সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

চাকরির প্রলোভনে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান!

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের বুড়িরহাঁট এইউ দাখিল মাদরাসার বিভিন্ন পদে নিয়োগের কথা বলে ১০ থেকে ১৫ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ইউপি চেয়ারম্যান ওই মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের ছালেহা বেগমসহ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী টাকা উদ্ধারের দাবিতে পৃথক পৃথকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ এবং সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদখানা এইউ দাখিল মাদরাসায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর হাফিজার রহমান হাফি মাদরাসায় নিয়োগ দেয়ার কথা বলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে, তা আত্মসাৎ করেন।

ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিধবা ছালেহা বেগম বলেন, পাঁচ বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। আমার তিন মেয়ে দুই ছেলে। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক কষ্টে এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে দুই মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি। এইউ দাখিল মাদরাসার নিরাপত্তা কর্মী পদে আমার ছেলে ফিরুতকে নিয়োগের জন্য মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং চাঁদখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফিকে দুই লাখ টাকা দিয়েছি। কিন্তু সভাপতি আরও বেশি টাকা নিয়ে অন্য প্রার্থীকে ওই পদে নিয়োগ দেন। পরে আমি টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তীতে টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেই।

ছালেহা ছাড়াও দফতরি পদে আরিফুর রহমানের কাছে ৩ লাখ টাকা, নিরাপত্তা কর্মী পদে মাহবুবার রহমানের কাছ থেকে এক লাখ টাকা, নৈশ প্রহরী পদে রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে এক লাখ টাকা, নৈশ প্রহরী পদে বিলু মিয়ার কাছে ৩ লাখ টাকা এবং একই পদে আলমগীর হোসেন নামে একজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকাসহ ১০ থেকে ১৫ জন প্রার্থীর কাছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে।

ওই মাদরাসার সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, মাদরাসায় বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর তিনটি পদে মোট ২০ জন প্রার্থী আবেদন করে। গত ২৪ অক্টোবর তিনটি পদের পরীক্ষা সৈয়দপুর কারিগরি সরকারী কলেজে অনুষ্ঠিত হয়। ওই তিন পদে তিন প্রার্থীর নিয়োগের পর জানতে পারি সভাপতি সব প্রার্থীর কাছ থেকে নিয়োগের জন্য টাকা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফি বলেন, যারা আমার নামে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছে, তারা কী কোনো ডকুমেন্ট দিতে পারবে। কিশোরগঞ্জ উপজেলার সবাই এ ধরনের অভিযোগ করতে পারে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরুল আমিন শাহ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নিয়োগের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। লিখিত অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে নানা অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া নৈশ প্রহরী হিসেবে যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করে দেখা গেছে ওই প্রার্থীর বয়স ৪২ বছর। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর বেশি কিছু বলতে পারব না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা বেগম বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্র: জাগো নিউজ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: