সর্বশেষ আপডেট : ৫৮ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

১৯ কর্মকর্তার ১৫ জনই দুর্নীতিবাজ

সংস্থাটির অর্গানোগ্রামে চিফ কো-অডিনেটর বলে কোনো পদ নেই। কিন্তু সেখানে এমন একটি পদ সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন ডা. মো. জিয়াউল হক। আবার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে সৃষ্টি করা হয়নি প্রশাসন, উন্নয়ন, পরিকল্পনা, অডিটসহ সংশ্লিষ্ট কোনো বিভাগ।

তদবিরের জোরে যারা সংস্থাটিতে পোস্টিং বাগিয়ে নেন তারা সবাই যুক্ত হন প্রকিউরমেন্ট অর্থাৎ কেনাকাটায়। এমন কিছু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন এ দপ্তরে অবস্থান করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আর তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে মিলেমিশে হাজার কোটি টাকার উপকরণ কিনেছেন। দেশের স্বাস্থ্য খাতের সব ধরনের কেনাকাটার দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসব তথ্য পাওয়া গেছে দেশ।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর কিছুদিন পর এন-৯৫ মাস্কসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হলে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়; চরমভাবে বিব্রত হয় সরকার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এরপরই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ে সিএমএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর।

একটি দায়িত্বশীল সংস্থা তদন্তে নেমে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১৫ জন কর্মকর্তাকে চিহ্নিতও করে। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এসব কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেনাকাটা সংক্রান্ত সব দাপ্তরিক কাগজপত্র চেয়ে সিএমএসডি পরিচালককে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি সব হাসপাতালের সেবাসামগ্রী কেনাকাটা করে থাকে সিএমএসডি। করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ার ফলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটাও বেড়ে যায়। ফলে অনেকটাই আড়ালে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান সিএমএসডি নানা কারণে আলোচনায় আসে। সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থার নজরদারিও বাড়তে থাকে।

সবশেষ এন৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার পর সংস্থাটির সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর গত ২২ মে সিএমএসডির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানকে।

এরপর অন্যসব কর্মকর্তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কেনাকাটার সঙ্গে জড়িত ১৯ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জনই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।

এ তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা হলেন সিএমএসডির চিফ কো-অডিনেটর ডা. মো. জিয়াউল হক, সহকারী পরিচালক (এসঅ্যান্ডসি) ডা. মো. শাহজাহান, সহকারী পরিচালক (সংগ্রহ) ডা. মো. মেজবাহুর রহমান, ডেস্ক অফিসার-১ ডা. মো. আতাউল করিম, ডেস্ক অফিসার-৩ ডা. মো. শামিউল রহমান, ডেস্ক অফিসার-৫ ডা. মো. মনিরুজ্জামান, ডেস্ক-৭ মো. আবদুল মতিন সরকার, স্টোর কর্মকর্তা ডা. মো. সাব্বির রহমান, ডেস্ক অফিসার-১০ মো. হাসিবুল কিবরিয়া, স্টোরকিপার মো. ইউসুফ ফকির, অফিস সহায়ক মো. সোহেল, হিসাব সহকারী মো. জহিরুল হক, হিসাবরক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম, অফিস সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম ও উপপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী মো. রেহানুর রহমান। আর ডেস্ক অফিসার-২ মো. সামসুন্নাহার, ডেস্ক অফিসার-৪ মোছা. মাজেদা বেগম, ডেস্ক অফিসার-৬ ডা. মো. আলী আশরাফ ও ডেস্ক অফিসার মাসুম সাজ্জাদ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয় বলেও উল্লেখ করা হয় দায়িত্বশীল একটি সংস্থার অনুসন্ধান প্রতিবেদনে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিএমএসডির কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টরদের সঙ্গে মিলেমিশে অনিয়মগুলো করে থাকেন। লাইন ডিরেক্টর মো. খোরশেদ আলম তার পছন্দের কিছু কর্মকর্তাকে দিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ দেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা এর আগে দীর্ঘদিন সিএমএসডিতে ছিলেন। ফলে এখানে মালামাল সরবরাহ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। কিছুদিন আগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে উপসচিব পদের সারোয়ার হোসেন নামে এক কর্মকর্তা এখানে এসে যোগ দেন।

যদিও উপসচিব পদের কর্মকর্তাদের সংস্থাটিতে সুনির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই। তিনি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের আশীর্বাদ নিয়ে এখানে এসে কেনাকাটায় যুক্ত হন। ইতিমধ্যে সিএমএসডির ওই ১৫ কর্মকর্তার মধ্যে তিনজনকে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়েও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার কথা হয় সিএমএসডির পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবু হেনা মোরশেদ জামানের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমি এখানে যোগদান করেছি অল্প দিন হয়েছে। দায়িত্ব নিয়ে সততা ও দ্রুততার সঙ্গে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের ও প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সব বিবিবিধান মেনে কাজ শুরু করেছি।

যেহেতু দেশে এখন করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ তাই প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মেনে এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এতটুকু বলতে পারি এ দপ্তরের সব কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা আনতে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখব। সূত্র: দেশ রূপান্তর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: