সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সিআইডি’র ডিএনএ ব্যাংকে ৩০ সহস্রাধিক প্রোফাইল

ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবের ডিএনএ ডাটাব্যাংকে এ মুহূর্তে ৩০ হাজারের বেশি প্রোফাইলিং সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে ২৪ হাজার প্রোফাইল ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে অপরাধীও শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ৬ হাজার প্রোফাইল সংরক্ষিত থাকলেও এর মাধ্যমে এখনও অপরাধী শনাক্ত করা যায়নি।

এছাড়া চাঞ্চল্যকর মামলার এক হাজার ৪০০টি রিপোর্ট প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সারা দেশ থেকে এসেছে ৫ শতাধিক মামলার আলামত। ডিজিটাল ফরেনসিকের জন্য এসেছে ৯ শতাধিক মামলার আলামত।

ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের নমুনা এবং সন্দেহভাজনদের নমুনা ম্যাচিং হলেই সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর রহস্য উদ্ঘাটনের দ্বার উন্মোচন হবে। প্রক্রিয়াধীন এসব রিপোর্টের মধ্যে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের আলামতই বেশি। সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সন্দেহভাজন আসামি গ্রেফতার না হওয়া বা গ্রেফতার ব্যক্তিদের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের প্রোফাইলের (প্রস্তুতকৃত) মিল না পাওয়ায় ৬ হাজার প্রোফাইল ম্যাচিং করা যায়নি।

তবে সবগুলো প্রোফাইল সংরক্ষণ করে রাখায় সন্দেহভাজন গ্রেফতার হলেই সংরক্ষিত প্রোফাইলের সঙ্গে সন্দেহভাজনের প্রোফাইল মিলিয়ে দেখা হয়। এ আলামতের মধ্যে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার আলামতও রয়েছে।

চাঞ্চল্যকর ওই হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়। তবে কে বা কারা ধর্ষণ করেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত সেপ্টেম্বরে ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানম হত্যাচেষ্টা মামলার হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে। ইউএনও-এর সাবেক মালী গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলামের প্যান্টে ইউএনও-এর বাবার প্রোফাইল পাওয়া যায়।

৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যায় যে পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি শনাক্ত হয়েছে ফরেনসিক ল্যাবের ব্যালিস্টিক পরীক্ষায়। এছাড়া আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে ফরেনসিক ল্যাব।

সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে জৈবিক আলামত পরীক্ষায় সারা দেশে সিআইডির অধীনে তিনটি ফরেনসিক ল্যাব রয়েছে। প্রধান ল্যাবটি সিআইডির প্রধান কার্যালয়ের মালিবাগে। এছাড়া চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে সিআইডির আরও দুইটি ফরেনসিক ল্যাব আছে।

ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে আছে ১২টি শাখা। এগুলো হচ্ছে- জেনারেল ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, কেমিক্যাল ল্যাব, হস্তলিপি শাখা, ফ্রিঙ্গার প্রিন্ট, ব্যালিস্টিক, অফিস, ক্রাইমসিন ইউনিট, জাল নোট ও মেকীমুদ্রা, আলোকচিত্র, অণুবিশ্লেষণ এবং পদচিহ্ন শাখা।

চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগীয় ল্যাবে জেনারেল ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং অফিস শাখা ছাড়া অন্য সব শাখাই রয়েছে।

জানা গেছে, সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের জনবল ২৮৪। এর মধ্যে ঢাকার জেনারেল ফরেনসিক ল্যাবে ৪২ জন বিশারদসহ ৭১ জন, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে ৩৪ জন বিশারদসহ ৪৪ জন এবং ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে ১২ জন বিশারদসহ ৪৬ জন কর্মরত।

চট্টগ্রাম ফরেনসিক ল্যাবে নয়জন বিশারদসহ ১২ জন এবং রাজশাহী বিভাগী ফরেনসিক ল্যাবে ১২ জন বিশারদসহ ১৭ জন কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া সারা দেশে ক্রাইমসিন ইউনিটে আছেন ৯৪ জন।

ভারতবর্ষে ১৯০৭ সালে সব প্রদেশে পুলিশ বাহিনীর অধীনে সিআইডি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছর তৎকালীন বাংলা প্রদেশে সিআইডির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে সিআইডি পরিচালিত হতে থাকে।

শুরু থেকেই সিআইডিতে ফরেনসিক ল্যাব থাকলেও সময়ে সময়ে এর আধুনিকায়ন হয়েছে। ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত একটি মাত্র ফরেনসিক ল্যাবই দীর্ঘদিন ছিল জৈবিক আলামত পরীক্ষায় সারা দেশের পুলিশের ভরসাস্থল।

২০০৯ সালে চট্টগ্রামে এবং চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে ফরেনসিক ল্যাব চালু হয়।

গত কয়েক বছরে সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবের অধীন ২৪ হাজার ২১২টি মামলায় ১০ লাখ ২৩ হাজার ৯৮৪টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত জেনারেল ফরেনসিক ল্যাব শাখার অধীনে ৬ হাজার ১৫১ মামলার ১৫ হাজার ৯০০, ডিজিটাল ফরেনসিক শাখায় ২০১২ থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৫২টি মামলায় ১১ হাজার ৯৪৪টি এবং ফরেনসিক ডিএনএ শাখার অধীন ২০১৬ সাল থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত ১১ হাজার ৫০৯টি মামলায় ৯ লাখ ৯৬ হাজার ১৪০টি রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। ফরেনসিক ল্যাব সূত্র জানায়, মাসে জেনারেল ফরেনসিকে ২৫০-৩০০, ডিজিটাল ফরেনসিকে ১৫০-২০০ এবং ফরেনসিক ডিএনএ শাখায় ২০০-২৫০টি মামলার আলামত পরীক্ষার জন্য আসে। এ চাহিদার মধ্যে জেনারেল ফরেনসিক থেকে ২০০- ২৫০, ডিজিটাল ফরেনসিক থেকে ১৩০-১৫০ এবং ফরেনসিক ডিএনএ থেকে মাসে ২০০-২২০ টি রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করতে জেনারেল ফরেনসিকে ৫ থেকে ১৫ দিন, ডিজিটাল ফরেনসিকে ৫ থেকে ২১ দিন এবং ফরেনসিক ডিএনএ-তে ৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে।

জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের কাছে যে কোনো ধরনের জৈবিক নমুনা দেয়া হলে আমরা তার প্রোফাইলিং করি। তবে সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করতে না পারলে সেই প্রোফাইলিং মেলানো সম্ভব হয় না।

যাদের প্রোফাইল ম্যাচিং করা সম্ভব হয়, তাদের প্রোফাইলও সংরক্ষণ করে রাখি। দীর্ঘদিন পরও যদি সন্দেহভাজন পাওয়া যায়, তাহলেও সংরক্ষিত প্রোফাইলের সঙ্গে সন্দেহভাজনের প্রোফাইল মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের ডিএনএ ভিন্ন। একজনের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে আরেকজনেরটা মিল পাওয়া যায় না। তবে অনেক সময় প্রোফাইল ম্যাচিংয়ের সময় সন্দেহভাজনের নমুনার মিল পাওয়া না গেলেও কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যায়।

তখন আমরা বুঝতে পারি, সন্দেহভাজনের নিকটাত্মীয়ের (রক্তের সম্পর্ক) কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তখন নিকটাত্মীয়কে শনাক্ত করা সহজ হয়ে যায়।সূত্র: যুগান্তর

 

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: