরিয়াজ বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৯৪ বর্গফুট আয়তনের ৫৫৮টি নতুন আধা পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১৬২, সিংড়ায় ৬০, গুরুদাসপুরে ৫০, বড়াইগ্রামে ১৬০, লালপুরে ৪২, বাগাতিপাড়ায় ৪৪ এবং নলডাঙ্গায় ৪০টি। গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৮৪৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার বাড়ি পেয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ১০৫, সুন্দরগঞ্জে ২৭২, গোবিন্দগঞ্জে ১২০, সাদুল্লাপুরে ১৭৯, ফুলছড়িতে ৭৫, সাঘাটায় ৩৫ ও পলাশবাড়ী উপজেলায় ৬০টি পরিবার এ বাড়ি পায় বলে জানান ডিসি আব্দুল মতিন।

ফেনীর সোনাগাজীতে ঘর ও জমি পেয়েছে ৩৫ পরিবার। শরীয়তপুরে ঘর ও জমি পেয়েছে ৬৯৯ পরিবার। পাবনায় ঘর ও জমি পেয়েছে ১ হাজার ৮৬ পরিবার। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ঘর ও জমি পেয়েছে ৯২ পরিবার। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় ঘর ও জমি পেয়েছে ৩৫ পরিবার। নরসিংদীতে ঘর ও জমি পেয়েছে ২২১ পরিবার। নড়াইলে ঘর ও জমি পেয়েছে ১০৫ পরিবার।

হবিগঞ্জে বাড়ি পেয়েছে ৭৪টি পরিবার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় ৪৫টি পরিবার পেয়েছে সেমিপাকা টিনশেডের ঘর। প্রত্যেক পরিবার দুই শতক করে ভূমির মালিক হয়েছে। ভোলার সাত উপজেলার ৫২০ জন গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারের মাঝে জমির কবুলিয়ত দলিল, নামজারি, গৃহ প্রদানের সনদ ও ঘরের চাবিসংবলিত ফোল্ডার হস্তান্তর করা হয়।

মাদারীপুরে ৯০৮টি ভূমিহীন পরিবারকে দেওয়া হবে জমিসহ বসতঘর। এরই মধ্যে ১৪৬টি পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বসতঘর। গতকাল শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে থেকে জমিসহ প্রত্যেকের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার উপকারভোগী ৮৫ পরিবারের মাঝে বসতঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। ঝালকাঠিতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেল ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৩০ পরিবার।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের হাতে জমি, ঘরের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জোহর আলী। খুলনা জেলায় ৯২২ পরিবার পেয়েছে বাড়ি। এর মধ্যে তেরখাদা উপজেলায় ৪০, দিঘলিয়ায় ৭০, ডুমুরিয়ায় ১৪০, ফুলতলায় ৪০, রূপসায় ৭২, পাইকগাছায় ২২০, বটিয়াঘাটায় ১৫০, কয়রায় ৫০, দাকোপে ১৪০টি। কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলায় ৬১৬টি পরিবার ঘর পেয়েছে।

চট্টগ্রাম বাঁশখালীর ২৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘর স্থানান্তর করা হয়। লক্ষ্মীপুর জেলায় ভূমি ও গৃহহীন ৩২০টি পরিবারকে ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে প্রথম দফায় ১০০ পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। বাকি ২০০ ঘর নির্মাণকাজ শেষে পরে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১০১১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমিসহ ঘর প্রদাণ করা হয়েছে। সাভারে ৪১টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাধে জমিসহ বাড়ির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। সূত্র: দেশ রুপান্তর

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 80
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    80
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: