সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

বড়লেখায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড ডিলারের পেটে, করোনায় মানবেতর জীবনযাপন

  • বিশেষ প্রতিনিধি  

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় করোনা পরিস্থিতিতে সুজানগর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরপারের বাঘমারা, উত্তর বাঘমারা গ্রামের উপকারভোগীদের কার্ড নিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে শুধু চুরি নয়, ডাকাতি করা হয়েছে। হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের ৩০ কেজি করে চাল না দিয়ে আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ডিলার শামসুল হকের বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছর থেকে ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের অন্তত ১০ জন হতদরিদ্রের নাম খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে থাকলেও তারা ১০ টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছেন না। এ কর্মসূচির আওতায় অনেকের নামও রয়েছে কিন্তু চাল পাচ্ছেন না। স্থানীয় চালের ডিলার শামছুল হক ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে হতদরিদ্রদের চাল আত্মসাত করে আসছেন। এমনকি অতিরিক্ত ১০/২০ টাকা হারে অনেক উপকারভোগীর কাছ থেকে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী অনেকেই। ভুক্তভোগীদের কয়েকজন দুইবার চাল উত্তোলন করার পর কার্ডগুলো কাজ আছে বলে রেখে দেন ডিলার। অথচ তালিকায় কয়েকজনের নাম থাকলেও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে গত ২ বছর ধরে চাল আত্মসাত করে আসছেন ডিলার। এর প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা প্রথমে ইউপি সদস্য, সদস্যা ও পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যার মাধ্যমে গত ১৬ এপ্রিল বিষয়টি তদন্ত করেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ২১ এপ্রিল ইউপি চেয়ারম্যান তদন্ত প্রতিবেদনটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে প্রেরণ করেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ৪নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগীরা গত ০৩ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর অনুলিপিও বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি)। তিনি সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসিল্যান্ডের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনটি অধিকতর তদন্তের জন্য আবারও তাকে নির্দেশ দেন।

লিখিত অভিযোগকারী আনোয়ারুন বেগম (কার্ড নং-২৩২), নাসির উদ্দিন (কার্ড নং-২৩৯), রইমুন বেগম (কার্ড নং-৬১) অভিযোগ করেন, আজিমগঞ্জ বাজার ব্যাংক রোড গলিতে শামছুল হক ডিলারের কাছ থেকে আমরা মাত্র দুইবার চাল পেয়েছি। প্রতি কেজি ১০ টাকা মূল্যের চালের ক্ষেত্রে খরচ দেখিয়ে ১০/২০ টাকা না দিলে চাল দিতেন না। তৃতীয়বার চাল নিতে গেলে তিনি আমাদের কার্ডগুলো রেখে দেন। পরে অনেক চেষ্টা করেও কার্ডগুলো আর ফেরত আনা যায়নি। বাধ্য হয়ে আমরা ইউপি সদস্য, সদস্যা, চেয়ারম্যান ও ইউএনও বরাবরে অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু অদ্যাবধি আমরা এর কোনো প্রতিকার পাইনি। তারা বলেন, আমরা আইজ অতো বছর থাকি চাউল ফাইয়ার না। আমরা ইতা বুঝছিও না যে ডিলারে কিতার লাগি ইতা করলা। পরে হুনছি, তাইন আমরার কার্ডের চাউল নিজের মাইনসরে দিরা। আমরা গরিব এর লাগি আমরার দিকে কেউ ফিরিয়াউ চাইন না। বর্তমানে করোনা মহামারীতে আমরা অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

এছাড়াও উত্তর বাঘমারা গ্রামের ভুক্তভোগী তোতামিয়া (কার্ড নং-২৩৭), সেবুল মিয়া (কার্ড নং-২৩৮), নানু মিয়া (কার্ড নং-২৪১) প্রমুখ অভিযোগ করেন, ডিলারের অতিরিক্ত ১০/২০ টাকা না দিলে আমাদের চাল দেয়া হতো না। আমরা গরিব মানুষ তাই ডিলারের চাওয়ামতো টাকা দিয়েই তবে চালগুলো আনতাম। এছাড়া এলাকার আরও কয়েকজন উপকারভোগী টাকা দিয়ে চাল আনতেন বলে জানান। টাকা না দিলে তাদেরকে চাল দেয়া হতো না।

ডিলারের প্রতারণা আর অনিয়মের শিকার হয়ে এসব মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় ২০১৮ সালেই কার্ড জমা নিয়েছেন ডিলার শামসুল হক। ভুক্তভোগীরা কার্ড জমা নেয়ার কারণ জানতে চাইলে ডিলার বলেছেন, অফিস থেকে নাম কেটে দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে ওই তালিকায় নাম আছে বলে জানতে পারেন এসব সুবিধাবঞ্চিতরা। তাই শুরু থেকেই এ পর্যন্ত সব চাল পাওয়ার দাবি করেছেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার শামসুল হক বলেন, আমি এমন ঘটনার সাথে জড়িত নয়। জড়িত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার। আর কার্ড যে কেউ নিয়ে আসুক সেটা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। আমি দেখি, কার্ডে মানুষ আর ছবির মিল। কেউ যদি ছবি পাল্টিয়ে নিয়ে আসে সেটা দেখারও দায়িত্ব আমার নয়।
অভিযোগের বিষয়ে চানতে চাইলে ৪নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্যের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সংরক্ষিত (৪, ৫, ৭ নং ওয়ার্ড) সদস্য মিলন বেগম বলেন, ঘটনার সত্যতা পেয়ে আমি প্রতিবেদন দাখিল করি। এই কঠিন দুর্যোগে এসব গরিব মানুষের কার্ড লুকিয়ে চালগুলো আত্মসাত করা হচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার মিলছে না।

সুজানগর ইউপি চেয়ারম্যান নসিব আলী জানান, সরকার কর্তৃক ভিজিডি চালের এমন অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে তদন্তকালে সত্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু এখনও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা। তিনি বিষয়টি নিয়ে ইউএনও’র সাথে কথা বলতে অনুরোধ করেন।
সরেজমিন তদন্তকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত লায়লা নীরা বলেন, তদন্ত করে প্রতিবেদন ইউএনও বরাবরে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বারবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলার জন্য বলেন।
উপজেলা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম আল ইমরান এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে এসিল্যান্ডকে দিয়ে তদন্ত করাই। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। এখনও প্রতিবেদন হাতে পাইনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুযায়ী ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: