সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ১৩ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৪ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিলেটে চলছে দ্বিতীয় দিনের পরিবহন ধর্মঘট : জনদুর্ভোগ চরমে


সিলেটের সব পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে ‘বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’র ডাকা ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট চলছে। এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আরো ২৪ ঘণ্টা ধর্মঘট বাড়িয়েছে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা। ফলে ধর্মঘটের কারণে কার্যত প্রায় অচল হয়ে পড়েছে সিলেট বিভাগ। গত তিন দিনে সিলেট জুড়ে পরিবহন ধর্মঘটে দুর্ভোগে নাকাল সাধারণ মানুষ। পথে পথে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সিএনজি অটোরিকশার ধর্মঘটের মধ্যে অন্যান্য পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন যুক্ত হওয়ায় এই দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে গেছে অনেকগুণ।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের প্রথম দিনেই সারাদেশ থেকে সিলেট বিছিন্ন হয়ে পড়ে । সকল গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন কর্মস্থলগামী বা ঘরে ফেরা মানুষ। আবার কেউ কেউ ভ্যান রিকশা করে কর্মস্থলে ছুটেছেন। ধর্মঘটের সুযোগ নিয়ে পাঠাও-উবারের রাইডার এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে মোটরসাইকেল চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। গভীর রাত পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি বিরাজ ছিলো সিলেটের সড়কগুলোতে।

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। সেখানকার বাস, ট্রাক, ট্যাংকলরি, মাইক্রোবাস, লেগুনা ও সিএনজি’সহ সকল প্রকার পরিবহনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে মিছিল-সমাবেশ করেছেন। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের তেমুখি, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চন্ডিপুল ও তেলিবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও রাস্তায় পিকেটিং করেছেন শ্রমিকরা। এসময় টমটমসহ ছোট ছোট যানবাহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিতে দেখা যায় শ্রমিকদের। এতে যাত্রী ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। নগরের প্রবেশদ্বার ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে বেশিরভাগ সড়কে শ্রমিকদের লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতেও দেখা যায়।

অন্যদিকে, সকাল থেকে সিলেট থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো গাড়ি। সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে দূরপাল্লার কোচগুলো। টার্মিনালে আসা অনেক মানুষকে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, সকাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। তবে বিকেলে দু একটি বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়।

ধর্মঘটের সুযোগে সিলেটে রিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে। একই অবস্থা রাইড শেয়ারভিত্তিক অ্যাপস কোম্পানি পাঠাও-উবারেরও।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩ টার দিকে দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন সিলেটের ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ। তিনি জানান, দু ঘণ্টা আগে বের হয়েও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। এই ধর্মঘট অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ধর্মঘট আহ্বানকারীদের দাবি পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় সিলেটের ট্রাক মালিকরা গভীর সঙ্কটে পড়েছেন। এছাড়া জাফলং ও গোয়াইনঘাট সড়কে বাস-অটোরিকশার যাত্রীও অনেক কমে গেছে। ফলে সকলেই ক্ষুব্ধ। তাই পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনে সকল পরিবহনের শ্রমিক-মালিকরা সম্পৃক্ত হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।

এদিকে পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেও সিলেট থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যথা নিয়মে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেন ছেড়ে যায়।

সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল জানান, জেলা প্রশাসনের বৈঠকে আমরা বরাবরের মতো আমাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরেছিলাম। পরিবেশ বিধ্বংসী বোমা মেশিন নয়, শ্রমিকদের মাধ্যমে আমরা পাথর উত্তোলন করতে চাই জানালেও বৈঠকে কোনও সমাধান আসেনি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের মতামত বা দাবিকে গুরুত্ব দেননি। তাই আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। টানা তিন দিন পুরো সিলেট বিভাগে সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। পরে আরো কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ জাকারিয়া আহমদ জানান, ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি তারা শান্তিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। ‘বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’র ডাকা ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটে একাত্মতা পোষণ করে আরো ২৪ ঘণ্টা ধর্মঘট বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রমিকদের তিনি ধর্মঘট সফলের আহবান জানান।

এসএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফুল্লাহ তাহের বলেন, সিলেট নগরীসহ মেট্রোপলিটন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন ছিলো। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সর্বদা সতর্ক অবস্থানে ছিলো।

এদিকে, আজ বুধবার সকাল থেকে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক গোলাম হাদী ছয়ফুল, সদস্য সচিব আবু সরকার।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত আছেন ও সিলেট জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সহ সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ রিমাদ আহমদ রুবেল, সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি আব্দুস সালাম, সহ সভাপতি জুবের আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমির উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জিক লিটু, দফতর সম্পাদক আফজল চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, নির্বাহী সদস্য মোঃ নুরুল আমীন, শাহাদত হোসেন, আকমাম আব্দুল্লাহ, জেলা ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক সামাদ রহমান, কোষাধ্যক্ষ রাজু আহমদ তুরু প্রমুখ।

মিছিল-সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১০ লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে আমরা মানবতার জন্য শান্তিপর্ণভাবে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 40
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    40
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: