সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদের ভয়ঙ্কর আলবদর গঠনের প্রামাণ্য দলিল

‘পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের কর্মীরা যারা দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে এবং যারা অনুগত, আন্তরিক ও সৎ পাকিস্তানি, তারা এই দুঃসময়ে সর্বোত্তমভাবে জাতির সেবা করতে প্রস্তুত।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের কাছে এভাবেই বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের (আইসিএস) সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয় রুখে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টায় আইসিএসের সদস্যদের নিয়ে কুখ্যাত আলবদর বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল।

জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদদের গঠন করা আলবদর বাহিনী ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে হত্যা করেছিল বাঙালির গর্ব বুদ্ধিজীবীদের।

এই আলবদর বাহিনী এক ভয়ঙ্কর মিলিশিয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। তাদের কর্মকাণ্ড পরবর্তীতে পরিকল্পিত গণহত্যায় রূপ নেয়। মুজাহিদের নেতৃত্বে যুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানের আসন্ন পরাজয়ের জেনে পরিকল্পিতভাবে দেশটির উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা তথা শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং শিল্পীদেরকে বাড়ি বাড়ি থেকে খুঁজে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

এ হত্যাকাণ্ডগুলো এতটাই নির্মম ছিল যে, বিভিন্ন বধ্যভূমিতে অনেকের মরদেহ এত বিকৃত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল যে, তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই পরিত্যক্ত একটি আলবদর ক্যাম্পে পাওয়া দুটি নথির অনুলিপি হাতে এসেছে। রাজশাহীর যুদ্ধকালীন সাংবাদিক আহমেদ শফি উদ্দিন রাজশাহীতে আলবদরের ডিভিশনাল ইউনিটের একটি পরিত্যক্ত সদর দপ্তর থেকে পাকিস্তানি সামরিক প্রশাসনের একটি চিঠির সঙ্গে মুজাহিদের আলবদর বাহিনী গঠনের প্রস্তাবনার সাইক্লোস্টাইল করা অনুলিপিগুলো উদ্ধার করেছিলেন।

দিন, তারিখ ও স্বাক্ষরহীন এবং ইংরেজিতে লেখা এসব নথিপত্রে আলবদর বাহিনী গঠনের পরিপ্রেক্ষিত বর্ণনা করা আছে। সেই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ‘শত্রু’ এবং ‘দুর্বৃত্ত’ বলে অভিহিত করে তাদের নির্মূল করার লক্ষ্যে আলবদর বাহিনীর কর্মপরিকল্পনা, উদ্দেশ্য ও তৎপরতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

মুজাহিদ যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের আইসিএসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিল। আলবদর গঠনের প্রস্তাবনায় আইসিএসকে তিনি ‘ইসলামী জামিয়াত-ই-তালাবা পাকিস্তান’ নামে উল্লেখ করতে বেশি পছন্দ করেছে।

চিঠিতে মুজাহিদ জোর দিয়ে লিখেছে, কেবলমাত্র আইসিএসের পরীক্ষিত কর্মীদেরই ‘আলবদর স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীতে’ নিয়োগ দেওয়া হোক।

‘আলবদর কেবলমাত্র সেই পরীক্ষিত কর্মীদেরকে নিয়োগ করবে— যারা এমনকি তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্য কাজ করবে। আলবদর কর্মীদের সংখ্যার চেয়ে তাদের মানের দিকে খেয়াল রাখবে’— লেখা ছিল নথিতে।

মুজাহিদ প্রস্তাব করেছিল, এই আলবদর বাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ‘দুর্বৃত্তদের’ বাছাই এবং জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

তিনি আলবদর বাহিনীকে পাকিস্তানি হানাদারদের অন্যান্য সহযোগী সংগঠন, রাজাকার ও মুজাহিদ বাহিনীসমূহের পদমর্যাদার উপরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এর কারণ ব্যাখ্যা করে সে লিখেছে, ওই সংগঠনগুলো ‘সুবিধাবাদীদের দ্বারা’ দূষিত ছিল।

চিঠিতে সে উল্লেখ করে, ‘রাজাকার ও মুজাহিদদের উপরে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি নতুন দল সংগঠিত করা যেতে পারে, যার বেশিরভাগই হবে ছাত্র। অবশ্যই, ছাত্র নয় এমন যুবকদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও সৎ তাদেরকে এ বাহিনীর অধীনে রাখা যেতে পারে। তবে তাদের ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের অধীনে থাকার মানসিকতা থাকতে হবে।’

মুজাহিদের প্রস্তাবনা পাকিস্তান ও সেনাবাহিনীর প্রতি আইসিএসের আনুগত্যের বর্ণনা দিয়ে শুরু হয়। সে সেখানে আলবদর বাহিনীকে এতটা শক্তিশালী ও সাহসী হিসেবে প্রস্তুত করার পরামর্শ দিয়েছিল, যেন তারা পাকিস্তানের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান করলে নিকটাত্মীয়দেরও রেহাই না দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে।

এতে বলা হয়, ‘আমাদের কর্মীরা প্রকৃত ইসলামি কায়দায় প্রশিক্ষিত। একদিকে যেমন আমরা আমাদের নিকটতম আত্মীয়কে বাঁচাতে প্রস্তুত নই- যদি তিনি জাতির অখণ্ডতা ও সংহতির সক্রিয় শত্রু হন এবং অন্যদিকে আমরা জনগণের শান্তিপ্রেমী এবং নিরীহ অংশকে বিরক্ত করব না। আমরা বরং তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে চাই এবং তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সকল প্রকার ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে চাই।’

অপর নথিটি সামরিক প্রশাসনের একটি চিঠি যেটা— উদ্দেশ্যমূলকভাবে গোপনীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাতে আলবদর গঠনের রূপরেখা বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আলবদরকে কমান্ডো ধরনের বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাদের লক্ষ্যগুলো হবে সরকার/সেনাবাহিনীকে সহায়তা করা এবং নাশকতা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা।

স্বাধীনতার পরপরই মুজাহিদ আত্মগোপন করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে আবারও রাজনীতিতে ফিরে আসে। কালক্রমে, স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী বেড়ে ওঠে এবং বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় মুজাহিদকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুজাহিদকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। দুই বছর পরে তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হয়।

দিন, তারিখ ও স্বাক্ষরহীন এবং ইংরেজিতে লেখা এসব নথিপত্রে আলবদর বাহিনী গঠনের পরিপ্রেক্ষিত বর্ণনা করা আছে।

মুজাহিদের প্রস্তাব

ডেপুটি সাব মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরকে সম্বোধন করে মুজাহিদ দুই পৃষ্ঠার একটি চিঠি লিখেছিল। সেখানে বিষয় উল্লেখ ছিল ‘রাজাকার, আলবদর শাখা’। প্রস্তাবনার শেষে ছিল তার নাম।

চিঠিতে আলবদর গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করে মুজাহিদ বলেছে, ‘আইসিএস কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তারা নন-স্টুডেন্ট রাজাকার এবং মুজাহিদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারছে না। তবে আমাদের বাস্তব পর্যবেক্ষণটি হলো যে, অনেক স্থানে কিছু স্বার্থপর এবং সুযোগসন্ধানী সতীর্থরা রাজাকারদের মধ্যে প্রবেশ করেছে, যারা আমাদের সৎ ও সাহসী কর্মকাণ্ডের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও, আমরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে আমরা অসহায় বোধ করি, যখন দেখি কেউ দেশকে সহায়তা করার চেয়ে অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে এমন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে।’

চিঠিতে সে উল্লেখ করেছিল যে, ‘সমস্যাগুলো’ ডেপুটি মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, জোন ‘বি’-কে জানানো হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে সামরিক প্রশাসনের শাসনামলে পাকিস্তানকে দুটি জোনে বিভক্ত করা হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তান ছিল জোন ‘এ’ এবং বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছিল জোন ‘বি’। পাকিস্তানি জেনারেল টিক্কা খান জোন ‘বি’র নেতৃত্বে ছিলেন।

মুজাহিদ তার চিঠিতে ব্যাখ্যা করেছিল কেন শুধু আইসিএস কর্মীদের দিয়েই আলবদর গঠনের প্রয়োজন।

‘এটিই একমাত্র ছাত্র সংগঠন যা সমগ্র পাকিস্তানভিত্তিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে তার পৃথক পরিচয় বজায় রেখেছে এবং এদের সদস্য করা হলে প্রস্তাবিত আলবদর বাহিনীতে কোনো আন্তঃদলীয় সংঘর্ষ ঘটবে না। আমরা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা দলীয় স্বার্থের জন্য কাজ করছি না, বরং “জাতীয় সংকট” কাটিয়ে উঠতে আমরা আমাদের যথাসাধ্য সর্বোত্তম পদ্ধতিতে কাজে লাগাতে চাই’— বলা হয় চিঠিতে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জোন ‘বি’র উপসামরিক প্রশাসক ইতোমধ্যেই প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করেছে এবং সে ইসলামী ছাত্র সংঘকে ‘তাত্ক্ষণিকভাবে’ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশে আলবদর বাহিনী সংগঠিত করার নির্দেশনা দিয়েছে।

আলবদরের নীতিমালা ও কর্মসূচি
মুজাহিদের চিঠিতে আলবদর বাহিনীর যে নীতিগুলো বর্ণনা করা হয়েছে তার প্রথমেই বলা আছে, তারা পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্য কাজ করবে এমন পরীক্ষিত কর্মী বাছাই করবে। আলবদরের তিনটি গ্রুপ থাকবে, একটি জনসাধারণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। দ্বিতীয়টি, গোয়েন্দা শাখা হিসেবে কাজ করবে এবং তৃতীয়টি, সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেবে ও ফাইটিং গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে। এই বাহিনী নিজস্ব পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি পরিকল্পনা করবে এবং কর্মসম্পাদনের আগে স্থানীয় সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমোদন নেবে।

চিঠিতে জনগণের ব্রেইন ওয়াশিং এবং দেশকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদের ওপর কড়া নজরদারি ও তাদের বাছাই করে ধরে আনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আলবদর বাহিনীর কর্মসূচিতে জনমত গঠন করা এবং গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ, জনসভা ও প্রচারের মাধ্যমে স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

‘শিক্ষার্থীদের মনকে সংহত করার জন্য বিশেষ জোর দেওয়ার’ কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। বলা হয়, এটি স্থানীয় এবং অস্থানীয়দের (বাঙালি এবং বিহারি) মধ্যে ব্যবধানকে কমাতে কাজ করবে।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে তারা ‘দুর্বৃত্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যারা কাজ করছিল তাদের ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজর রাখার জন্য গোয়েন্দাদের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা ছিল তাদের আরেকটি কর্মসূচি। সেই সঙ্গে ছিল ‘দুর্বৃত্তদের’ ধরে আনা ও জিজ্ঞাসাবাদ এবং জনসভা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করা।

চিঠিতে বর্ণিত শেষ কর্মসূচি ছিল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যারা পাকিস্তান রাষ্ট্রবিরোধী কাজে যুক্ত তাদের এবং পাকিস্তান রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করা। প্রয়োজন হলে বিদ্রোহীদের পাকিস্তানের প্রতি অনুগত করতে সহায়তা করা।

রাজশাহীর যুদ্ধকালীন সাংবাদিক আহমেদ শফি উদ্দিন রাজশাহীতে আলবদরের ডিভিশনাল ইউনিটের একটি পরিত্যক্ত সদর দপ্তর থেকে পাকিস্তানি সামরিক প্রশাসনের একটি চিঠির সঙ্গে মুজাহিদের আলবদর বাহিনী গঠনের প্রস্তাবনার সাইক্লোস্টাইল করা অনুলিপিগুলো উদ্ধার করেছিলেন।

পাকিস্তানি আর্মির চিঠি

‘গোপনীয়’ উল্লেখিত পাকিস্তানি আর্মির চিঠিতে আলবদর স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠনের ঘোষণা এবং এর কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলেও কিছু শব্দ সামরিক ভাষায় কোড করা হয়েছিল।

এতে বলা হয়, আলবদরের দুটি মূল লক্ষ্য থাকবে। এগুলো হলো— আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সরকার/সেনাবাহিনীকে সহায়তা করা এবং সীমান্ত এলাকায় নাশকতা কার্যক্রম চালানোর জন্য স্পেক সিডিও (স্পেশাল কমান্ড ডিউটি অফিসার) ধরনের বাহিনী গঠন করা।

চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়, জেলা/মহকুমা পর্যায়ে আলবদর সংগঠন গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি উপবিভাগীয় পর্যায়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে ৩১৩ জন ছাত্র স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া হবে। এই শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজগুলোতে তাদের নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেবে এবং তাদের কার্যনির্বাহী কমিটি দ্বারা নির্ধারিত বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট সম্পাদন করবে।

আলবদর বাহিনীর সুবিধাদি
মুজাহিদ চিঠিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে ফাইটিং গ্রুপের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য স্থান এবং অন্যান্য সব দলের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিসহ অফিসের সুযোগ চেয়েছিল।

প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য রেশন ও ভাতা, অভিযানের জন্য পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচার ও তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম বা ‘প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ’ চেয়েছিল।

মুজাহিদ উপসংহারে লিখেছিল, ‘আমি প্রার্থনা করি এবং আশা করি আপনার কর্তৃপক্ষ অনুগ্রহ করে ইসলামী জমিয়তে-ই-তালাবা সদস্যদেরকে আপনার এলাকাজুড়ে আলবদর বাহিনী সংগঠিত করার অনুমতি দেবে।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সেনাবাহিনীর কমান্ডো টাইপ অপারেশন এবং এসএ (আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক) গুলি চালানো/ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ১৩ দিনের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান করবে। সেই সঙ্গে উপলব্ধতা এবং প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে বিদ্রোহী ও ভারতীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র/গুলি আলবদর বাহিনীকে দেওয়া হবে।’

নথিগুলো যেভাবে পাওয়া গেল
মুক্তিযুদ্ধের সময় আহমেদ শফি উদ্দিন সাপ্তাহিক সোনার দেশ পত্রিকার চিফ রিপোর্টার ছিলেন। এই সাপ্তাহিক ১৯৭০ সালে দেশের চার জাতীয় নেতার অন্যতম এএইচএম কামারুজ্জামান প্রকাশ করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সৈনিক সাঈদ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন এর সম্পাদক।

একাত্তরের ২৫ মার্চ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাজশাহী শহরের রানিবাজার এলাকায় অবস্থিত সাপ্তাহিকের অফিস ভাঙচুর করে এবং পত্রিকার সব সাংবাদিকদের মৃত্যুর পরোয়ানা ঘোষণা করে। সেসময় সাংবাদিকরা গ্রামে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাজশাহী শহরে ফিরে আসেন আহমেদ শফি উদ্দিন। তিনি এই নথি খুঁজে পান।

আহমেদ শফি উদ্দিন বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাজশাহী শহরে ফিরে এসে আমি যুদ্ধের প্রমাণসমূহ বিভিন্ন স্পট থেকে নথি সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। শহরের রানীবাজারে আলবদর বাহিনী ক্যাম্প করেছিল। আলবদরের বিভাগীয় সদর দপ্তর “মোহিনী নিকেতন” ঘুরে দেখার সময় কুয়োর ভেতরে আমি একটি ব্যাগ ভাসতে দেখি। আমার চাচাতো ভাই আমজাদ আলীর সহায়তায় ব্যাগটি উদ্ধার করি। এতে আলবদর নেতাদের দুই হাজার পৃষ্ঠার নথি পাওয়া যায়। গবেষণার জন্য অনেক অংশ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামকে দিয়েছিলাম। যেগুলোর একাধিক কপি ছিল সেগুলো রেখে দিয়েছিলাম।সূত্রঃ ডেইলি স্টার

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: