সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

আমার মনে হয় ১০ মিনিট পানির নিচে ছিলাম

গত সোমবার সকালে বুড়িগঙ্গা নদীতে এমভি ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় এমভি মনিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৩২টি লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘড়ির কাটা যখন রাত ১০.৩০ মিনিট তখন সবাইকে চমকে দিয়ে অলৌকিকভাবে ভেসে উঠেন মো. সুমন (৩২)। এ ঘটনায় চারদিকে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী ডুবুরী দল দ্রুতই তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ভর্তি করে। প্রাথমিক অবস্থায় তার তেমন কোনো গুরুতর সমস্যা পাওয়া যাইনি। তার প্রেশার কিছুটা লো ছিল। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে মেডিসিন বিভাগে রেফার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সকালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগে গিয়ে কথা হয় সুমন বেপারীর সঙ্গে। মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি থানার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত ফজল বেপারীর ছেলে সুমন। ৮ ভাই ১ বোনের মধ্যে সুমন সবার ছোট। পেশায় তিনি একজন ফল ব্যবসায়ী। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন লঞ্চে লঞ্চে ফল বিক্রি করতেন সুমন। প্রতিদিনই মুন্সীগঞ্জ থেকে সকাল বেলা আসতেন, সারা দিন কাজ শেষে আবার লঞ্চে করেই রাতে বাসায় চলে যেতেন। গতকাল সকাল ৭.৪০ মিনিটে প্রতিবেশী মাসুদকে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের কাটপট্টি লঞ্চ ঘাট সদরঘাটের উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠেন সুমন।

লঞ্চডুবির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সুমন জানান, আমি আর মাসুদ লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের সামনে বসে গল্প করছিলাম। এমন সময় একটি শব্দ হয়, কিছু বুঝার আগেই লঞ্চটি ডুবে যায়। এরপরে আমি আর কিছুই বলতে পারি না। ১৩ ঘণ্টা কিভাবে পানির নিচে ছিলাম একমাত্র আল্লাহই ভালো জানে। আমি একটুও জ্ঞান হারাইনি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমি মনে হয় ১০/১৫ মিনিট পানির নিচে ছিলাম। আমি যেখানে ছিলাম ওইখানে একটা ফোমের লাইফ টিউব ছিল। আমি সেটা ধরে ওই খানেই শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম। ওইখানে আমি অজু করেছি। অজু করে দোয়া দরুদ পড়ছিলাম। আমার মনে কাজ করছিল লঞ্চ যদি উঠায় লাইফ টিউব ধরে রাখলে ওইখানেই থাকব। যখন ভেসে উঠি তখন ডুবুরিরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আল্লাহ চাইলে কি না করতে পারে। আমি তো আর সবার মতো মারাও যেতে পারতাম। আল্লাহ চেয়েছে তাই বেঁচে এসেছি। পানি একটু খাইছি কিন্তু প্রস্রাব করার পরে পেট ক্লিয়ার হয়া গেছে।

হাসপাতালে সুমনের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই মনির হোসেন জানান, গতকাল সকালে আমার ভাই এবং এলাকার এক যুবক একসঙ্গে সকাল বেলা ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেয়। পথিমধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটলে মাসুদ কোনো মতে লঞ্চ থেকে জীবিত অবস্থায় কাপড় ছাড়া ভেসে উঠলেও নিখোঁজ থাকে আমার ভাই। এরপরে মাসুদ আমাদের ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানালে আমরা ঘটনাস্থলে আসি।

সারা দিন ঘটনাস্থল আর মর্গে ছোটাছুটি করেও আমার ভাইয়ের কোনো হদিস পাচ্ছিলাম না। হতাশ হয়ে সদরঘাট টার্মিনালে বসেছিলাম। রাত সাড়ে ১০টায় যখন একজনের জীবিত উদ্ধার হওয়ার খবর পাই তখন সবার সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি এটা আমার ভাই। পরে তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া তিনি আমার ভাইকে অলৌকিকভাবে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমার ভাই এখন সুস্থ আছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: