fbpx

সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৫ মে ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com

করোনাকালের খোলা চিঠি

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া রহিতকরণ, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ
ও ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনাসহ ভর্তুকি প্যাকেজ ঘোষণা করুন

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সিলেট চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দ ও সিলেটের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সমীপে-

গতকাল ৮ মে ২০২০ (শুক্রবার) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের সভায় জনস্বার্থে পবিত্র ঈদুল ফিতর পর্যন্ত পুণ্যভূমি সিলেটের শপিংমলসমূহ বন্ধ রাখার যে দূরদর্শী ও যুগান্তকারি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সে জন্য সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

গতকালের সভায় অতীব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এজেন্ডায় ছিল না বলে অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত খবরেই স্পষ্ট হয়েছে।

নেতৃবৃন্দের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে, সিলেট মহানগরীর ব্যবসায়ীদের একটি বিরাট অংশ ব্যবসা থেকে অর্জিত আয় দিয়ে কেবলমাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া, বাসস্থান ভাড়া, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও সন্তাদির লেখাপড়াসহ জীবন নির্বাহের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করে থাকেন। গত ২৫ মার্চ থেকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এ সকল ব্যবসায়ীর আয়ের পথ সম্পূর্ণরূপে রুদ্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু বাসা ভাড়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া (বর্তমানে অনেকে হয়তো নিচ্ছেন না, তবে ব্যবসা খোলার পর দাবি করবেন), কর্মচারি বেতন, সিটি টেক্স, মার্কেট ব্যবস্থাপনা ফি, সন্তানের টিউশন ফি (এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়সহ) দিতে হচ্ছে। অথচ মহানগরীর এ সকল নামিদামি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তহবিলে লক্ষ লক্ষ টাকা পড়ে আছে। প্রতি বৎসর উন্নয়ন ফি’র নামে লক্ষ লক্ষ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ আদায় করা হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিভিন্ন তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের ৫/৬ মাসের টিউশন ফি মওকুফ করতে কি পারে না? শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকেই পরিশোধ করতে পারে। অর্থাৎ এই মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্তরা শুধু দিয়েই যাচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন-মানবতার পরাকাষ্ঠা কি শুধু মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তরাই কাঁদে নিয়ে বেড়াবে?

বাসা-বাড়ির ক্ষেত্রে যেহেতু সরকার বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্দেশ নেই, সেহেতু ভাড়া মওকুফ করা বাড়ি মালিকদের বদান্যতা, যদিও সিলেটে এমন নজির বিরল। যেহেতু বাসা-বাড়িতে ভাড়াটেরা অবস্থান করছেন সেহেতু কেউ জোরগলায় বাসা-বাড়ির ভাড়া মওকুফের দাবি করতে পারছেন না। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়া নেওয়া হয়েছে ব্যবসা করার জন্য। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাসের পর মাস বন্ধ রাখতে ব্যবসায়ীরা বাধ্য থাকেন তাহলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া দিবেন কেন? গাড়ি যদি রাস্তায় বের-ই করা না যায় তাহলে গাড়ির মালিককে ড্রাইভার ভাড়া দিবেন কেন? সেক্ষেত্রে ভাড়া মওকুফ নয়, ভাড়া রহিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

মাননীয় মেয়র, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ,
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কিন্তু সে প্রণোদনা কেবলমাত্র শিল্পপতিদের জন্য। সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য নয়। সাধারণ ব্যবসায়ীরা না বাঁচলে শিল্পপণ্য বাজারজাত করবে কে? অতএব সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনাসহ ভর্তুকি প্যাকেজ ঘোষণা করার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া (এপ্রিল ২০২০ থেকে ব্যবসা চালু না হওয়া পর্যন্ত) সম্পূর্ণ রহিতকরণের জন্য সাধারণ ব্যবসায়ীদের পক্ষে জোর দাবি জানাচ্ছি। তারই সাথে সাথে সিলেট মহানগরীর সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পূর্ণ মওকুফের ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দাবি জানাচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস পুণ্যভূমি সিলেট থেকে যদি দাবিগুলো পূরণ করা হয়, তাহলে সারা বাংলাদেশ তা অনুসরণ করবে এবং দেশের সকল ব্যবসায়ী সাধারণ উপকৃত হবে।

মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান
স্বত্বাধিকারি, গ্রাফিক্স ইউনিভার্সেল
রাজা ম্যানশন (৩য় তলা), জিন্দাবাজার, সিলেট
ও আহবায়ক, ভাটেরিয়ান সিলেট

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: