সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মসজিদে বিস্ফোরণ: নারায়ণগঞ্জে ঘরে ঘরে কান্নার রোল

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বাইতুল সালাত জামে মসজিদের তিতাস গ্যাসের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ও আহতরা সবাই তল্লা চামারবাড়ি বাইতুল সালাহ জামে মসজিদের আশেপাশের বাসিন্দা। আহত ও নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো তল্লা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসছে। ঘরে ঘরে বইছে শোকের মাতম আর কান্নার রোল। কে কাকে সান্ত্বনা দেবেন সেই ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। স্বাধীনতার পর এক সঙ্গে এতো মানুষের মৃত্যু ও আহত ঘটনা এই প্রথম দেখলো তল্লাবাসী।

বিস্ফোরণে আহত ও নিহতের মধ্যে বেশিরভাগই পরিবারের উপাজনক্ষম ব্যক্তি-গার্মেন্ট কর্মী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেক পরিবার বাকরুদ্ধ। যারা আহত হয়ে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন তাদের অনেকের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য নেই এই চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করার।

বাইতুল সালাহ জামে মসজিদ থেকে প্রায় ৫শ গজ দুরে তল্লা খামারবাড়ি এলাকায় একটি টিনসেড রুম নিয়ে ভাড়া থাকেন ডেকোরেটর কর্মচারী স্বপন মিয়া। তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে মেজ সিফাত। এবার এসএসসি পাস করেছে। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ নিয়ে টাকা জোগাড় করছিলেন এইচএসসিতে ভর্তি হওয়ার জন্য।

শুক্রবার রাতে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে বিস্ফোরণে ঝলসে যায় তার পুরো শরীর। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে ছেলেকে ঢাকা মেডিক্যালে গিয়ে দেখাবে সেই পরিবহন ভাড়াটুকু পর্যন্ত নেই। তাই ঘরে বসেই দোয়া করছেন আর বিলাপ করে কাঁদছেন মা। আর বলছেন হাতে মাত্র ৫০ টাকা আছে। ঘরে চাল নেই যে এক বেলা রান্না করে খাবেন। তিনি বলেন, ছেলেটার কি অবস্থা, টাকার জন্য দেখতে যেতে পারছি না।

কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক স্বজন বিস্ফোরণের আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে সাত বছরের শিশু জোবায়ের। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তার বাবা জুলহাস মিয়া। শুক্রবার রাতে এশার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় মা রহিমা বেগম জোর করেই ছেলেকে বাবার সঙ্গে মসজিদে পাঠান। জোবায়ের শহরের তল্লা জেমস ক্লাব এলাকায় সবুজবাগ মডেল একাডেমির নার্সারির ছাত্র। মা ও বাবা দুইজনেই গার্মেন্টসে কাজ করায় সে গ্রামে বাড়ি বরিশাল সদর থানার রাঙ্গাবালিতে নানা-নানির কাছে ছিল। কিছু দিন আগে এসে স্কুলে ভর্তি হয়। এমনটাই বলছিলেন জোবায়েরের খালা তানজিলা বেগম। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

একই এলাকার ইমাম হোসেন ও আমজাদ হোসেন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে জীবন মুত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। দুজনই আপন ভায়রা ভাই। শ্বশুরবাড়িতে থেকে কাজ করেন দুটি পৃথক গার্মেন্টসে। উপার্জনক্ষম দুজন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে থাকায় মহা চিন্তায় পড়েছেন তাদের শ্বশুর মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, দুই মেয়ের জামাইর চিকিৎসা ব্যয় ভার ও তাদের পরিবারের সসদস্যদের লালনপালন করা ক্ষমতা আমার নেই। আমি একটি কমিউনিটি সেন্টারে ডেকোরেটর শ্রমিকের কাজ করি। করোনার কারণে গত চার মাস ধরে কোনও কাজ নেই। অনেক টানাপোড়নের মধ্যে চলছে সংসার। তার মধ্যেই এই দুর্ঘটনায় আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছে! তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসার ব্যয়সহ পরিবারের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে।

ঘটনার সময় মসজিদের অল্প দূরে ছিলেন বাপ্পিসহ বেশ কয়েকজন। তারা জানান, আটটায় এশার আজান হয়। সোয়া আটটায় জামাত। এর মধ্যে দুইবার বিদ্যুৎ গিয়ে আসে। দ্বিতীয়বার বিদ্যুৎ আসার পরপরই প্রচন্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মাগো বাবাগো চিৎকার শোনা যায়। মসজিদের বাইরে বৃষ্টির পানি জমে ছিল। কয়েকজনকে দেখি মসজিদ থেকে বের হয়ে সেই পানিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে পানি নেভানোর জন্য। তাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশেই চামড়া নেইু। পুড়ে গেছে শরীরের কাপড়। এলাকাবাসী দৌড়ে এসে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ও নগরীর মন্ডলপাড়া এলাকায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপতালে নিয়ে যায়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: