সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিইসির বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগের পক্ষে অনড় ৪২ বিশিষ্ট নাগরিক

রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ জানিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তদন্তের আবেদনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যকে দায়সারা বলছেন ৪২ বিশিষ্ট নাগরিকের কেউ কেউ। তাঁরা বলছেন, এতে অভিযোগ খণ্ডন হয়ে যায় না।

অবশ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যের জবাব তৈরির জন্য আজ শনিবার এ নাগরিকরা বৈঠক করতে পারেন। আগামীকাল রবিবার তাঁরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁদের মতামত জানাতে পারেন।

তার আগে ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে তাঁদের কেউ কেউ বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার অভিযোগকারী নাগরিকদের অন্যতম সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ এ কথা জানান।

এ নাগরিকদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তাঁরা গত বৃহস্পতিবার দেওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার বক্তব্যকে অভিযোগ আড়ালের চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে নির্বাচনে অনিয়ম, নির্বাচনী ফলাফলে অসংগতি, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) নানা ত্রুটি, প্রশিক্ষণে প্রতিদিন কে কতবার বক্তব্য দিয়েছেন, কত টাকা করে পেয়েছেন—এসব তথ্য নুরুল হুদার বক্তব্যে প্রকাশ পায়নি বলেই তাঁদের মূল্যায়ন।

অভিযোগকারী নাগরিকদের অন্যতম সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছি। আর নির্বাচন কমিশন তার প্রতিবাদ করেছে। প্রতিবাদ জানাতেই পারে, কিন্তু তাতে অভিযোগ খণ্ডন হয়ে যায় না। আমরা আমাদের অভিযোগের পক্ষে অনড় আছি। আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিকভাবে এ অভিযোগ করেছি। আমরা যেসব বিষয়ে অভিযোগ করেছি তা গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এবং তা প্রকাশিত। আশা করছি, রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবেন।’

বদিউল আলম বলছেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে কেউ কেউ বলেন, সংবিধানের ষষ্ঠদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এর বিধান বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু এই সংশোধনীর বিরুদ্ধের সর্বোচ্চ আদালতের যে রায় আছে তাতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনে কোনো বাধা নেই। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই হচ্ছে দেশের আইন। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অভিযোগকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার উদ্দেশ্যপূর্ণ বলেছেন। অবশ্যই আমাদের উদ্দেশ্য রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতো রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

শনিবারের বৈঠক ও রবিবারের সম্ভাব্য সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে সুজন সম্পাদক বলেন, এ ধরনের একটি চিন্তা-ভাবনা তাঁদের রয়েছে।

আরেকজন বিশিষ্ট নাগরিক বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ফলাফল নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে তাতেই জানা গেছে, ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত নয়। এ ছাড়া ওই ফলাফলে জানা যায়, ৫৯০টি কেন্দ্রে বৈধ ভোটের শতভাগ একটি প্রতীকে পড়েছে। এটিও অবিশ্বাস্য। এসব অবাস্তব ও অস্বাভাবিক ঘটনা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের কোনো ব্যাখ্যা নেই। নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারি দলের বক্তব্য যখন এক হয়ে যায় তখন সেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। তাঁরা এ নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ অবস্থানে দেখতে পাচ্ছেন না।

গত ১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ এনে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের’ মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেন দেশের ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের অভিযোগগুলোর মধ্যে বড় অংশ জুড়ে আছে নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও গুরুতর অসদাচরণ। এতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ছয় মাস পর তথ্য অধিকার আইনের অধীনে বাধ্য হয়ে প্রকাশ করা কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে অনেক অস্বাভাবিকতা ও অসংগতি লক্ষ করা যায়, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে প্রকাশিত ফলাফল ছিল বহুলাংশে বানোয়াট।

অভিযোগে বলা হয়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায় যে ৫৯০টি কেন্দ্রে বৈধ ভোটের শতভাগ একটিমাত্র প্রতীকে পড়েছে। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীরা এক হাজার ১৭৭টি (মোট কেন্দ্রের ২.৯৩ শতাংশ) কেন্দ্রে, লাঙল প্রতীক তিন হাজার ৩৮৮টি (মোট কেন্দ্রের ৮.৪৪ শতাংশ) কেন্দ্রে, হাতপাখা প্রতীক দুই হাজার ৯৩৩টি (মোট কেন্দ্রের ৭.৩০ শতাংশ) কেন্দ্রে, এমনকি সরকারদলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী দুটি কেন্দ্রে কোনো ভোটই পাননি, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলাফলের এমন অস্বাভাবিকতা নির্বাচন কমিশনের গুরুতর অসদাচরণের প্রতিফলন। এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে কমিশনকে উদ্যোগ নিতেও দেখা যায়নি, যা আইন প্রয়োগে কমিশনের ইচ্ছাকৃত এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যর্থতা বলে ওই নাগরিকরা মনে করেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিনের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে অভিযোগে বলা হয়, বিবিসি বাংলার এক সাংবাদিক চট্টগ্রাম-১০ আসনের একটি কেন্দ্রে সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ব্যালট বাক্স ভরা দেখতে পান। ভোটগ্রহণের সারা দিনই পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচনের পর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত এক জরিপেও আগের রাতে সিল মেরে রাখার অভিযোগ উঠে আসে। দৈবচয়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৩টি আসনেই আগের রাতে সিল মেরে রাখার ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে টিআইবি।

এ ছাড়া খুলনা, গাজীপুর, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম এবং এসব নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগও জানান এসব নাগরিক।

এসব অভিযোগের জবাবে সিইসি নুরুল হুদা গত বৃহস্পতিবার বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ ও বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। নির্বাচন নিয়ে তাঁরা কোনো অভিযোগ তোলেননি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দল সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতেও কোনো গুরুতর অনিয়ম ও অসদাচরণের কোনো বিষয় প্রচার করা হয়নি। তিনি আরো বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে অনেক ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করা হয় এবং পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র: কালের কন্ঠ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: