সর্বশেষ আপডেট : ৯ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচন; চলছে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের খেলা; কে পড়ছেন বিজয়ের মালা


মোহাম্মদ মকিস মনসুর:: আসন্ন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনের আর মাত্র ১ দিন বাকি; দেশে বিদেশে বসবাসকারী সকল মৌলভীবাজার জেলাবাসীর প্রতিটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও জোম মিটিং স্টিমইয়াড এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বা টেলি কমিউনিকেশনে দিনরাত চলছে জল্পনা কল্পনা ; বিশেষ করে সাবেক ছাত্রনেতা রুপমের সাবেক ছাত্রলীগের একটি ম্যাসেইঞ্জার গ্রুপে লন্ডন আমেরিকার কানাডা সহ বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি রাত্রের আড্ডার এখনকার মূল সাবজেক্ট তথা টক অফ দ্যা ভয়েসই হচ্ছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘীরে।

অতি আগ্রহে সবাই বসে থাকেন। নতুন খবরের জন্য ; এর পর চলে আলোচনা ও পর্যালোচনা । কে পড়বেন বিজয়ের মালা চলে নানা সমীকরণ। গত বছরের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার ও টাকার খেলা একটি ফেক্টর হিসাবে দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন আলোচক ও দেশে বিদেশে বসবাসকারী মৌলভীবাজার জেলার অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। সমঝোতা না হওয়ায় মূলত যে সব দূষ্ট চক্র কাজ করেছে তারা প্রাথমিক বিজয় হয়েছে বলে সন্তুুষ্টির আনন্দে পর্দার আড়ালে হাসছেন কেননা ফলাফল যাই হোক এই’ সুযোগে দূষ্ট চক্র উভয় প্রার্থীর টাকা খরছ আর শরীরের ঘাম ঝরাতে সফল হয়েছে।

ভোট আর মূলধন দুটি সমান। এই মূল্যবান সম্পদের মালিক কে হচ্ছেন বা কাহাকে পড়াবেন বিজয়ের মালা তাহা কিন্তুু মৌলভীবাজারের অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের বাস্তবিক পরস্থিতির আলোকে( কিছু দায়িত্বশীলদের দিনে এক পক্ষে বা রাত্রে অন্য পক্ষে ভৃমিকা ছিলো) সেই সব বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সমাজপতিদের গ্রুপ লিডার ও বড় ভাইদের ইশারা বা নিদের্শনা এবং নগদ গরম হাত মিলানোর ওপর নির্ভর করছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। চলছে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের খেলা; কে পড়ছেন বিজয়ের মালা. অধিকাংশ ভোটাররা এখন ও রয়েছেন মধ্যখাণে.তারা মূখ খুলতে নারাজ ; কেউ কেউ আগের দিনের অপেক্ষায় ; কে বেশি করে হাত মিলানোর পারফর্মেন্স দেখাতে পারবেন তার ভিত্তিতে সীদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে বৃটেন আমেরিকা বা প্রবাসী ও দেশের কিছু অতি উৎসাহী সমথর্নরা আবার দোকানে দুটি অভিনন্দন সম্ভলিত ব্যানার বানিয়ে রেখেছেন যিনি বিজয়ের মালা পড়বেন উনার নামেরই পোস্ট যাতে সবার আগে ছাড়া যায় যাতে ফেইসবুক সাহেব রাগ না করেন। যেভাবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সময় ও এক বৃটেন প্রবাসী মৌলভীবাজার জেলার সাবেক ছাত্রনেতা সহ অনেকেই ৫ জনের নামে পোস্টার বানিয়েছিলেন বলে এক দোকানদার এর সূত্রে জানা গেছে। পরে ৪টি বাদ দিয়ে একটিই ফেইসবুকে কর্জে হাসানা হিসাবে পোস্ট করতে দেখা গেছে। এই ধারাবাহিকতায় আজ ও কিছু লোক অপেক্ষায় রয়েছেন ফুল ও মালা নিয়ে কে কাহার আগে পড়াবেন যাতে ফেইসবুকে আগে ছবিটি ছেড়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এর ঘনিষ্ঠ হওয়ার জানান দেওয়া যায়। আরেক সূত্রে জানা যায় বৃটেনের বসবাসকারী মৌলভীবাজার জেলার সাবেক অপর এক ছাত্রনেতা সহ ৫ জন প্রবাসী এক প্রার্থীর জন্য একটি নগদ টাকার খাম পাটিয়েছিলেন তবে তিনি এই খাম ফেরত দিয়ে বলেছেন ওদেরকে বলে দিও মিটিং করবে অন্যজনের আর উপহার পাটাবে আরেকজনের জন্য এই সব ফাইজলামি বন্ধ করা উচিৎ।

যাক এসব মূল কথায় আসা যাক মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান চশমা প্রতীক নিয়ে বিজয়ের মালা পরতে দিন-রাত সমগ্র জেলার একপ্রান্ত থেকে দলের নেতা – কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে অন্যপ্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে অতি নিরবে মাঠে কাজ করছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এম এ রহিম (সিআইপি)।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ রহিমের অন্যতম ক্যাম্পেইনার মুজিবুর রহমান এর অভিযোগ, আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে আমাদের পোস্টার ও বিলবোর্ড ইতিমধ্যে ছিঁড়ে ফেলছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের প্রচার চালাতে দেয়া হচ্ছে না। প্রকাশ্যে টেবিলে ব্যালেট পেপার রেখে ভোট দেয়ার কথা বলছেন ভোটারদের। অন্যতায় ওই ভোটারকে কেন্দ্রে ঢোকতে দেয়া হবে না।তিনি আরও বলেন, এ বিষয়গুলো সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে আমরা অবগত করেছি। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিছবাহুর রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আজমল হোসেন বলেন, টেবিলে রেখে ভোট দিতে হবে এ ধরনের কথা ভোটারদের আমরা কখন ও বলিনি ; আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিশ্বাস করি এবং সেই আলোকেই ভোট হবে। ভোটে শক্তি প্রয়োগ করার কোনো প্রশ্নই উঠে না। ভোটের মাধ্যমেই জয়-পরাজয় নিশ্চিত হবে। আমার বিশ্বাস ভোটারদের সরাসরি ভোটেই মিছবাহুর রহমান বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জয়ী হবেন ইনশাআল্লাহ।
অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হলে জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, উভয় প্রার্থীই পরস্পরের বিরুদ্ধে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের সঙ্গে কেউই কোনো প্রমাণাদি জমা দিতে পারেননি। তবে নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের বিষয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে অভিমত ব্যক্ত করেন।

মৌলভীবাজার জেলার ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৫টি পৌরসভা এবং ৭টি উপজেলার ১৫টি ওয়ার্ডের ১৫ টি কেন্দ্রে মোট ৯’শ ৫৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

২০১৬ সালের ২৮শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে সরকারি দল, বিরোধীদল, স্বতন্ত্র এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে খেলেছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে .মরহুম জননেতা আজিজুর রহমানঃ ৩৪২ ভোট .এম এ শাহীনঃ ২৮৯ ভোট .এম এ রহিম সিআইপিঃ ২৫৩ ভোট .শাহাবুদ্দিন শাবুলঃ ৫৭ ভোট .বকসি ইকবাল আহমেদঃ ৫ ভোট এবং .সুয়েল আহমদঃ ২ ভোট পেয়েছিলেন। বিএনপি বা অন্য কোন বিরোধী দল না থাকায় এবারকার নির্বাচন পুরোটাই ব্যাতিক্রম। বিএনপির ঘরনার ভোট বিরাট ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে আবার আওয়ামী ঘরানার ভোট ব্যাংক বিভক্ত ধারায় প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।
এদিকে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পাটি সমথর্ন ভোটাররা মূখ খুললে ও বিএনপি এবং জামাত সমথর্ন ভোটাররা এখন ও মূখ খুলতে নারাজ। মাঠ পর্যবেক্ষণ করে এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ৬০০ ভোটার এর একটি ধারনায় জানা গেছে চশমার পক্ষে ৩৩৫ থেকে ৩৪০ ভোট আর মোটরসাইকেল এর পক্ষে ২৫৫ থেকে ২৬০ ভোট নানা ভাবে মুটামুটি কনফার্ম ধরা হলে ও বাকী ৩৫৬ বা ৩৪৪ ভোট এখন ও মূখ খুলতে না রাজ। কেউ কেউ আগের দিনের অপেক্ষায় ; কে বেশি করে হাত মিলানোর পারফর্মেন্স দেখাতে পারবেন তার ভিত্তিতে সীদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানা গেছে

সাবিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে নিরব ৩৫৬ বা ৩৪৪ ভোটারদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান চশমা প্রতীক যদি ২০০ ভোট পক্ষে নিতে পারেন তাহলে বিজয় সুনিশ্চিত। আবার এই ভোট থেকে যদি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এম এ রহিম (সিআইপি) মোটরসাইকেল প্রতীকে ৩০০ ভোট উনার পক্ষে আনতে পারেন তাহলে উনার ও বিজয় লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটের সমীকরণে তাই বলে অভিজ্ঞজনরা মনে করছেন। আর তাই চশমার প্রয়োজন ২০০ শত ভোট আর মোটরসাইকেল এর প্রয়োজন ৩০০ শত ভোট। এখন দেখা যাবে ভোটের এই টানাটানির লড়াইয়ে কে ভালো অংক মিলাতে পারেন। আর এর ওপরই নির্ভর করবে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচন কে পড়ছেন বিজয়ের মালা। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০ অক্টোবর এর ফলাফল ঘোষণার।পরিশেষে যিনিই বিজয়ের মালা পড়বেন তিনিই যেনো দয়াকরে মৌলভীবাজার জেলার ২৫ লক্ষ জনগণের প্রাণের দাবি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সহ ১০ দফা দাবীর বাস্তবায়নে যথাযথ ভৃমিকা পালন করবেন এই প্রত্যাশা সহ আগামী দিনের চেয়ারম্যান এর প্রতি রহিলো মৌলভীবাজার জেলাবাসীর পক্ষ থেকে আগাম শুভ কামনা..

লেখক পরিচিতি ; মোহাম্মদ মকিস মনসুর. সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ডেইলি সিলেট এন্ড দৈনিক মৌলভীবাজার মৌমাছি কন্ঠ. চেয়ারম্যান ইউকে বিডি টিভি. সম্পাদক দৈনিক মৌলভীবাজার ডট কম.ও ওয়েলস বাংলা নিউজ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: