সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৪ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

কালো টাকা সাদা থেকে ৪০০ কোটি টাকার কর

চলতি অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার জন্য আয়কর অধ্যাদেশে নতুন দুটি ধারা যুক্ত করে সরকার। দেশে যাদের অপ্রদর্শিত সম্পদ ও অর্থ রয়েছে তাদের একটি অংশ বাজেটে দেওয়া সুযোগ নিচ্ছেন। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে তিন হাজার ৩৫৮ জন তাদের অপ্রদর্শিত অর্থ ও স্থাবর সম্পত্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৪০০ কোটি টাকা কর পেয়েছে। মূলত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, জমি, ভবন ও ফ্ল্যাট কেনা এবং নগদ টাকা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করে কালো টাকা সাদা করার ঘোষণা এসেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১৩২ জন করদাতা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করেছেন। এর মাধ্যমে এনবিআর ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কর পেয়েছে। এ অর্থের উৎসের ব্যাখ্যা ছাড়াই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যে কোনো ব্যক্তি করদাতা ১০ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করে পুঁজিবাজারে কোনো সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করলে তার অর্থের উৎস নিয়ে কর কর্তৃপক্ষসহ অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না। ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের ৩০ দিনের মধ্যে কর পরিশোধ করতে হবে।

অপ্রদর্শিত স্থাবর সম্পত্তি ও নগদ টাকা ঘোষণা দিয়েছেন তিন হাজার ২২০ জন। এ থেকে এনবিআর ৩৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকা কর পেয়েছে। সম্পত্তি বলতে জমি, ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট ইত্যাদি বোঝাবে। করদাতা আগের কর বছরগুলোতে এ ধরনের স্থাবর সম্পত্তি ও নগদ টাকা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ না করলে এ বছর প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নগদ টাকার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আর জমি, ভবন, অ্যাপার্টমেন্টের জন্য এলাকাভেদে বর্গমিটার হিসেবে কর পরিশোধ করতে হবে। জমির ক্ষেত্রে এলাকাভেদে প্রতি বর্গমিটারে ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ধার্য করা আছে। আর বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে এলাকাভেদে প্রতি বর্গমিটারে ২০০ টাকা থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত কর ধার্য করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার পর অর্থনীতিবিদরা এর সমালোচনা করেন। অনেকের মতে, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অনেক আগে থেকে দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু এতে সাড়া পাওয়া যায় না। এ ছাড়া এতে সৎ করদাতা নিরুৎসাহিত হন।

অনেক আগে থেকেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে আসছে সরকার। শিল্প খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এই সুযোগ প্রথম দেওয়া হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে। বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার কারণে দুই বছর পর এ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তৎকালীন তত্ত্বাধায়ক সরকার জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। সব শেষে শেয়ারবাজার, জমি, ভবন, অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা সাদা করেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। এ থেকে এনবিআর এক হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা কর পেয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ৯ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা সাদা করা হয়।সূত্র: সমকাল

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: