সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

কর্মী সংকটে ছাত্রদল!

দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে না পেরে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে ছাত্রদল। তবে শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি না দেওয়া, ইউনিট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বয়সের পার্থক্য, ছাত্রলীগের হামলা ও বিভিন্ন ঘটনায় মামলাসহ নানা কারণে সংগঠনটির কর্মীর সংখ্যা কমছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে সংগঠনটিতে যেসব কর্মী রয়েছেন, তাদের ধরে রাখতেও নেতারা হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানান কর্মীরা।

সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারলেও হলগুলোতে অবস্থান নেই ছাত্রদলের। ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বছর থেকে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদল কর্মীদের আসা শুরু হয়। তখন থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচিও পালন করছেন তারা। তবে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তারা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

ছাত্রদলে কর্মীদের অবস্থা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন রাকিব বলেন, নতুন কমিটি গঠন হওয়ার পর হল কমিটি নিয়ে কাজ করতে তিন মাস সময় লেগেছে ৷ তখন থেকে আমরা সপ্তাহে পাঁচ দিন মধুর ক্যান্টিনে যাওয়া-আশা শুরু করেছি। ওই সময় ক্যাম্পাসে বেশ ভালোই রিক্রুট করতে পেরেছি। এরপর করোনা চলে আসলো। তারপরও এ সময়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকায় ক্যাম্পাসে যাওয়া হয়েছে। এখন তো ডাকসু নেই। ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মীর কাছ থেকে শুনেছি, এখন ডাকসু না থাকায় ক্যাম্পাসে যেতে বাধা দেবে তারা।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য থাকায় ২০১০ সাল থেকে ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রদলের কোনও নেতাকর্মী থাকতে পারছেন না অভিযোগ করে ঢাবি আহ্বায়ক আরও বলেন, ২০১০ সাল থেকে আমাদের নেতাকর্মীরা হলে থাকতে পারে না। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এ বিষয়ে তিনবার উপাচার্যের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তিনি শুধু আমাদের আশ্বাসই দেন। প্রতিশ্রুতির কোনও বাস্তবায়ন করেননি।

কর্মী কমার মূল কারণ

সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মতে ছাত্রদলের কর্মী কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো হলের নিয়ন্ত্রণ না থাকা। ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো দখলে রাখে। বর্তমান সময়ে হলগুলো ছাত্রলীগের দখলে রয়েছে। অন্য সময় ছাত্রদলের দখলে থাকে।

এ ধারাবাহিকতায় বর্তমানে হলগুলোতে অবস্থান নেই ছাত্রদলের। যে কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে ছাত্রদলকে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে সংগঠনটির। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলে থাকতে শিক্ষার্থীদের ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সদস্য হয়ে থাকতে হয়। ছাত্রদল করলে হল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে অনেকে চাইলেও ছাত্রদল করতে পারে না বলে মনে করছেন সংগঠনটির নেতারা।

শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছাত্রদলের একই অবস্থা। জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে তিন-চারবার হামলার শিকার হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয় ছাত্রদল। এছাড়া, ঢাকা কলেজ এবং তিতুমীর কলেজে সাংগঠনিক কোনও কার্যক্রম নেই তাদের। শুধু সরকারি বাঙলা কলেজে সীমিত আকারে তাদের কার্যক্রম রয়েছে বলে জানা গেছে।

খোকন-শ্যামলের নেতৃত্বে নতুন কৌশল

সংগঠনটির একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় সংসদ হওয়ার পর রাজধানীসহ সারা দেশে নতুন কমিটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। তবে, তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তৃণমূলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। টিমের মাধ্যমে দেশের সব ইউনিটে কমিটি গঠন করার কথা বলছে ছাত্রদল। ইতোমধ্যে পুরো দেশের জন্য ১০টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি হলো ঢাকা টিম-১ এর (ক)। এ টিমের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরে যতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো মনিটরিং করা হবে। আর ঢাকা-১ এর টিম-(খ) ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর কমিটি মনিটরিং করবে। সাংগঠনিক টিমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সারা দেশে ৪০ শতাংশ উপজেলা কমিটি জমা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান না থাকায় দলের কর্মীর সংখ্যা কমছে। এখন যারা আছে, তাদের ধরে রাখতেও বেগ পেতে হচ্ছে। তবে এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সাংগঠনিক তৎপরতা চলছে বলে জানান তিনি।সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: