সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সত্যি যু`দ্ধ করতে ইচ্ছে করে


রুদ্র মিজান: নেদারল্যান্ডসের আর্নহ্যামের একটি চিড়িয়াখানায় এক শিম্পাঞ্জি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লো। তার সঙ্গী এসে অসুস্থ শিম্পাঞ্জির চোখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো, তারপর কষ্টে নিজের বুক চাপড়ানো শুরু করলো।

ডাক্তাররা ছুটে এসে মৃত্যুপথযাত্রী শিম্পাঞ্জিকে বাঁচানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। শিম্পাঞ্জিটি ঢলে পড়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গীরা জোরে চিৎকার করে উঠলো। এরপর হঠাৎ পিনপতন নিস্তব্ধতা। বিরাট ওই চিড়িয়াখানার ওই এলাকার কয়েকশ’ প্রাণি কিছু সময়ের জন্য একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেলো। সঙ্গীর আকস্মিক মৃত্যুতে সবাই স্তম্ভিত।

প্রাণির মৃত্যুতে প্রাণিরা শোক প্রকাশ করে। স্তম্ভিত হয়। মানুষও তাই করে। জীব হিসেবে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ। অন্যান্য প্রাণির চেয়ে মানুষ একটু বেশিই আবেগ প্রবণ হবে। কোনো কোনো মৃত্যু মানব জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসবে। মানুষ ইতিবাচক শিক্ষা নেবে। এটাইতো হওয়া উচিত। তারপরও ব্যতিক্রম ঘটে। কোনো কোনো মৃত্যুতে উল্লাস করতে দেখা যায়।

মানুষের মৃত্যুতে মানুষ কিভাবে উল্লাস করে? কি করে সম্ভব এটা? সত্যি বলছি, শত্রুর মৃত্যুতেও কখনও উল্লসিত হতে পারব না। হতে পারিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে যদি আমরা জয়ী না হতাম। যদি বাংলাদেশ স্বাধীন না হতো। সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হতো। অনেকের মৃত্যু হতো। আর যারা তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চাকরি করেও বিদ্রোহ করেছিলেন।

বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন সেই বীর সৈনিকদের নিশ্চিত ফাঁসি হতো। সেই বীর সেনাদের মধ্যে আমার বাবাও একজন। তারপরও কোনো রাজাকারের মৃত্যুতে আমি কখনও উল্লসিত হইনি। আফসোস করেছি, কেন যে মানুষ এতো অন্যায়, অবিচার করে। কেন যে মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে যায়। একটা জীবন কেন যে এভাবে ভুল পথে চলে যায়। কেন যে ধর্ম, বর্ণ, অর্থ নিয়ে মানুষ বৈষ্যমের দেয়াল গড়ে।

একইভাবে আফসোস হয় এখনও। ক্ষমতার জন্য মানুষ কেন যে স্বৈরাচার হয়ে যায়। মানুষের অধিকার হরণ করে? কেন যে অহরহ মিথ্যা বলে। সামান্য স্বার্থের জন্য মিথ্যার বেসাতি করে, দালালি করে। তারপরও কারও মৃত্যুতে উল্লসিত হই না। শুধু মহান প্রভুর কাছে বলি। আল্লাহ, ভগবান, ইশ্বর যাই বলি। তিনিইতো শ্রেষ্ঠ বিচারক। চারদিকে মৃত্যুর মিছিল এ থেকেওতো শিখতে পারি। ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর জীবন।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন। এই দুঃসময়ে মানুষ হতে পারেনি যারা তাদের জন্য খুব বেশি আফসোস হয়। এরমধ্যেও ভালো খবর হচ্ছে, জীবন বাজি রেখে মানুষের পাশে দাঁড়ানো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) আলোচিত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও তার স্ত্রী সুস্থ হয়েছেন। করোনা জয় করে আবারও করোনাক্রান্তদের পাশে তিনি। আবার লাশ দাফন করছেন এই বীর। মৃত্যুকে বীরেরা কখনও ভয় করে না। শ্রদ্ধেয় খোরশেদ বাংলার বীর।

আরেকটা খুশির খবর হচ্ছে, করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়ে হয়েছেন জীবনের শেষ লগ্নে দাঁড়ানো ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। রোগাক্রান্ত হয়েও তিনি বারবার বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষকে স্বল্প ব্যয়ে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ করে দিতে চান তিনি। সেইজন্য বেঁচে থাকতে চান একাত্তরের এই মহান যোদ্ধা। করোনা টেস্টের কীট দিতে চান। যেনো প্রতিটি মানুষ সহজে টেস্ট করাতে পারে। সেই সংগ্রাম করতে করতেই করোনায় আক্রান্ত হন তিনি।

মানুষের দোয়ায় তিনি সুস্থ হয়েছেন। দেশপ্রেমের সঙ্গে, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখেন তিনি। সদ্য করোনা থেকে মুক্ত হয়েও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আজ বনানীতে গিয়েছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। সকালে রাজধানীর বনানীতে মোহাম্মদ নাসিমের দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নিয়ে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এই দুই বীর যোদ্ধার কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। সত্যি যুদ্ধ করতে ইচ্ছে করে। খুব বেশি মানুষ হতে ইচ্ছে করে।

-রুদ্র মিজান, ঢাকা, ১৪ জুন ২০২০

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: