সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় প্রশাসনে চাপা ক্ষোভ

প্রশাসনে অবসরপ্রাপ্ত কিংবা অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) বাতিল করে কর্মকর্তাদের বারবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সংস্কৃতি বহুদিনের পুরনো। তবে গেল কয়েক বছরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নজির সৃষ্টি করেছে। কোনো কোনো সচিব/ সিনিয়র সচিব চাকরি জীবন শেষ করার পর টানা তিনবার পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়ারও রেকর্ড করেছেন। ফলে যথেষ্ট দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তা সচিব হতে পারছেন না। কারণ পদগুলো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কর্মকর্তারাই দখল করে রেখেছেন। প্রশাসনের শীর্ষ পদ মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ প্রায় একডজন কর্মকর্তা চুক্তিতে চাকরি করছেন।

এ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কমিয়ে নিয়মিত কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রশাসন চালানো হলে কাজ আরও গতিশীল হবে। চুক্তির ফলে ঘুরেফিরে পুরনো কর্মকর্তারাই চাকরি করে যাচ্ছেন, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সচিব হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চুক্তি সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য এসব কর্মকর্তা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ডিসেম্বর থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫ জন সচিব পিআরএলে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসও রয়েছেন এ তালিকায়। তাদের মধ্যে দু-একজনকে একই পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার চুক্তিতে চাকরি করছেন এমন দু-একজনকেও মেয়াদ শেষে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ প্রায় ডজনখানেক সচিব-সিনিয়র সচিব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে সরকারের চাকরি করছেন। সামনে যদি আরও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় তা হলে প্রশাসনে ভারসাম্য নষ্ট হবে। সুতরাং প্রশাসনকে গতিশীল রাখতে এবং বৈষম্য দূর করতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এখনই বন্ধ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আবশ্যকতা আছে। তবে চুক্তিতে যত কম নিয়োগ দেওয়া যায় প্রশাসনের জন্য ততই ভালো।

জানা গেছে, প্রশাসনে বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সচিব-সিনিয়র সচিব রয়েছেন ৮৩ জন। তাদের মধ্যে গ্রেড-১ মর্যাদার রয়েছেন ১৬ জন, অতিরিক্ত সচিব ৫৩২ জন, যুগ্ম সচিব ৭৩৫ জন, উপসচিব ১ হাজার ৬৩৪ জন, সিনিয়র সহকারী সচিব ১ হাজার ৫৭০ জন এবং সহকারী সচিব ১ হাজার ৪৯৬ জন।

ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিআরএলে যাচ্ছেন যারা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকের সিনিয়র সচিব মো. দিলওয়ার বখত পিআরএলে যান। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ৫ম ব্যাচের কর্মকর্তা। রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ৭ম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার চাকরি শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. ইয়াকুব আলী পাটওয়ারীর চাকরিও আছে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস ৩১ ডিসেম্বর পিআরএলে যাবেন।

একই তারিখে অবসরে যাচ্ছেন ভূমি সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি অবসরে যাবেন শিক্ষা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর। তিনি বিসিএস ৮ম ব্যাচের কর্মকর্তা। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদের পিআরএল ৫ জানুয়ারি, বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) সুবীর কিশোর চৌধুরীর (৭ম ব্যাচ) চাকরি জীবন শেষ করবেন ১২ জানুয়ারি। এ ছাড়া ১৪ জানুয়ারি পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম (৭ম ব্যাচ) পিআরএলে যাচ্ছেন।

ফেব্রুয়ারিতে পিআরএলে যাবেন আরও ৬ সচিব। তারা হলেন ৫ম ব্যাচের কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ২ ফেব্রুয়ারি, ৫ম ব্যাচের কর্মকর্তা তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম ৪ ফেব্রুয়ারি, ৯ম ব্যাচের কর্মকর্তা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শফিকুল আহমেদ ১২ ফেব্রুয়ারি, ৭ম ব্যাচের কর্মকর্তা পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসাইন আকন্দ ১৫ ফেব্রুয়ারি, একই ব্যাচে কর্মজীবন শুরু করা মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার এবং ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) উম্মুল হাছনা ২৮ ফেব্রুয়ারি পিআরএলে যাচ্ছেন।

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় কর্মকর্তারা চুক্তিতে নিয়োগ পান। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। সুতরাং চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে যতই সমালোচনা থাকুক না কেন, দেশের ভালো চিন্তা করেই প্রধানমন্ত্রী অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চুক্তিতে নিয়োগ দেন। এটা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের জন্য ভালো।

অন্যদিকে অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কর্মজীবনের শেষে এসে সবাই সচিব হতে চান। কিন্তু পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি সম্ভব হয় না। কিন্তু সীমিত পদের মধ্যেও বারবার চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যা আরও বাড়ে। প্রশাসন থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সংস্কৃতি বন্ধ হলে অনেকে উৎসাহ নিয়ে কাজ করবেন। নিজের সেরা কাজটি দেখাবেন। কারণ তিনি প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ সচিব হতে চাইবেন। চুক্তির ফলে সেটি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। মনে কষ্ট ও হতাশা নিয়েই অনেক দক্ষ কর্মকর্তা চাকরি জীবন শেষ করেন।

চুক্তিতে আছেন যারা : মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিতে কাজ করছেন। পদাধিকার বলে তিনি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগেরও সচিব। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ‘বিকল্প নির্বাহী পরিচালক’ পদে তিন বছরের চুক্তিতে রয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম দুই বছরের চুক্তিতে আছেন, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম তিন বছরের চুক্তিতে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান পদে গত কয়েকদিন আগে চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার। বিটিআরসিতে তিন বছরের চুক্তিতে কমিশনার পদে আছেন সুব্রত রায় মৈত্র।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া দুবছর করে চার বছরের চুক্তিতে আছেন। বাংলাদেশ হাই- টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে হোসনে আরা বেগম দুবছর করে চার বছরের চুক্তিতে রয়েছেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পদে দুবছর করে চার বছরের চুক্তিতে আছেন পবন চৌধুরী। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক আছেন এক বছরের চুক্তিতে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে দুবছর করে দুই দফায় চার বছর চুক্তিতে আছেন মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে তিন বছরের চুক্তিতে কাজ করছেন সাবেক সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। তিনি পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা।

চুক্তিভিত্তিক চুক্তি নিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএসএ) সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।সূত্র: আমাদের সময়

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20
    Shares
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: