সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে কী করবেন ট্রাম্প?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম চার বছর মেয়াদের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে কর বাতিল ও নজরদারি মুক্তির কথা বলে আসছেন। তিনি ওবামা আমলের স্বাস্থ্যসেবা আইন বাতিল করলেও এখন পর্যন্ত সেই স্থানে নতুন কিছু আনতে পারেননি। এই বছরের বেশিরভাগ সময় তার কেটেছে করোনা মোকাবিলায় প্রশাসনের পদক্ষেপের সমর্থনে কথা বলতে এবং প্রকাশ্যে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ভ্যাকসিন, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়তে।

ট্রাম্প যদি আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে খুব বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের কোনও ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদের কোনও ভিশন হাজির করেননি। শুধু সাক্ষাৎকার, বিতর্ক ও ভাষণে তার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি হাজির হয়েছে। কিন্তু সমালোচকদের কোনও সন্দেহ নেই যে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে আরও চার বছর মানে হলো, ধনী ও গরিব, বিচার ও বর্ণবাদ, সত্য ও মিথ্যার ব্যবধান আরও বাড়বে। ট্রাম্প নির্বাচিত হলে আগামী চার বছরে রাজনৈতিক মেরুকরণ বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাবেক উপদেষ্টা বিল গ্যাটসন ব্রুকিংস ইন্সটিউটশন আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় বলেছেন, ‘ট্রাম্পের প্রথম চার বছরে ঐক্য ছিল না। সাংঘর্ষিকতার চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। আমি মনে করি না ট্রাম্প এই কৌশল সহজেই ছেড়ে দিতে পারবেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের চেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে তা আরও বাড়তে পারে।’

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক লিও প্যানেত্তা বলেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রে ট্রাম্প যেমনটি করেছেন তা হলো কোনও অবস্থাতেই তিনি ব্যর্থতা স্বীকার করবেন না। কোনও অবস্থাতেই তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি রাজি নন। কোনও অবস্থাতেই তিনি উপদেষ্টা এবং আরও অভিজ্ঞদের কথা শুনতে রাজি নন। এই কারণে ট্রাম্প নির্বাচিত হলে আমরা আগামী চার বছরে কোন দিকে দেশ যাবে তা ভাবতে গেলে আরও গভীর সংকটের কথাই উঠে আসে।’

কেমন হতে পারে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ

অর্থনীতি, কর ও ঋণ

মহামারির আগে বেকারত্বের নিম্ন হার ও ঊর্ধ্বগামী শেয়ার বাজার ছিল ট্রাম্পের তুরুপের তাস। করোনা সংকট শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেয়ার বাজার নিম্নগামী হয়, বেকারত্ব দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশে। মহামারি প্রায় ১ কোটি মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। যা ২০০৮-০৯ এর মহামন্দার চেয়ে বেশি।

ট্রাম্প পূর্বানুমান করেছিলেন, ২০২০ সালের শেষ দিকে মার্কিন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং ২০২১ সালে তা রকেট গতি পাবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন করোনার ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বা কার্যকর ওষুধ পাওয়া যাবে। এর ফলে জীবন স্বাভাবিক হবে। গ্রীষ্মতে তিনি বেতন-শুল্ক কর্তনের প্রস্তাব পাস করাতে চেয়েছিলেন কিন্তু সর্বদলীয় বিরোধিতায় তা ভেস্তে গেছে। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হলে ও ভোটারদের ম্যান্ডেট পেলে আবারও তা পাস করাতে চাইবেন ট্রাম্প।

রেসপন্সিবল ফেডারেল বাজেটের একটি কমিটির বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় আগামী ১০ বছরে ঋণ হতে পারে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এখন দেশটিতে ঘাটতি রয়েছে ১৩ ট্রিলিয়ন ডলারের এবং জাতীয় ঋণের পরিমাণ ২০ ট্রিলিয়ন।

করোনাভাইরাস মহামারি

ট্রাম্প দাবি করে চলেছেন যে, করোনাভাইরাস মহামারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেমোক্র্যাটিক গভর্নরদের করোনা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার দ্রুততর করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের এমন আশাবাদী অবস্থান অনেক অঙ্গরাজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে যাচ্ছে না। বিশেষ করে তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে গুরুত্বপূর্ণ ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট আছে এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রায়ই তার নিজের প্রশাসনের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। ভাইরাসকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষ ড. অ্যান্থনিও ফাউচিও বাদ যাননি ট্রাম্পের রোষানল থেকে। ভ্যাকসিন পাওয়ার সময় এবং ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের সঙ্গে একমত হতে পারেননি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলে আসছেন, তিনি একেবারে নিশ্চিত যে করোনার ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা খুব দূরে নয়। তবে বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক।

কংগ্রেসে পাস হওয়া ২ ট্রিলিয়ন করোনাভাইরাস আর্থিক প্রণোদনায় স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু আরও সহযোগিতা প্যাকেজ অনুমোদনে একমত হতে পারেনি উভয় পক্ষ।

স্বাস্থ্যসেবা

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দায়িত্ব গ্রহণের পরই সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার স্বাস্থ্যসেবা নীতি বাতিল করবেন নিজের পরিকল্পনা দ্বারা। তার পরিকল্পনার আওতায় স্বল্প খরচে সবার জন্য বিমা নিশ্চিত হবে। মার্কিনিরা এখনও ট্রাম্পের সেই পরিকল্পনার অপেক্ষা করছেন।

ট্রাম্প হয়ত সুপ্রিম কোর্টে ওবামাকেয়ার নিয়ে একটি মামলার রায়ের অপেক্ষায় আছেন। নির্বাচনের পরই এই রায় আসতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে বেরেট নিয়োগ পাওয়ায় রক্ষণশীলদের নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হয়েছে। ফলে রায় রিপাবলিকানদের পক্ষে যেতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন যে, তারা হাসপাতালের ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে এসেছে, প্রেসক্রিপশন ওষুধের মূল্য কমিয়েছেন এবং ছোট বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিদের জন্য কম মূল্যে স্বাস্থ্যবিমার বিকল্প হাজির করেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এসব অর্জন ম্লান হয়ে গেছে।

অভিবাসন

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে কাজ করে গেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদেও তা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।

ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার সম্প্রতি বলেছেন, সেন্ট্রাল আমেরিকান সরকারগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শরণার্থী হতে ইচ্ছুকদের ক্ষেত্রে মডেল হিসেবে কাজে লাগানো হবে। এই চুক্তিগুলো শরণার্থী জালিয়াতি, শরণার্থী কেনাবেচার ঠেকাতে সহযোগিতা করবে।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ছিল ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় ৪০০ মাইল দীর্ঘ দেয়ালের নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকবে।

ট্রাম্প যদিও এখন পর্যন্ত তার দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসন পরিকল্পনা বিস্তারিত হাজির করেননি। তবে প্রকাশ্যে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই মার্কিন নাগরিক হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করতে চেষ্টা করবেন।

ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির নেপথ্যে থাকা স্টিফেন মিলার এনবিসি নিউজকে বলেছেন, শরণার্থীদের অনুমোদন সীমিত, ভিসা আবেদন কঠোরভাবে যাচাইয়ের মাধ্যমে তথাকথিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতা বৃদ্ধি, কাজের ভিসাতে নতুন সীমা জারি এবং আশ্রয় দানকারী শহরগুলোতে অভিযান পরিচালনা করাই হবে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের অগ্রাধিকার।

মিলার জানান, এইচ১বি ভিসার কর্মসূচিকে আরও কমিয়ে নিয়ে আসার উদ্যোগ চূড়ান্ত করা হবে। ট্রাম্প পয়েন্ট ভিত্তিক প্রবেশের একটি ব্যবস্থা চান, যেটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা শুধু তাদেরকেই দেওয়া হবে যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সুযোগে অবদান রাখতে পারবেন।

পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রয়েছে তার মূলমন্ত্র ‘আমেরিকা ফার্স্ট’। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই বেশি কিছু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রশাসন।

ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় জয়। ট্রাম্প বলেছেন, আরও কয়েকটি আরব দেশ একই পথে এগিয়ে যাবে। ঐতিহাসিকভাবে আরব দেশগুলো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছিল। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশকে একজোটে নিয়ে আসা।

ট্রাম্প কর্মকর্তারা সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তির মধ্যস্থতা করেছেন। যদিও রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে এখনও আলোচনা করছেন তারা।

ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষার জন্য সংস্থার তহবিলে দেওয়ার অঙ্গীকারকে ট্রাম্প বড় অর্জন বলে দাবি করেন।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ

প্রথম মেয়াদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক বেশ কিছু ইস্যুতে পরিবর্তন আসতে পারে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই। অর্ধ শতাব্দী পুরনো ঐতিহাসিক দূষণ আইনে সুরক্ষা দুর্বল করতে পারেন তিনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে জলাভূমি ও নৌপথে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা প্রত্যাহার। এর ফলে খনি মালিক ও অন্য শিল্প মালিকরা বর্জ্য ফেলতে পারবেন ভঙ্গুর আবাসস্থলে বা ধ্বংস করে দিতে পারেন, ঝড় ও বন্যার প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহারের ফলে বিভিন্ন শহরে পরিচ্ছন্ন খাবার পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার কার্যকর হবে ৪ নভেম্বর। ট্রাম্প এখনও ক্যালিফোর্নিয়া ও পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে দেন দরবার করছেন। এতে সফল হলে ওবামা আমলে আরেকটি উল্লেখযোগ্য জলবায়ু বিষয়ক উদ্যোগ বাতিল হয়ে যাবে।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতিদের প্রাধান্য থাকায় আদালতে ঝুলে থাকা বেশ কিছু জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

শিক্ষা

ট্রাম্প মনে করেন, ভাইরাস সংকট থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি হলো স্কুল-কলেজ পুরোপুরি চালু করা। কিন্তু আমেরিকানরা উদ্বিগ্ন। প্রতি দশজনে এক জন মনে করেন এই শরতে বিধিনিষেধ ছাড়া স্কুল-কলেজ চালু করা যায়।

চার্টার স্কুল ও স্কুল চয়েজ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পক্ষে কথা বলে আসছেন ট্রা্মপ। এছাড়া বেসরকারি স্কুলে বৃত্তি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ভূমিকা রাখবেন তাদেরকে কর সম্মানী দেওয়ার প্রস্তুাব করেছেন তিনি। তার প্রথম মেয়াদে কেন্দ্রীয় সরকার ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ কলে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তহবিল বাড়িয়েছে। কৃষাঙ্গ আমেরিকানদের জন্য ট্রাম্প যা করেছেন সেগুলোর মধ্যে এটিকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়।

ট্রাম্প বরাবরই স্কুল গুলোতে বিপ্লবী বামপন্থায় দীক্ষাকরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশাত্ববোধক শিক্ষার প্রসারে তিনি একটি কমিশন গঠন করবেন। এছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করে না যেসব কলেজ সেগুলোতে কেন্দ্রীয় তহবিল বাতিলের প্রস্তাবও করে আসছেন তিনি।

গর্ভপাত

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার আগে ট্রাম্প নিজেকে গর্ভপাতের অধিকারের সমর্থক হিসেবে দাবি করতেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করতে চেষ্টা করেছেন তিনি। গর্ভপাতবিরোধীরা মনে করছেন, বিচারপতি ব্যারেটের মনোনয়ন তাদের পক্ষে রায়ে সহায়ক হবে। এছাড়া ট্রাম্প গর্ভপাত ঘটানো নারীদের কেন্দ্রীয় তহবিলে পরিচারিত পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকে সেবাদান বন্ধ করেছেন।

সামাজিক সুরক্ষা

করোনাভাইরাস শাটডাউনের আগেই এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৩৫ সালের পর সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মহামারিতে এই সময় আরও এগিয়ে আসবে নিশ্চিতভাবে।

সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা বাতিল না করার প্রতিশ্রুতি রেখেছেন ট্রাম্প। কিন্তু এই গ্রীষ্মে তিনি বিভ্রান্তিকর ইঙ্গিত দিয়েছেন এই কর্মসূচির অর্থায়ন হয় এমন কিছু খাতের কর বাতিলের সাময়িক পরিকল্পনার কথা জানিয়ে। হোয়াইট হাউজের দাবি, সীমিত পদক্ষেপের কোনও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে না।

আগ্নেয়াস্ত্র

কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র আইন নিয়ে এক সময় মজা করেছিলেন ট্রাম্প। দুই বছর আগে ফ্লোরিয়ার পার্কল্যান্ডে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলার পর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অনেক বেশি আতঙ্কিত বলে উল্লেখ করেছিলেন। ২০১৯ সালে ওহাইয়ো ও টেক্সাসে বন্দুক হামলার পর কঠোর জীবনবৃত্তান্ত যাচাই করা সমর্থন করে তিনি। প্রতিটি ঘটনার পর ট্রাম্পের অবস্থান পাল্টেছে।

নির্বাচিন প্রচারে ট্রাম্প দ্বিতীয় সংশোধনী ঊর্ধ্বে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছেন। এই আইনেই মার্কিন নাগরিকদের আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনও ট্রাম্পকে নির্বাচনে সমর্থন জানিয়েছে।

ভেটেরান্স

ট্রাম্প ক্রমাগত ডিপার্টমেন্ট অব ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্সের কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা বলে আসছেন। ২০১৮ সালে পাস হওয়া একটি আইনে ভেটেরান্সরা সরকারি কর্মসূচির বাইরে বেসরকারি চিকিৎসক দেখাতে পারবেন এবং এরপরও সরকারি চিকিৎসাভাতা পাবেন। এই পদক্ষেপটি ওবামা আমলে সাময়িকভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। ট্রাম্প চান, সরকারি কর্মসূচি অসন্তুষ্ট হলে ভেটেরানরা যেনও বেসরকারি খাতে চিকিৎসা নিতে পারে। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি এই লক্ষ্যে অতিরিক্ত বিধি জারি করবেন যাতে বিষয়টি আরও সহজ হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ভেটেরানদের বেকারত্ব ঘুচাতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। গত বছর ভেটেরানদের আত্মহত্যার ঘটনা নজরদারির জন্য ট্রাম্প একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন। জরুরি সেবার মতো ৯৮৮ তিন ডিজিটের হেল্প লাইন চালু করা হবে মানসিক স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতির জন্য। ২০২১ সালের শরতে তা কার্যকর হবে। প্রতি দিন প্রায় ২০ ভেটেরান আত্মহত্যা করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রাম্পের শাসনামলেও এই সংখ্যা অপরিবর্তিত ছিল।

বাণিজ্য

মেক্সিকো ও কানাডা এবং চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তিকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। তার দাবি, চীনের সঙ্গে চুক্তির ফলে দেশটি দুই বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলারের কৃষি, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য কিনবে। দ্বিতীয় দফার বাণিজ্য চুক্তিতে ট্রাম্প চেয়েছিলেন চীন যেনও রাষ্ট্রীয় কোম্পানিতে ভর্তুকি প্রদান বন্ধ রাখে। কিন্তু করোনাভাইরাসকে চীনা ভাইরাস বলে উল্লেখ করা ট্রাম্প বেইজিংয়ের সঙ্গে পুনরায় বাণিজ্য চুক্তি করবেন কিনা এখন অনিশ্চিত। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, চীনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নন তিনি।

মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনে রদবদল

দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টারা তার মন্ত্রিসভার ব্যাপক রদবদলের পরিকল্পনা করছেন। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ও গোয়েন্দা সংস্থায় যাদের মনোভাব আনুগত্যহীন, ধীরগতি ও সমালোচনাকারীদের বাদ দেওয়া হবে।

প্রশাসনে থাকা এমন সব কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়া হবে যিনি প্রেসিডেন্টকে না জানিয়ে কিছু করেছেন, ট্রাম্পের নির্দেশমতো তদন্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বা ভিন্ন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব হাজির করেছেন। সূত্র: এপি, দ্য গার্ডিয়ান, পলিটিকো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: